দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভাওয়াল রিসোর্টে রাতভর অভিযান: বিপুল মাদকসহ আটক ৬

ভাওয়াল রিসোর্টে রাতভর অভিযান: বিপুল মাদকসহ আটক ৬

যশোরে চাঁদার দাবিতে যুবককে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত

শাস্তিমূলক নয়, সহায়ক বাজেট চায় ব্যবসায়ীরা

কাঁচামাল না পেয়ে বন্ধ চট্টগ্রামের ডিএপি কারখানা, চাপে সার সরবরাহ

প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা: কার্যকর রূপরেখা তৈরির দাবি বিএমএসএফ সভাপতির

ভারত থেকে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল, এপ্রিলে মোট আসবে ২৫ হাজার টন

সিএনজি চালক থেকে কোটি টাকার মালিক: মদিনায় বসে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে আলোচনায় রবি

সারাদেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ২০

শার্শায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় যুবকের ওপর নৃশংস হামলা

যশোরে চাঁদার দাবিতে যুবককে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত

যশোরে চাঁদার দাবিতে যুবককে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত
-ফাইল ফটো

যশোরের শার্শায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত শরিফুল ইসলাম (৩৮) ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়।

ভিডিও ফুটেজ দেখতে: 


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার পথে শরিফুলকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নেয় একদল ব্যক্তি। পরে তাকে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে তাকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নির্মম নির্যাতন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আতিকুর, মুকুল ও রশিদসহ কয়েকজন মিলে হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরিফুলকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এই ঘটনার পেছনে পুরনো একটি বিরোধের কথা উঠে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুলের চাচা শুকুর আলীর রুপা পাচারের ব্যবসা ছিল এবং সেখানে শরিফুলও কাজ করতেন। একসময় ৯ লাখ টাকার রুপা হারিয়ে গেলে সেই দায় শরিফুলের ওপর চাপানো হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেন।

তবে পরে জানা যায়, ওই রুপা আত্মসাৎ করেছিলেন আতিকুর নামের আরেক ব্যক্তি। এমনকি তিনি নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আতিকুর শরিফুলকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নগদ এবং বাকি ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দেন। কিন্তু চেক ভাঙাতে গিয়ে শরিফুল দেখেন, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তখন থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে।


পরে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শরিফুল আরও কিছু টাকা আদায় করেন বলে জানা যায়। তবে সেই বিরোধই নতুন করে বড় আকার নেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই হামলার ঘটনায় রূপ নেয়।

আহত শরিফুলের বাবা ছাবেদ আলী দাবি করেছেন, পুরনো হিসাব মিটে যাওয়ার পরও নতুন করে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার ছেলেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেনকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই এমন বিরোধের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে স্বর্ণ ও রুপা পাচার ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। এসব ঘটনায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ভয় বা সামাজিক চাপে থানায় অভিযোগ করতে এগিয়ে আসেন না, ফলে অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, প্রকাশ্যে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে এমন নির্যাতন আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।


ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়—এটি এলাকায় বাড়তে থাকা সহিংসতা ও চাঁদাবাজির প্রবণতারই একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে কি না এবং প্রশাসন কত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


যশোরে চাঁদার দাবিতে যুবককে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যশোরের শার্শায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে শরিফুল ইসলাম নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে নৃশংসভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত শরিফুল ইসলাম (৩৮) ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়।

ভিডিও ফুটেজ দেখতে: 


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার পথে শরিফুলকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নেয় একদল ব্যক্তি। পরে তাকে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। সেখানে তাকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নির্মম নির্যাতন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আতিকুর, মুকুল ও রশিদসহ কয়েকজন মিলে হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরিফুলকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এই ঘটনার পেছনে পুরনো একটি বিরোধের কথা উঠে এসেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিফুলের চাচা শুকুর আলীর রুপা পাচারের ব্যবসা ছিল এবং সেখানে শরিফুলও কাজ করতেন। একসময় ৯ লাখ টাকার রুপা হারিয়ে গেলে সেই দায় শরিফুলের ওপর চাপানো হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেন।

তবে পরে জানা যায়, ওই রুপা আত্মসাৎ করেছিলেন আতিকুর নামের আরেক ব্যক্তি। এমনকি তিনি নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আতিকুর শরিফুলকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেন। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নগদ এবং বাকি ৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক দেন। কিন্তু চেক ভাঙাতে গিয়ে শরিফুল দেখেন, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। তখন থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে।


পরে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শরিফুল আরও কিছু টাকা আদায় করেন বলে জানা যায়। তবে সেই বিরোধই নতুন করে বড় আকার নেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই হামলার ঘটনায় রূপ নেয়।

আহত শরিফুলের বাবা ছাবেদ আলী দাবি করেছেন, পুরনো হিসাব মিটে যাওয়ার পরও নতুন করে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার ছেলেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেনকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যেই এমন বিরোধের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে স্বর্ণ ও রুপা পাচার ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে দ্বন্দ্ব, হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন নয়। এসব ঘটনায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ভয় বা সামাজিক চাপে থানায় অভিযোগ করতে এগিয়ে আসেন না, ফলে অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, প্রকাশ্যে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে এমন নির্যাতন আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।


ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়—এটি এলাকায় বাড়তে থাকা সহিংসতা ও চাঁদাবাজির প্রবণতারই একটি চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে কি না এবং প্রশাসন কত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর