দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

হজ পালনে সৌদি পৌঁছেছেন ৭৩ হাজার ১৮২ বাংলাদেশি, মৃত্যু ১৮ জনের

ওমানে একসঙ্গে নিহত ৪ প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে, বিমানবন্দরে আবেগঘন বক্তব্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৬২,৫২৮ বাংলাদেশি হজযাত্রী, এ পর্যন্ত মৃত্যু ১৭ জন—হজ বুলেটিনে তথ্য

ইরানে গোপন হামলায় সৌদি আরবও জড়িত? মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন তথ্য সামনে

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ অন্তত ১৪ ইন্দোনেশীয়

নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায়, যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যঘেরা ঘটনায় উদ্বেগ

প্রবাসী ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জন্য ২৫ লাখ ক্ষতিপূরণ—হাইকোর্টের রুলে নতুন আলোচনা

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন; শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নয়, টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচের মাধ্যমে তারা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছেন।

এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসের (ইএমজিএস) সিইও নোভি তাজউদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ব্যয়ের প্রভাব মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত

আর বিদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে চীন ও ইন্দোনেশিয়া।

রোববার তেরেংগানুর পানতাই তেলুক কেতাপাংয়ে ‘মালয়েশিয়ান কালচারাল ডিসকভারি কমিউনিটি ইমারশন’ কর্মসূচিতে এসব তথ্য জানান নোভি তাজউদ্দিন।

ইএমজিএসের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করেন।

এই ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা, থাকা-খাওয়া, পরিবহণ এবং বিভিন্ন সেবার খরচ রয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সুফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় ব্যবসা ও সেবাখাতও এর মাধ্যমে লাভবান হয়।

বাংলাদেশ তৃতীয়, শীর্ষে চীন

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো—

  1. চীন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. বাংলাদেশ
  4. ভারত
  5. পাকিস্তান

অর্থাৎ মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্তিশালী।

বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন ইএমজিএসের সিইও।

নোভি তাজউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে

একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষ দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নাম বেশি আসত। এখন সেই তালিকায় মালয়েশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

তেরেংগানুর ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন (ইউনিসজা) এবং ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানুর (ইউএমটি) মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার
  • তাঁদের ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত
  • বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয়
  • গত তিন বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ
  • ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে মালয়েশিয়া।

বিদেশি শিক্ষার্থী আরও বাড়াতে মালয়েশিয়া বড় লক্ষ্য নিয়েছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নোভি তাজউদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এর মানে হলো, ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচার আরও বাড়তে পারে।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেখানে থাকেন, সেখানে বাসা, খাবারের দোকান, পরিবহণ, পোশাক, মোবাইল সেবা এবং নানা ধরনের দৈনন্দিন ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের খরচ জড়িয়ে যায়।

নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর খরচকে শুধু ‘শিক্ষার খরচ’ হিসেবে দেখলে পুরো অর্থনৈতিক চিত্রটি ধরা পড়ে না। একজন শিক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর খরচের টাকা অনেকগুলো স্থানীয় ব্যবসার হাত ঘুরে আবার অর্থনীতিতে ফিরে আসে। তাই বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ করা অনেকটা শিক্ষা খাতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসার জন্যও নতুন ক্রেতা তৈরি করার মতো।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশের তৃতীয় অবস্থান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির উচ্চশিক্ষাবাজারে একটি শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, কোর্সের মান, মোট খরচ, ভিসার নিয়ম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচাই করা জরুরি। শুধু কোনো দেশের জনপ্রিয়তা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, আবার মালয়েশিয়াও বড় একটি শিক্ষার্থী বাজার থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে।

আগামী দিনে মালয়েশিয়া যদি ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিষয় : মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় Malaysia Student Visa Malaysia Higher Education

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নয়, টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচের মাধ্যমে তারা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছেন।

এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসের (ইএমজিএস) সিইও নোভি তাজউদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ব্যয়ের প্রভাব মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত

আর বিদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে চীন ও ইন্দোনেশিয়া।

রোববার তেরেংগানুর পানতাই তেলুক কেতাপাংয়ে ‘মালয়েশিয়ান কালচারাল ডিসকভারি কমিউনিটি ইমারশন’ কর্মসূচিতে এসব তথ্য জানান নোভি তাজউদ্দিন।

ইএমজিএসের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করেন।

এই ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা, থাকা-খাওয়া, পরিবহণ এবং বিভিন্ন সেবার খরচ রয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সুফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় ব্যবসা ও সেবাখাতও এর মাধ্যমে লাভবান হয়।

বাংলাদেশ তৃতীয়, শীর্ষে চীন

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো—

  1. চীন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. বাংলাদেশ
  4. ভারত
  5. পাকিস্তান

অর্থাৎ মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্তিশালী।

বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন ইএমজিএসের সিইও।

নোভি তাজউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে

একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষ দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নাম বেশি আসত। এখন সেই তালিকায় মালয়েশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

তেরেংগানুর ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন (ইউনিসজা) এবং ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানুর (ইউএমটি) মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার
  • তাঁদের ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত
  • বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয়
  • গত তিন বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ
  • ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে মালয়েশিয়া।

বিদেশি শিক্ষার্থী আরও বাড়াতে মালয়েশিয়া বড় লক্ষ্য নিয়েছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নোভি তাজউদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এর মানে হলো, ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচার আরও বাড়তে পারে।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেখানে থাকেন, সেখানে বাসা, খাবারের দোকান, পরিবহণ, পোশাক, মোবাইল সেবা এবং নানা ধরনের দৈনন্দিন ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের খরচ জড়িয়ে যায়।

নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর খরচকে শুধু ‘শিক্ষার খরচ’ হিসেবে দেখলে পুরো অর্থনৈতিক চিত্রটি ধরা পড়ে না। একজন শিক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর খরচের টাকা অনেকগুলো স্থানীয় ব্যবসার হাত ঘুরে আবার অর্থনীতিতে ফিরে আসে। তাই বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ করা অনেকটা শিক্ষা খাতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসার জন্যও নতুন ক্রেতা তৈরি করার মতো।

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশের তৃতীয় অবস্থান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির উচ্চশিক্ষাবাজারে একটি শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, কোর্সের মান, মোট খরচ, ভিসার নিয়ম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচাই করা জরুরি। শুধু কোনো দেশের জনপ্রিয়তা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, আবার মালয়েশিয়াও বড় একটি শিক্ষার্থী বাজার থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে।

আগামী দিনে মালয়েশিয়া যদি ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর