দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নজরদারির পর বড় অভিযান: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক ১৭১ অভিবাসী

নজরদারির পর বড় অভিযান: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক ১৭১ অভিবাসী

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর: সৌদির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ল বৃত্তির কোটা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা

লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডে প্যারেড ও ফেস্টিভ্যাল

বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলসের অভিষেক অনুষ্ঠান

লস এঞ্জেলসে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার পিকনিক

জাললাবাদ এসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া সাধারণ সভা

সাংবাদিক জুয়েল সাদতকে জালালাবাদ এওয়ার্ড প্রদান

নজরদারির পর বড় অভিযান: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক ১৭১ অভিবাসী

নজরদারির পর বড় অভিযান: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক ১৭১ অভিবাসী
-ফাইল ফটো

মালয়েশিয়ার  রাজধানী কুয়ালালামপুর ও জোহর অঞ্চলে পৃথক দুটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১৭১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ভোরবেলা চালানো এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের নারী-পুরুষ ও শিশুদেরও আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়ালালামপুরে চালানো অভিযানের বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সৌপি ওয়ান ইউসুফ জানান, সেখানে মোট ১২৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ ও ৪৪ জন নারী ছিলেন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এই অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক ৬৯ জন। এছাড়া ভারত থেকে ২৫ জন, পাকিস্তান থেকে ১৪ জন, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ জন এবং বাংলাদেশ থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৬৪টি ইউনিটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় প্রায় ৪০০ জনের পরিচয় যাচাই করা হয় এবং তাদের মধ্য থেকেই ১২৫ জনকে আটক করা হয়। মূলত বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং ভিসার সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এর আগের দিন বুধবার রাতে জোহরের উলু তিরম এলাকায় ‘অপস সাপু’ নামে আরেকটি বিশেষ অভিযানে আরও ৪৬ জনকে আটক করা হয়। এই অভিযানে ১৩ জন ইন্দোনেশীয় পুরুষ, ১০ জন নারী, ১২ জন মিয়ানমারের পুরুষ, ৪ জন নারী, ৪ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ১ জন নেপালি নাগরিক এবং ২ জন ইন্দোনেশীয় শিশুকে আটক করা হয়। শিশু দুটির বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে বলে জানানো হয়েছে।

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুসদি মোহাম্মদ দারুস জানান, আটক হওয়া সবাইকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মালয়েশিয়ার প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মালয়েশিয়ায় নিয়মিতভাবেই এ ধরনের অভিযান চালানো হয়। দেশটিতে নির্মাণ, রেস্টুরেন্ট, কারখানা এবং গৃহস্থালি কাজে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। তবে অনেক সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কেউ কেউ থেকে যান, আবার কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এসব কারণে ইমিগ্রেশন বিভাগ সময় সময় বিশেষ অভিযান চালিয়ে থাকে।

বিশেষ করে বড় শহর এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এমন অভিযান বেশি দেখা যায়। অতীতেও কুয়ালালামপুর ও জোহর এলাকায় একাধিকবার একই ধরনের অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছিল। এসব অভিযানের মাধ্যমে সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক এই অভিযান আবারও দেখাল, মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসন রোধে তাদের নজরদারি আরও জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশে অবস্থান করলে যে কোনো সময় এমন ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। তাই বিদেশে কাজ করতে গেলে নিয়ম মেনে থাকা এবং ভিসার মেয়াদ ঠিক রাখা খুবই জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


নজরদারির পর বড় অভিযান: মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক ১৭১ অভিবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ার  রাজধানী কুয়ালালামপুর ও জোহর অঞ্চলে পৃথক দুটি অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ১৭১ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ভোরবেলা চালানো এই অভিযানে বিভিন্ন দেশের নারী-পুরুষ ও শিশুদেরও আটক করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়ালালামপুরে চালানো অভিযানের বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক ওয়ান মোহাম্মদ সৌপি ওয়ান ইউসুফ জানান, সেখানে মোট ১২৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ ও ৪৪ জন নারী ছিলেন। তাদের বয়স ১৬ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এই অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন মিয়ানমারের নাগরিক ৬৯ জন। এছাড়া ভারত থেকে ২৫ জন, পাকিস্তান থেকে ১৪ জন, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ জন এবং বাংলাদেশ থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৬৪টি ইউনিটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় প্রায় ৪০০ জনের পরিচয় যাচাই করা হয় এবং তাদের মধ্য থেকেই ১২৫ জনকে আটক করা হয়। মূলত বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং ভিসার সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে এর আগের দিন বুধবার রাতে জোহরের উলু তিরম এলাকায় ‘অপস সাপু’ নামে আরেকটি বিশেষ অভিযানে আরও ৪৬ জনকে আটক করা হয়। এই অভিযানে ১৩ জন ইন্দোনেশীয় পুরুষ, ১০ জন নারী, ১২ জন মিয়ানমারের পুরুষ, ৪ জন নারী, ৪ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ১ জন নেপালি নাগরিক এবং ২ জন ইন্দোনেশীয় শিশুকে আটক করা হয়। শিশু দুটির বয়স ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে বলে জানানো হয়েছে।

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ রুসদি মোহাম্মদ দারুস জানান, আটক হওয়া সবাইকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের পরিচয় যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মালয়েশিয়ার প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মালয়েশিয়ায় নিয়মিতভাবেই এ ধরনের অভিযান চালানো হয়। দেশটিতে নির্মাণ, রেস্টুরেন্ট, কারখানা এবং গৃহস্থালি কাজে বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। তবে অনেক সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কেউ কেউ থেকে যান, আবার কেউ অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এসব কারণে ইমিগ্রেশন বিভাগ সময় সময় বিশেষ অভিযান চালিয়ে থাকে।

বিশেষ করে বড় শহর এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এমন অভিযান বেশি দেখা যায়। অতীতেও কুয়ালালামপুর ও জোহর এলাকায় একাধিকবার একই ধরনের অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছিল। এসব অভিযানের মাধ্যমে সরকার অভিবাসন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক এই অভিযান আবারও দেখাল, মালয়েশিয়া অবৈধ অভিবাসন রোধে তাদের নজরদারি আরও জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশে অবস্থান করলে যে কোনো সময় এমন ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। তাই বিদেশে কাজ করতে গেলে নিয়ম মেনে থাকা এবং ভিসার মেয়াদ ঠিক রাখা খুবই জরুরি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর