দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ফাইনান্সিং স্কিমে যুক্ত হলো ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ফাইনান্সিং স্কিমে যুক্ত হলো ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি, বাড়ছে বার্ষিক ঋণ সহায়তা

এনআরবিসি ব্যাংকের এমটিওদের ৩ সপ্তাহের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

দেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা ও চিত্র প্রদর্শনী

পিআরআই সতর্কতা: প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয় বাড়ালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে

বাংলাদেশের চা শিল্পে সংকট ও সম্ভাবনা: সমন্বিত উদ্যোগে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ টন রক সল্ট আটকে দেওয়া হলো

ইউরোপের বাজারে আবারও সাতক্ষীরার হিমসাগর আম, চাষি-রপ্তানিকারকদের চোখে নতুন সম্ভাবনা

জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ, সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ, সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল
-ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় একটি স্বস্তির খবর এসেছে। সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি ট্যাংকার জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ দিনের মধ্যে জাহাজটি দেশের উপকূলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের ট্যাংকারটি যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সকাল ৬টার দিকে জাহাজটি রওনা দেয় বলে জানিয়েছেন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত। এই চালানটি দেশে পৌঁছালে আবারও অপরিশোধিত তেল থেকে জ্বালানি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাহাজটি হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই বাংলাদেশে আসছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অনেক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই কারণে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, এই তেল দেশে পৌঁছালে আগামী ৪ বা ৫ মে নাগাদ আবারও পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। উল্লেখ্য, অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারের ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে তেল পরিশোধন কার্যক্রম প্রায় আড়াই মাস ধরে বন্ধ ছিল।

এদিকে একই সময়ে ‘নর্ডিক পোলক্স’ নামের আরও একটি তেলবাহী জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এটি এখনো হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি। ফলে সেটি দেশে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকেও অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মাত্র ৮ শতাংশ জ্বালানি স্থানীয় উৎস থেকে আসে। এই বাস্তবতায় বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা দেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মূলত এই জ্বালানি আমদানির দায়িত্ব পালন করে। প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আনা হয়। এর বড় অংশই ডিজেল এবং অপরিশোধিত তেল। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসে, যা চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। এসব পণ্য দেশের পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাত সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করলে খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। পাশাপাশি একাধিক ধরনের জ্বালানি পণ্য পাওয়া যায়, যা সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির তুলনায় বেশি লাভজনক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব থেকে আসা এই নতুন চালানটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহ উৎস বাড়ানো এবং স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : জ্বালানি সৌদি উদ্যোগ,

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ, সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় একটি স্বস্তির খবর এসেছে। সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি ট্যাংকার জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ দিনের মধ্যে জাহাজটি দেশের উপকূলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের ট্যাংকারটি যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সকাল ৬টার দিকে জাহাজটি রওনা দেয় বলে জানিয়েছেন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত। এই চালানটি দেশে পৌঁছালে আবারও অপরিশোধিত তেল থেকে জ্বালানি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাহাজটি হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই বাংলাদেশে আসছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অনেক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই কারণে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, এই তেল দেশে পৌঁছালে আগামী ৪ বা ৫ মে নাগাদ আবারও পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। উল্লেখ্য, অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগারের ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে তেল পরিশোধন কার্যক্রম প্রায় আড়াই মাস ধরে বন্ধ ছিল।

এদিকে একই সময়ে ‘নর্ডিক পোলক্স’ নামের আরও একটি তেলবাহী জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এটি এখনো হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি। ফলে সেটি দেশে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকেও অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মাত্র ৮ শতাংশ জ্বালানি স্থানীয় উৎস থেকে আসে। এই বাস্তবতায় বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা দেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মূলত এই জ্বালানি আমদানির দায়িত্ব পালন করে। প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আনা হয়। এর বড় অংশই ডিজেল এবং অপরিশোধিত তেল। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসে, যা চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। এসব পণ্য দেশের পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প খাত সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেল আমদানি করে দেশে পরিশোধন করলে খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। পাশাপাশি একাধিক ধরনের জ্বালানি পণ্য পাওয়া যায়, যা সরাসরি পরিশোধিত তেল আমদানির তুলনায় বেশি লাভজনক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব থেকে আসা এই নতুন চালানটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহ উৎস বাড়ানো এবং স্থানীয় সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর