দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এক মাসেই দ্বিতীয় দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা

এক মাসেই দ্বিতীয় দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা

এপ্রিল–মে মাসে জ্বালানির পূর্ণ প্রস্তুতি, জুনের মজুতও নিশ্চিতের পথে

ভরা মৌসুমেও সবজি ১০০ টাকার ওপরে, কিছুটা কমেছে সোনালি মুরগির দাম

সাবেক পরিবার পরিকল্পনা পরিচালক মির্জা ফারুকের মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ অভিনেত্রী বন্যা মির্জার পরিবার

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বাড়ল, স্বস্তির ইঙ্গিত অর্থনীতিতে

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৩০ কার্টন সিগারেট জব্দ, দুই যাত্রী আটক

যুদ্ধবিরতির মাঝেও হামলা থামেনি: গাজায় একদিনে প্রাণ গেল ১১ জনের

ডিবি হেফাজতে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী — ভোরে ধানমন্ডি থেকে আটক

এক মাসেই দ্বিতীয় দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা

এক মাসেই দ্বিতীয় দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা
-ছবি: সংগৃহীত

এক মাসেই দ্বিতীয়বার বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা

দেশে আবারও বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই দাম বাড়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের রান্নার খরচে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়েছে ২১২ টাকা।

রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে। নতুন ঘোষণায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর ফলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১ হাজার ৯৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর আগে চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যেই দুই দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজভাড়া ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার কারণেই মাঝমাসে আবারও দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে হিসাব করার সময় এসব খরচ ধরা হয়েছিল ১২০ ডলার। কিন্তু পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০ ডলারে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি এলপিজির দামে পড়েছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী অনেক সময় বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না। এর আগেও যখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন অনেক এলাকায় তা প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে গ্রাহকদের আরও বেশি খরচ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে যেখানে পাইপলাইনের গ্যাস নেই, সেখানে রান্নার প্রধান ভরসা এখন এই সিলিন্ডার গ্যাস। গত কয়েক বছরে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূলত দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি সংস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা বিবেচনায় রেখেই তারা প্রতি মাসে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তবে মাঝমাসে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ানো তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়, তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্থির থাকলে সামনে আরও সমন্বয় আসতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

সব মিলিয়ে এলপিজির নতুন মূল্য সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় কি না, সেটিই হয়ে উঠেছে ভোক্তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


এক মাসেই দ্বিতীয় দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

এক মাসেই দ্বিতীয়বার বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা

দেশে আবারও বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো এই দাম বাড়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের রান্নার খরচে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়েছে ২১২ টাকা।

রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দাম ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে। নতুন ঘোষণায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর ফলে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১ হাজার ৯৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর আগে চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতেই এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যেই দুই দফায় বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজভাড়া ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার কারণেই মাঝমাসে আবারও দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। এপ্রিলের শুরুতে হিসাব করার সময় এসব খরচ ধরা হয়েছিল ১২০ ডলার। কিন্তু পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০ ডলারে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি এলপিজির দামে পড়েছে।

তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী অনেক সময় বাজারে এলপিজি পাওয়া যায় না। এর আগেও যখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন অনেক এলাকায় তা প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফলে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বাস্তবে গ্রাহকদের আরও বেশি খরচ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই এলপিজির ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে যেখানে পাইপলাইনের গ্যাস নেই, সেখানে রান্নার প্রধান ভরসা এখন এই সিলিন্ডার গ্যাস। গত কয়েক বছরে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মূলত দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি সংস্থা। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা বিবেচনায় রেখেই তারা প্রতি মাসে এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তবে মাঝমাসে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ানো তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়, তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অস্থির থাকলে সামনে আরও সমন্বয় আসতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

সব মিলিয়ে এলপিজির নতুন মূল্য সাধারণ মানুষের রান্নার খরচ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় কি না, সেটিই হয়ে উঠেছে ভোক্তাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর