দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এসএসসি ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ, ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তেজনা

এসএসসি ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ, ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তেজনা

১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন: সারাদেশে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ

ভিসি পরিবর্তনের আলোচনায় মাভাবিপ্রবি: জরিপে ৭৬.৫% শিক্ষার্থীর পছন্দ অভ্যন্তরীণ শিক্ষক

জুলাইয়ের শুরুতেই এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রস্তুতির পরামর্শ

নববর্ষের রঙে রঙিন নর্থ সাউথ ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ

গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাস ৩০%, শীর্ষে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী

রাজধানীতে ঢাবি শিক্ষার্থীবাহী বাস দুর্ঘটনা, হাসপাতালে ছুটলেন ডাকসু নেতারা

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় অবলম্বন করলেই ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, যা জানা জরুরি পরীক্ষার্থীদের

এসএসসি ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ, ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তেজনা

এসএসসি ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ, ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তেজনা

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, ২০ হাজার টাকা নিয়ে চার বিষয়ে ফেল করা এক শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হলেও দুই বিষয়ে ফেল করা আরেক শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন একাধিক অভিভাবক। তারা বলেন, একই নিয়মে সবাইকে সুযোগ না দিয়ে বেছে বেছে শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া অন্যায় এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, এতে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে ক্লাস না নিয়ে পিওনের মাধ্যমে পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া এডমিট কার্ড দেওয়ার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিভাবকদের ভাষ্য, এই টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা রসিদ দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আরও একটি অভিযোগ হলো, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে প্রাইভেট পড়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের অনেক সময় সরাসরি বলা হয় প্রাইভেট না পড়লে ভালো ফল করা কঠিন হবে। এতে অনেক গরিব পরিবারের শিক্ষার্থীরা চাপে পড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। আগে থেকেও বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কথা ভাবছেন।

শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত থাকে। সাধারণত নির্ধারিত বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ না হলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই নিয়ম ভেঙে কারও সুযোগ পাওয়া এবং অন্য কেউ বঞ্চিত হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করছে।

এদিকে স্থানীয় শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না থাকলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ে। তাই এমন অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। এতে করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। তবে অভিভাবকরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে এলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


এসএসসি ফরম পূরণে অনিয়মের অভিযোগ, ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নের চর মালগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, ২০ হাজার টাকা নিয়ে চার বিষয়ে ফেল করা এক শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হলেও দুই বিষয়ে ফেল করা আরেক শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পায়নি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন একাধিক অভিভাবক। তারা বলেন, একই নিয়মে সবাইকে সুযোগ না দিয়ে বেছে বেছে শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়া অন্যায় এবং এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। অনেক অভিভাবক মনে করছেন, এতে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।

অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে ক্লাস না নিয়ে পিওনের মাধ্যমে পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে না। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও এমন পরিস্থিতি চলতে থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া এডমিট কার্ড দেওয়ার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিভাবকদের ভাষ্য, এই টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা রসিদ দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আরও একটি অভিযোগ হলো, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে প্রাইভেট পড়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের অনেক সময় সরাসরি বলা হয় প্রাইভেট না পড়লে ভালো ফল করা কঠিন হবে। এতে অনেক গরিব পরিবারের শিক্ষার্থীরা চাপে পড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। আগে থেকেও বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় তারা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কথা ভাবছেন।

শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত থাকে। সাধারণত নির্ধারিত বিষয়গুলোতে উত্তীর্ণ না হলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই নিয়ম ভেঙে কারও সুযোগ পাওয়া এবং অন্য কেউ বঞ্চিত হওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করছে।

এদিকে স্থানীয় শিক্ষাবিদরা বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না থাকলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর পড়ে। তাই এমন অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা জরুরি। এতে করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। তবে অভিভাবকরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে এলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা সবার।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর