১০০ মিটার দৌড়ে মানুষের গড়া বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও দ্রুত ছুটল একটি হিউম্যানয়েড রোবট। চীনের তৈরি ‘তিয়াংগং আল্ট্রা’ মাত্র ৯.৩৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে চমকে দিয়েছে প্রযুক্তিবিশ্বকে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে প্রাথমিক পর্বের দৌড়ে এই সময় করেছে রোবটটি। তুলনার জন্য, জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের ১০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ড।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—এটি মানুষের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙা নয়; রোবটের দৌড়ের সময়কে বোল্টের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আর দৌড়ের শেষেও রোবটগুলোর চলাফেরায় স্থিতিশীলতার সমস্যা স্পষ্ট হয়েছে।
বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়াংগং আল্ট্রা নিজের হিটে প্রথম হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
দৌড়ের শুরুতে রোবটটি পিছিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে গতি বাড়িয়ে স্মার্টফোন নির্মাতা অনারের তৈরি ‘লাইটনিং’ রোবটকে পেছনে ফেলে দেয়।
লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করে। এই সময়ও বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ডের চেয়ে কম।
তবে দৌড় শেষ হওয়ার পর দুই রোবটের অবস্থাই দেখিয়েছে, শুধু গতি বাড়ালেই মানুষের মতো দৌড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
দৌড় শেষ করার পর তিয়াংগং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের দিকে হেলে পড়ে। দর্শকদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হয়। পরে থামানোর জন্য রাখা মোটা ম্যাটে গিয়ে ধাক্কা খায় রোবটটি।
লাইটনিংও দৌড় শেষে মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্ট্রেচারে করে সেটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অর্থাৎ ১০০ মিটারের সময়ের হিসাবে রোবটগুলো অবিশ্বাস্য উন্নতি করলেও, দৌড়ের পর ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এখনও মানুষের মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।
গত বছরের প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করলে তিয়াংগং আল্ট্রার উন্নতি আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালের প্রথম আসরে একই রোবট ১০০ মিটার দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল।
এবার সময় নেমে এসেছে ৯.৩৯ সেকেন্ডে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই রোবটের ১০০ মিটারের সময় ১২ সেকেন্ডের বেশি কমেছে।
গত বছর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট হাফ-ম্যারাথনেও তিয়াংগং জয় পেয়েছিল।
এবারের হিউম্যানয়েড হাফ-ম্যারাথনে অবশ্য জয় পেয়েছে লাইটনিং। ২১ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের দৌড় শেষ করতে রোবটটির সময় লেগেছে ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড।
প্রতিযোগিতার সময় লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৯৫ সেন্টিমিটার। প্রতিযোগিতার আগে এর পা আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১.০৫ মিটার করা হয় বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় লাইটনিং ১০০ মিটার দৌড়েছিল ৯.৩২ সেকেন্ডে। সে সময় রোবটটির সর্বোচ্চ গতি ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার।
বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে এবার মোট ৫১টি ইভেন্ট রয়েছে। ১০০ মিটার দৌড়ের পাশাপাশি ফুটবল, নাচ এবং বিভিন্ন শিল্প ও কারিগরি কাজের প্রতিযোগিতাও হচ্ছে।
এতে বোঝা যায়, চীন শুধু রোবটকে দ্রুত দৌড় করানোর দিকেই নজর দিচ্ছে না; মানুষের মতো বিভিন্ন কাজ করার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
চীন হিউম্যানয়েড রোবটকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদীয়মান শিল্প হিসেবে দেখছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক হার্ডওয়্যারের উন্নতির মাধ্যমে উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং ভোক্তা পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে রোবটের ব্যবহার বাড়ানো।
রোবট শিল্পে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে চীনের অন্যতম হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা ইউনিট্রি-র শেয়ার সাংহাইয়ে লেনদেন শুরুর দিনে পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস বুধবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। বেইজিংয়ের ন্যাশনাল স্পিড স্কেটিং ওভালে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা রোবট প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: ৯.৩৯ সেকেন্ডের সংখ্যাটি যতটা চমকপ্রদ, রোবটগুলোর দৌড় শেষে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাস্তব জীবনে কোনো রোবটের জন্য শুধু দ্রুত চলা যথেষ্ট নয়—গতি নিয়ন্ত্রণ, ভারসাম্য, নিরাপত্তা এবং মানুষের পাশে কাজ করার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের রোবট প্রতিযোগিতায় তাই ‘কে দ্রুত’ প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কে বেশি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য’—এই প্রশ্নটিও বড় হয়ে উঠতে পারে।
রোবটের এই উন্নতি ভবিষ্যতে শিল্প, পরিবহন, গুদাম ব্যবস্থাপনা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে মানুষের সহায়ক হিসেবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের সঙ্গে রোবটের নিরাপদ সহাবস্থান নিয়েও আলোচনা জরুরি।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
