এক দশকের বেশি সময় পর আবারও বগুড়ার মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে—এমন সম্ভাবনার খবরেই নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলো মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতে উত্তরাঞ্চলের দর্শকদের অনেক দূরে গিয়ে খেলা দেখতে হতো। এবার সেই চিত্র বদলাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুধু বগুড়াই নয়, খুলনা ও ফতুল্লার মাঠেও আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলছে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর সেখানে নারী দলের কিছু ম্যাচ হলেও পুরুষদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আর হয়নি। ফলে প্রায় দুই দশক ধরে বড় ক্রিকেট আয়োজন থেকে দূরে রয়েছে এই ঐতিহাসিক ভেন্যুটি। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। মাঠ ঘুরে দেখার পর তারা জানান, স্টেডিয়ামটি আবার আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হচ্ছে। সংস্কারের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং ফ্লাডলাইট উন্নত করা। এছাড়া খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স এবং দর্শক গ্যালারিরও উন্নয়ন করা হবে। এসব কাজ শেষ হলে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। বগুড়ার কাজ শেষ করে বিসিবির প্রতিনিধি দল খুলনার স্টেডিয়ামও পরিদর্শনে যাবে বলে জানা গেছে। শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ভেন্যু ছিল। এখানে টেস্ট, ওয়ানডে এবং বয়সভিত্তিক অনেক বড় ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে পড়ে এই মাঠ। এখন আবার সেটিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল নিজ এলাকার মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার সুযোগ পাওয়া। এতদিন তাদের বেশিরভাগ সময় ঢাকায় গিয়ে ম্যাচ দেখতে হতো, যা সবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে। সব মিলিয়ে, বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার মাঠগুলো আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে ফিরলে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
এক দশকের বেশি সময় পর আবারও বগুড়ার মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে যাচ্ছে—এমন সম্ভাবনার খবরেই নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলো মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতে উত্তরাঞ্চলের দর্শকদের অনেক দূরে গিয়ে খেলা দেখতে হতো। এবার সেই চিত্র বদলাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শুধু বগুড়াই নয়, খুলনা ও ফতুল্লার মাঠেও আবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলছে। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর সেখানে নারী দলের কিছু ম্যাচ হলেও পুরুষদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আর হয়নি। ফলে প্রায় দুই দশক ধরে বড় ক্রিকেট আয়োজন থেকে দূরে রয়েছে এই ঐতিহাসিক ভেন্যুটি। সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। মাঠ ঘুরে দেখার পর তারা জানান, স্টেডিয়ামটি আবার আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনতে সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হচ্ছে। সংস্কারের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে মাঠের ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিক করা এবং ফ্লাডলাইট উন্নত করা। এছাড়া খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স এবং দর্শক গ্যালারিরও উন্নয়ন করা হবে। এসব কাজ শেষ হলে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হলে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। বগুড়ার কাজ শেষ করে বিসিবির প্রতিনিধি দল খুলনার স্টেডিয়ামও পরিদর্শনে যাবে বলে জানা গেছে। শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম একসময় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ভেন্যু ছিল। এখানে টেস্ট, ওয়ানডে এবং বয়সভিত্তিক অনেক বড় ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে পড়ে এই মাঠ। এখন আবার সেটিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল নিজ এলাকার মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখার সুযোগ পাওয়া। এতদিন তাদের বেশিরভাগ সময় ঢাকায় গিয়ে ম্যাচ দেখতে হতো, যা সবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেই অপেক্ষার অবসান হতে পারে। সব মিলিয়ে, বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার মাঠগুলো আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে ফিরলে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন