গাজীপুরে এক সাংবাদিকের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকালে টঙ্গীতে মানববন্ধন করে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বি.কে বাড়ি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু নিজের বাড়ির নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে, বিশেষ করে ডান চোখের নিচে মারাত্মক জখম হয়।
বর্তমানে তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল ১১টায় টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন এবং হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করার পরও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। এমনকি মামলা হওয়ার পরও প্রধান অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সমাবেশ থেকে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়। প্রথমত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে জমি, নির্মাণকাজ ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক সময় এসব অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। অন্যদিকে, সাংবাদিকরা প্রায়ই এসব অনিয়ম তুলে ধরায় তাদের হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়—যা দেশে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চলছে এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান তারা।
সব মিলিয়ে, এই হামলার ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি সমাজে আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক ন্যায়বিচার পান কিনা।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরে এক সাংবাদিকের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকালে টঙ্গীতে মানববন্ধন করে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বি.কে বাড়ি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু নিজের বাড়ির নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে, বিশেষ করে ডান চোখের নিচে মারাত্মক জখম হয়।
বর্তমানে তিনি শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকাল ১১টায় টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন এবং হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করার পরও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। এমনকি মামলা হওয়ার পরও প্রধান অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
সমাবেশ থেকে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়। প্রথমত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে জমি, নির্মাণকাজ ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনেক সময় এসব অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। অন্যদিকে, সাংবাদিকরা প্রায়ই এসব অনিয়ম তুলে ধরায় তাদের হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়—যা দেশে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চলছে এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। তবে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ চান তারা।
সব মিলিয়ে, এই হামলার ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়—এটি সমাজে আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক ন্যায়বিচার পান কিনা।

আপনার মতামত লিখুন