আগামী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের পবিত্র হজ ফ্লাইট। প্রথম ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাত্রা শুরু হবে।
রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন। সেখানে হাজিদের যাত্রাপূর্ব প্রস্তুতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখা হবে। প্রতি বছর হজ মৌসুমে এই হজ ক্যাম্প থেকেই অধিকাংশ হাজির যাত্রা শুরু হয় এবং এখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এসব যাত্রীর জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবাই সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি আশ্বস্ত করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই ফ্লাইট পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং যাত্রীরা যেন নিরাপদে ও সময়মতো পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে প্রথমবারের মতো “নুসুক কার্ড” চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হাজিদের পরিচয় যাচাই ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে করে আগের তুলনায় হজ ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পবিত্র হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার এটি পালন করা ফরজ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সমবেত হন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ এই ইবাদত পালনে অংশ নেন, যা দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় ভ্রমণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত।
সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, হজযাত্রীরা যেন যাত্রাপথে বা সৌদি আরবে অবস্থানের সময় কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য বিমান পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং গাইডলাইন—সব ক্ষেত্রেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হজ এজেন্সিগুলোকেও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া হজ ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে দেশের হজযাত্রীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনা আগের বছরের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
আগামী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের পবিত্র হজ ফ্লাইট। প্রথম ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাত্রা শুরু হবে।
রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতে পারেন। সেখানে হাজিদের যাত্রাপূর্ব প্রস্তুতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে দেখা হবে। প্রতি বছর হজ মৌসুমে এই হজ ক্যাম্প থেকেই অধিকাংশ হাজির যাত্রা শুরু হয় এবং এখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন ইতোমধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে এসব যাত্রীর জন্য বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবাই সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, হজ ফ্লাইটের শিডিউলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি আশ্বস্ত করেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই ফ্লাইট পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং যাত্রীরা যেন নিরাপদে ও সময়মতো পৌঁছাতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে চলতি বছর হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে প্রথমবারের মতো “নুসুক কার্ড” চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হাজিদের পরিচয় যাচাই ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে করে আগের তুলনায় হজ ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পবিত্র হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার এটি পালন করা ফরজ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সমবেত হন। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ এই ইবাদত পালনে অংশ নেন, যা দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় ভ্রমণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত।
সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, হজযাত্রীরা যেন যাত্রাপথে বা সৌদি আরবে অবস্থানের সময় কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে জন্য বিমান পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং গাইডলাইন—সব ক্ষেত্রেই বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হজ এজেন্সিগুলোকেও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া হজ ফ্লাইটকে কেন্দ্র করে দেশের হজযাত্রীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনা আগের বছরের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক হবে।

আপনার মতামত লিখুন