মুন্সিগঞ্জের আলোচিত একটি ডাকাতি মামলার আসামি পালিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন র্যাবের জালে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার সদর এলাকার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের দুটি ইউনিট—র্যাব-১১ এবং র্যাব-১৫—সমন্বিতভাবে এই অভিযান চালায়। অভিযান শেষে বিকাল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে হান্নান মিয়া (৪৪) নামে ওই আসামিকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া হান্নান মিয়া কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল মালেক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানায় দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। গত ৬ এপ্রিল দায়ের হওয়া ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়, যা ডাকাতির সময় আঘাত বা বলপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর অপরাধ। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান মিয়া ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, হান্নান মিয়া কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পরই তারা নজরদারি বাড়ান। পরে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং তাকে আটক করা সম্ভব হয়। পুরো অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গ্রেফতারের পর তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব ২০০৪ সালে গঠিত একটি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যারা সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারে তাদের বিশেষ অভিযানের সাফল্যের নজির রয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার একটি পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে এবং অনেক সময় অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্যও এই এলাকা বেছে নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাই এখানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে, যাতে কোনো অপরাধী নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে না পারে।
এই গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অপরাধীরা কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
এই অভিযান দেখিয়ে দিল—দেশের এক প্রান্তে অপরাধ করে অন্য প্রান্তে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন। এখন দেখার বিষয়, মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং অন্য জড়িতদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায় কি না।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মুন্সিগঞ্জের আলোচিত একটি ডাকাতি মামলার আসামি পালিয়ে কক্সবাজারে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছেন র্যাবের জালে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এক যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার সদর এলাকার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের দুটি ইউনিট—র্যাব-১১ এবং র্যাব-১৫—সমন্বিতভাবে এই অভিযান চালায়। অভিযান শেষে বিকাল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে হান্নান মিয়া (৪৪) নামে ওই আসামিকে আটক করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া হান্নান মিয়া কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল মালেক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানায় দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। গত ৬ এপ্রিল দায়ের হওয়া ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়, যা ডাকাতির সময় আঘাত বা বলপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর অপরাধ। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান মিয়া ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, হান্নান মিয়া কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পাওয়ার পরই তারা নজরদারি বাড়ান। পরে সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং তাকে আটক করা সম্ভব হয়। পুরো অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গ্রেফতারের পর তাকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব ২০০৪ সালে গঠিত একটি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যারা সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারে তাদের বিশেষ অভিযানের সাফল্যের নজির রয়েছে।
অন্যদিকে, কক্সবাজার একটি পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে এবং অনেক সময় অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্যও এই এলাকা বেছে নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাই এখানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে, যাতে কোনো অপরাধী নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে না পারে।
এই গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অপরাধীরা কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
এই অভিযান দেখিয়ে দিল—দেশের এক প্রান্তে অপরাধ করে অন্য প্রান্তে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন। এখন দেখার বিষয়, মামলার পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং অন্য জড়িতদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায় কি না।

আপনার মতামত লিখুন