১০০ মিটার দৌড়ে মানুষের গড়া বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও দ্রুত ছুটল একটি হিউম্যানয়েড রোবট। চীনের তৈরি ‘তিয়াংগং আল্ট্রা’ মাত্র ৯.৩৯ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে চমকে দিয়েছে প্রযুক্তিবিশ্বকে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে প্রাথমিক পর্বের দৌড়ে এই সময় করেছে রোবটটি। তুলনার জন্য, জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের ১০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ড ৯.৫৮ সেকেন্ড।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—এটি মানুষের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙা নয়; রোবটের দৌড়ের সময়কে বোল্টের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আর দৌড়ের শেষেও রোবটগুলোর চলাফেরায় স্থিতিশীলতার সমস্যা স্পষ্ট হয়েছে।
বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়াংগং আল্ট্রা নিজের হিটে প্রথম হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
দৌড়ের শুরুতে রোবটটি পিছিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে গতি বাড়িয়ে স্মার্টফোন নির্মাতা অনারের তৈরি ‘লাইটনিং’ রোবটকে পেছনে ফেলে দেয়।
লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার শেষ করে। এই সময়ও বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ডের চেয়ে কম।
তবে দৌড় শেষ হওয়ার পর দুই রোবটের অবস্থাই দেখিয়েছে, শুধু গতি বাড়ালেই মানুষের মতো দৌড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
দৌড় শেষ করার পর তিয়াংগং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের দিকে হেলে পড়ে। দর্শকদের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে হয়। পরে থামানোর জন্য রাখা মোটা ম্যাটে গিয়ে ধাক্কা খায় রোবটটি।
লাইটনিংও দৌড় শেষে মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্ট্রেচারে করে সেটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অর্থাৎ ১০০ মিটারের সময়ের হিসাবে রোবটগুলো অবিশ্বাস্য উন্নতি করলেও, দৌড়ের পর ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এখনও মানুষের মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি।
গত বছরের প্রতিযোগিতার সঙ্গে তুলনা করলে তিয়াংগং আল্ট্রার উন্নতি আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালের প্রথম আসরে একই রোবট ১০০ মিটার দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল।
এবার সময় নেমে এসেছে ৯.৩৯ সেকেন্ডে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই রোবটের ১০০ মিটারের সময় ১২ সেকেন্ডের বেশি কমেছে।
গত বছর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট হাফ-ম্যারাথনেও তিয়াংগং জয় পেয়েছিল।
এবারের হিউম্যানয়েড হাফ-ম্যারাথনে অবশ্য জয় পেয়েছে লাইটনিং। ২১ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের দৌড় শেষ করতে রোবটটির সময় লেগেছে ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড।
প্রতিযোগিতার সময় লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য ছিল ৯৫ সেন্টিমিটার। প্রতিযোগিতার আগে এর পা আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১.০৫ মিটার করা হয় বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় লাইটনিং ১০০ মিটার দৌড়েছিল ৯.৩২ সেকেন্ডে। সে সময় রোবটটির সর্বোচ্চ গতি ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার।
বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে এবার মোট ৫১টি ইভেন্ট রয়েছে। ১০০ মিটার দৌড়ের পাশাপাশি ফুটবল, নাচ এবং বিভিন্ন শিল্প ও কারিগরি কাজের প্রতিযোগিতাও হচ্ছে।
এতে বোঝা যায়, চীন শুধু রোবটকে দ্রুত দৌড় করানোর দিকেই নজর দিচ্ছে না; মানুষের মতো বিভিন্ন কাজ করার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
চীন হিউম্যানয়েড রোবটকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদীয়মান শিল্প হিসেবে দেখছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক হার্ডওয়্যারের উন্নতির মাধ্যমে উৎপাদন, লজিস্টিকস এবং ভোক্তা পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে রোবটের ব্যবহার বাড়ানো।
রোবট শিল্পে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে চীনের অন্যতম হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা ইউনিট্রি-র শেয়ার সাংহাইয়ে লেনদেন শুরুর দিনে পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্ব হিউম্যানয়েড রোবট গেমস বুধবার পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। বেইজিংয়ের ন্যাশনাল স্পিড স্কেটিং ওভালে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা রোবট প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: ৯.৩৯ সেকেন্ডের সংখ্যাটি যতটা চমকপ্রদ, রোবটগুলোর দৌড় শেষে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাস্তব জীবনে কোনো রোবটের জন্য শুধু দ্রুত চলা যথেষ্ট নয়—গতি নিয়ন্ত্রণ, ভারসাম্য, নিরাপত্তা এবং মানুষের পাশে কাজ করার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের রোবট প্রতিযোগিতায় তাই ‘কে দ্রুত’ প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কে বেশি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য’—এই প্রশ্নটিও বড় হয়ে উঠতে পারে।
রোবটের এই উন্নতি ভবিষ্যতে শিল্প, পরিবহন, গুদাম ব্যবস্থাপনা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে মানুষের সহায়ক হিসেবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের সঙ্গে রোবটের নিরাপদ সহাবস্থান নিয়েও আলোচনা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন