চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলোর মধ্যে ২৩টি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত ওসির ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করে তাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতের একই আদেশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর রুজু করতে ওসি কামরুল হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওসির বিরুদ্ধে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা তার সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া ব্যবস্থা আদালতকে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মতলব উত্তর থানায় ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে মামলা রুজুর আবেদন করেন।
এর মধ্যে ২৩টি আবেদন এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন ওসি। সেখানে তিনি নিজেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ওসি তার লিখিত জবাবে স্বীকার করেন যে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এফআইআর রুজুর আবেদনগুলো তিনি পেয়েছিলেন। তবে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এজাহারে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক— এমন যুক্তিও দেন ওসি।
তবে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ এবং চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল। ফলে ঘটনাস্থল ও সময় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি— ওসির এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ওসির ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়, উদাসীন এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলাপূর্ণ। থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল দায়িত্বে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আদালত মন্তব্য করেছেন।
এ কারণেই তাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ও অদক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরি শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় না, এর প্রভাব পড়ে সাধারণ গ্রাহক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপরও। কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করা হলে অপরাধের পেছনের চক্র শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ে। আদালতের এই নির্দেশ তাই থানায় অভিযোগ গ্রহণ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু ট্রান্সফরমার চুরি নয়; বরং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কীভাবে তা গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করছে, সেটিও সামনে এসেছে। বিদ্যুৎ অবকাঠামোর মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ রক্ষায় পুলিশ, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় থাকলে এমন চুরির ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলোর মধ্যে ২৩টি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত ওসির ভূমিকা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করে তাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতের একই আদেশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর রুজু করতে ওসি কামরুল হাসানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওসির বিরুদ্ধে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তা তার সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া ব্যবস্থা আদালতকে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মতলব উত্তর থানায় ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে মামলা রুজুর আবেদন করেন।
এর মধ্যে ২৩টি আবেদন এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ায় ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন ওসি। সেখানে তিনি নিজেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ওসি তার লিখিত জবাবে স্বীকার করেন যে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এফআইআর রুজুর আবেদনগুলো তিনি পেয়েছিলেন। তবে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এজাহারে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক— এমন যুক্তিও দেন ওসি।
তবে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখতে পান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ এবং চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল। ফলে ঘটনাস্থল ও সময় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি— ওসির এমন বক্তব্য সঠিক নয় বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ওসির ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়, উদাসীন এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলাপূর্ণ। থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল দায়িত্বে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আদালত মন্তব্য করেছেন।
এ কারণেই তাকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ও অদক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরি শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় না, এর প্রভাব পড়ে সাধারণ গ্রাহক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপরও। কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করা হলে অপরাধের পেছনের চক্র শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ে। আদালতের এই নির্দেশ তাই থানায় অভিযোগ গ্রহণ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু ট্রান্সফরমার চুরি নয়; বরং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ কীভাবে তা গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করছে, সেটিও সামনে এসেছে। বিদ্যুৎ অবকাঠামোর মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ রক্ষায় পুলিশ, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় থাকলে এমন চুরির ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন