দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাস ৩০%, শীর্ষে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী

গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাস ৩০%, শীর্ষে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী

রাজধানীতে ঢাবি শিক্ষার্থীবাহী বাস দুর্ঘটনা, হাসপাতালে ছুটলেন ডাকসু নেতারা

এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: অসদুপায় অবলম্বন করলেই ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’, যা জানা জরুরি পরীক্ষার্থীদের

গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৩০ শতাংশ, প্রথম তৌকির সিদ্দিক ইশতি

বাবার অনুপস্থিতি: শিশুর মানসিক বিকাশে নীরব প্রভাব

তারাবিসহ রমজানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

চাঁদ দেখা গেছে—বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রমজানের রোজা

৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. সাইফুল ইসলাম

গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাস ৩০%, শীর্ষে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী

গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাস ৩০%, শীর্ষে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী

গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের এ ইউনিট (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ শতাংশ, যা প্রতিযোগিতার কঠিন চিত্রই তুলে ধরেছে।

বুধবার ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মনজুরুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা এখন পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ ইউনিটে মোট আবেদন করেছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ জন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ বা ৩৮ হাজার ৮৮ জন শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেয়েছে।

অন্যদিকে ৩০ নম্বরের নিচে পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৬৯ দশমিক ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী, যার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭৪০ জন। এছাড়া বিভিন্ন কারণে—যেমন বহিষ্কার, রোল বা সেট সংক্রান্ত ত্রুটি এবং শনাক্তকরণ সমস্যার কারণে—১১০ জন পরীক্ষার্থীর ফল বাতিল করা হয়েছে।

এ বছর এ ইউনিটে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে ৮৭। এই নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকার মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তৌকির সিদ্দিকী ইশতি। অন্যদিকে সর্বনিম্ন নম্বর এসেছে মাইনাস ১৪ দশমিক ২৫, যা থেকে বোঝা যায় পরীক্ষাটি ছিল বেশ প্রতিযোগিতামূলক এবং কঠিন।

শিক্ষার্থীরা এখন খুব সহজেই নিজেদের ফলাফল দেখতে পারছে অনলাইনে। গুচ্ছ ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে পিন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই ড্যাশবোর্ডে ‘ফলাফল’ অপশনে ক্লিক করে ফল দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফলাফলের শিট ডাউনলোড বা প্রিন্ট করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাচ্ছে।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ঝামেলা কমাতে কয়েক বছর আগে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। একই পরীক্ষার মাধ্যমে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় এই পদ্ধতি এখন শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে প্রতি বছরই দেখা যায়, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার তুলনামূলক কম থাকে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হয়ে যায়। ফলে পাস করলেও পছন্দের বিভাগ পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের তালিকা তৈরি করা। সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিলে ভর্তির সম্ভাবনা বাড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ফল প্রকাশের এই ধাপ শেষ হলেও ভর্তি প্রক্রিয়ার মূল প্রতিযোগিতা এখনো বাকি রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


গুচ্ছের এ ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাস ৩০%, শীর্ষে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের এ ইউনিট (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩০ শতাংশ, যা প্রতিযোগিতার কঠিন চিত্রই তুলে ধরেছে।

বুধবার ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মনজুরুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান। ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা এখন পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ ইউনিটে মোট আবেদন করেছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ জন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩০ শতাংশ বা ৩৮ হাজার ৮৮ জন শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেয়েছে।

অন্যদিকে ৩০ নম্বরের নিচে পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৬৯ দশমিক ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী, যার সংখ্যা ৮৭ হাজার ৭৪০ জন। এছাড়া বিভিন্ন কারণে—যেমন বহিষ্কার, রোল বা সেট সংক্রান্ত ত্রুটি এবং শনাক্তকরণ সমস্যার কারণে—১১০ জন পরীক্ষার্থীর ফল বাতিল করা হয়েছে।

এ বছর এ ইউনিটে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে ৮৭। এই নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ঢাকার মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তৌকির সিদ্দিকী ইশতি। অন্যদিকে সর্বনিম্ন নম্বর এসেছে মাইনাস ১৪ দশমিক ২৫, যা থেকে বোঝা যায় পরীক্ষাটি ছিল বেশ প্রতিযোগিতামূলক এবং কঠিন।

শিক্ষার্থীরা এখন খুব সহজেই নিজেদের ফলাফল দেখতে পারছে অনলাইনে। গুচ্ছ ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে পিন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই ড্যাশবোর্ডে ‘ফলাফল’ অপশনে ক্লিক করে ফল দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফলাফলের শিট ডাউনলোড বা প্রিন্ট করার সুবিধাও রাখা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাচ্ছে।

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার ঝামেলা কমাতে কয়েক বছর আগে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি চালু করা হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। একই পরীক্ষার মাধ্যমে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় এই পদ্ধতি এখন শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

তবে প্রতি বছরই দেখা যায়, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় পাসের হার তুলনামূলক কম থাকে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় প্রতিযোগিতা অনেক বেশি হয়ে যায়। ফলে পাস করলেও পছন্দের বিভাগ পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের তালিকা তৈরি করা। সঠিক পরিকল্পনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিলে ভর্তির সম্ভাবনা বাড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ফল প্রকাশের এই ধাপ শেষ হলেও ভর্তি প্রক্রিয়ার মূল প্রতিযোগিতা এখনো বাকি রয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর