এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজিইসি) প্লাস অনলাইন সামিটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয় থেকে অনলাইনে সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত, সমন্বিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি রাখে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছেন। এই সহায়তা দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো দেশ একা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। তাই এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সংকটের প্রভাব কমাতে কিছু স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি, বিকল্প উৎস খোঁজা এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ। এসব পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।
এজিইসি প্লাস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। জাপানের উদ্যোগে গঠিত এই প্ল্যাটফর্মটি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এ সম্মেলনে জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর প্রতিনিধিরাও যুক্ত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (AZEC) মূলত ২০২২ সালে জাপানের উদ্যোগে গড়ে ওঠে। এর লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ বিনিয়োগ এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে ধীরে ধীরে শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব এশিয়ার অনেক দেশেই পড়েছে। ফলে এই সম্মেলনে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে এজিইসি প্লাস অনলাইন সামিটে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং এশিয়ার দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ থাকলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে—এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
আপনার মতামত লিখুন