দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

সব শিক্ষক-কর্মকর্তার তথ্য জিইএমএসে অন্তর্ভুক্তির জরুরি নির্দেশনা

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে যাত্রী-চালক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় চাকরিচ্যুত হওয়া ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে বিজিবিতে পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর মধ্যে ৬ হাজার ২৮৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আরও ২ হাজার ৫১০ জনকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে চাকরি হারান ৮ হাজার ৭৯৬ জন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত সদস্যদের মধ্যে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা করা হয়েছে।

হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরক মামলার বিচারও নিম্ন আদালতে চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান। এ কারণে তাদেরও চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের বিষয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • মোট ৮,৭৯৬ জন বিডিআর সদস্য চাকরি হারিয়েছেন
  • ৬,২৮৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডসহ বরখাস্ত করা হয়েছে
  • ২,৫১০ জনকে পেনশন সুবিধাসহ বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে
  • ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা রয়েছে
  • সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমের কিছু অংশ এখনো চলমান

পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি ঘটনা। এ ঘটনায় চাকরি হারানো সদস্যদের পুনর্বহাল নিয়ে সরকারের অবস্থান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়াও জনস্বার্থে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

বিশেষ পর্যবেক্ষণ: চাকরিতে পুনর্বহালের প্রশ্নটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়—যেসব মামলার বিচার এখনো চলমান, সেগুলোর চূড়ান্ত আইনি অবস্থাও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিষয় : পিলখানা হত্যাকাণ্ড বিডিআর চাকরিচ্যুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিডিআর সদস্য পুনর্বহাল ৮৭৯৬ বিডিআর সদস্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চাকরিচ্যুত ৮,৭৯৬ বিডিআর সদস্যের পুনর্বহালের সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় চাকরিচ্যুত হওয়া ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে বিজিবিতে পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এর মধ্যে ৬ হাজার ২৮৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডসহ চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

আরও ২ হাজার ৫১০ জনকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে চাকরি হারান ৮ হাজার ৭৯৬ জন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুত সদস্যদের মধ্যে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা করা হয়েছে।

হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির আপিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরক মামলার বিচারও নিম্ন আদালতে চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য হত্যা ও বিস্ফোরক মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান। এ কারণে তাদেরও চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সরকার চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের বিষয়ে তাদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • মোট ৮,৭৯৬ জন বিডিআর সদস্য চাকরি হারিয়েছেন
  • ৬,২৮৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডসহ বরখাস্ত করা হয়েছে
  • ২,৫১০ জনকে পেনশন সুবিধাসহ বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে
  • ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা রয়েছে
  • সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রমের কিছু অংশ এখনো চলমান

পিলখানা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি ঘটনা। এ ঘটনায় চাকরি হারানো সদস্যদের পুনর্বহাল নিয়ে সরকারের অবস্থান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চলমান মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়াও জনস্বার্থে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

বিশেষ পর্যবেক্ষণ: চাকরিতে পুনর্বহালের প্রশ্নটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়—যেসব মামলার বিচার এখনো চলমান, সেগুলোর চূড়ান্ত আইনি অবস্থাও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর