দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলার

দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা

আবাসন ঋণের অর্থায়নে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহঋণ হবে আরও সহজ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ফাইনান্সিং স্কিমে যুক্ত হলো ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি, বাড়ছে বার্ষিক ঋণ সহায়তা

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ
ছয় মাসে দেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.১ শতাংশ বেশি।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তির খবর দিয়েছে প্রবাসী আয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার

ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের মার্চের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

এপ্রিলে আসে ৩১৩ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

জুনে কিছুটা স্থির ছিল রেমিট্যান্স প্রবাহ। এ মাসে দেশে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের জুনে এসেছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়ে। এ মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা যায় আগস্টে। এ মাসে দেশে আসে ২৯৬ কোটি ডলার। আগের বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য ইতিবাচক।

তার মতে, বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের আশা, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হলে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হতে পারে।

রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া যত সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আগ্রহ তত বাড়তে পারে।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য কম খরচে ও দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অবৈধ হুন্ডি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • মার্চ-আগস্ট ছয় মাসে দেশে এসেছে ১,৮৯৪ কোটি ডলার
  • আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২২০ কোটি ডলার
  • ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ
  • আগস্টে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ২২.৩ শতাংশ
  • বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ চলছে

প্রবাসী আয় বাড়লে এর সুফল শুধু বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অনেক পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ পর্যবেক্ষণ: ছয় মাসের মধ্যে আগস্টে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হওয়া রেমিট্যান্সের গতি বাড়ার একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর খরচ কমানো এবং সেবাকে আরও দ্রুত ও সহজ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিষয় : রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স বাংলাদেশ রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রবাসী আয়ে স্বস্তির ধারা, ছয় মাসে বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তির খবর দিয়েছে প্রবাসী আয়। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার

ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগস্টে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের মার্চের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

এপ্রিলে আসে ৩১৩ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মে মাসে প্রবাসীরা পাঠান ৩৪৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

জুনে কিছুটা স্থির ছিল রেমিট্যান্স প্রবাহ। এ মাসে দেশে আসে ২৮১ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের জুনে এসেছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়ে। এ মাসে দেশে আসে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা যায় আগস্টে। এ মাসে দেশে আসে ২৯৬ কোটি ডলার। আগের বছরের আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য ইতিবাচক।

তার মতে, বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের আশা, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হলে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হতে পারে।

রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের আয় দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া যত সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আগ্রহ তত বাড়তে পারে।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য কম খরচে ও দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অবৈধ হুন্ডি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • মার্চ-আগস্ট ছয় মাসে দেশে এসেছে ১,৮৯৪ কোটি ডলার
  • আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২২০ কোটি ডলার
  • ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ
  • আগস্টে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ২২.৩ শতাংশ
  • বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ চলছে

প্রবাসী আয় বাড়লে এর সুফল শুধু বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অনেক পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ পর্যবেক্ষণ: ছয় মাসের মধ্যে আগস্টে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হওয়া রেমিট্যান্সের গতি বাড়ার একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর খরচ কমানো এবং সেবাকে আরও দ্রুত ও সহজ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর