দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়মিত কার্যক্রম। রোববার থেকে নতুন উদ্যমে বিচারকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ। বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসব বেঞ্চের মধ্যে ২৯টি একক বেঞ্চ এবং ৩৪টি যৌথ বেঞ্চ রয়েছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে বিচারকাজ শুরু হওয়ায় আদালতপাড়ায় আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে রাজধানীর আদালত এলাকায় দেখা গেছে স্বাভাবিক ব্যস্ততা। মূলত ঈদুল ফিতর, সরকারি ছুটি এবং আদালতের অবকাশকাল মিলিয়ে গত ১৩ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এই সময়টাকে সাধারণত আদালতের বার্ষিক অবকাশ হিসেবে ধরা হয়। প্রতি বছরই এই অবকাশে বিচারপতিরা গবেষণা, রায় প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সময় পান। এটি বিচার ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তবে পুরো সময় আদালত সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল না। জরুরি মামলাগুলোর নিষ্পত্তির জন্য দুই ধাপে মোট ১২টি হাইকোর্ট বেঞ্চ চালু রাখা হয়েছিল। প্রথম ধাপে গত ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৬টি বেঞ্চ জরুরি বিষয় শুনানির দায়িত্ব পালন করে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ৫ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আরও ৬টি বেঞ্চ একই ধরনের দায়িত্ব পালন করে।
এই বেঞ্চগুলো মূলত জামিন, রিট আবেদন, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং জনস্বার্থে জরুরি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির কাজ করেছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার ঝুঁকি কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রিট মামলার শুনানি এখানেই হয়। তাই নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হওয়া মানে বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
এদিকে দীর্ঘ ছুটির পর আদালত খোলায় এখন মামলার তালিকাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা মামলার শুনানি শুরু হওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যেও কাজের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে—বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এক মাসের বেশি সময় পর হাইকোর্টে নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হওয়ায় বিচারব্যবস্থায় আবারও গতি ফিরেছে। এতে বিচারপ্রার্থী মানুষ যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি আদালতপাড়ায়ও ফিরে এসেছে আগের কর্মচাঞ্চল্য। এখন সবার নজর—এই গতি ধরে রেখে বিচার কার্যক্রম কত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হলো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়মিত কার্যক্রম। রোববার থেকে নতুন উদ্যমে বিচারকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ। বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এসব বেঞ্চের মধ্যে ২৯টি একক বেঞ্চ এবং ৩৪টি যৌথ বেঞ্চ রয়েছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে বিচারকাজ শুরু হওয়ায় আদালতপাড়ায় আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে রাজধানীর আদালত এলাকায় দেখা গেছে স্বাভাবিক ব্যস্ততা। মূলত ঈদুল ফিতর, সরকারি ছুটি এবং আদালতের অবকাশকাল মিলিয়ে গত ১৩ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এই সময়টাকে সাধারণত আদালতের বার্ষিক অবকাশ হিসেবে ধরা হয়। প্রতি বছরই এই অবকাশে বিচারপতিরা গবেষণা, রায় প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কাজের জন্য সময় পান। এটি বিচার ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তবে পুরো সময় আদালত সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল না। জরুরি মামলাগুলোর নিষ্পত্তির জন্য দুই ধাপে মোট ১২টি হাইকোর্ট বেঞ্চ চালু রাখা হয়েছিল। প্রথম ধাপে গত ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ৬টি বেঞ্চ জরুরি বিষয় শুনানির দায়িত্ব পালন করে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ৫ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আরও ৬টি বেঞ্চ একই ধরনের দায়িত্ব পালন করে।
এই বেঞ্চগুলো মূলত জামিন, রিট আবেদন, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং জনস্বার্থে জরুরি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির কাজ করেছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার ঝুঁকি কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিচারব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রিট মামলার শুনানি এখানেই হয়। তাই নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হওয়া মানে বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
এদিকে দীর্ঘ ছুটির পর আদালত খোলায় এখন মামলার তালিকাও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা মামলার শুনানি শুরু হওয়ায় আইনজীবীদের মধ্যেও কাজের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে—বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এক মাসের বেশি সময় পর হাইকোর্টে নিয়মিত বিচারকাজ শুরু হওয়ায় বিচারব্যবস্থায় আবারও গতি ফিরেছে। এতে বিচারপ্রার্থী মানুষ যেমন স্বস্তি পেয়েছেন, তেমনি আদালতপাড়ায়ও ফিরে এসেছে আগের কর্মচাঞ্চল্য। এখন সবার নজর—এই গতি ধরে রেখে বিচার কার্যক্রম কত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন