দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুসলিম যুবকদের দূরে থাকার আহ্বান কেন?

ডায়মন্ড হারবারে লাইব্রেরিতে বইয়ের বদলে মদের বোতল! কপাটহাটের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান
যুদ্ধের মধ্যেই ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত পাওয়ার দাবি করেছে ইরান।

যুদ্ধের কারণে যখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ঠিক তখনই মিলল বড় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান। দেশটির দাবি, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসের মজুত ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি

ইরানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে এই আবিষ্কার থেকে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা যাবে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হতে সম্ভবত কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন গ্যাসের মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, এটি মিষ্টি প্রাকৃতিক গ্যাস। এতে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ খুবই কম। ফলে অন্যান্য কিছু গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় এর পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় কম হতে পারে।

ইরানের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্যাসের মান ভালো হওয়া এবং উত্তোলনযোগ্য মজুত বড় হওয়া ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইরানের জ্বালানি খাত সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা, তেল ডিপোসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহনপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন বড় গ্যাস মজুতের সন্ধান ইরানের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে। তবে আবিষ্কার হওয়া আর বাজারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। নতুন ক্ষেত্রের উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি এবং উৎপাদন শুরু করতে সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কারের পরপরই ইরানের গ্যাস সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসবে—এমনটা মনে করার সুযোগ নেই।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হতে সম্ভবত কয়েক বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ বর্তমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এই আবিষ্কারকে দেখা ঠিক হবে না।

তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইরানের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • নতুন গ্যাসের মজুত ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি বলে জানিয়েছে ইরান।
  • এর মধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাস উত্তোলনযোগ্য
  • গ্যাসক্ষেত্রটি ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
  • মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি কম হাইড্রোজেন সালফাইডযুক্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক গ্যাস
  • উৎপাদন শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে

ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদধারী দেশ। নতুন এই মজুত ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে।

তবে যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু গ্যাসের মজুত থাকলেই হবে না। গ্যাস উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো দরকার। তাই নতুন আবিষ্কারের অর্থনৈতিক মূল্য অনেকটাই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় এবং ক্ষেত্রটির উন্নয়নে কতটা বিনিয়োগ করা যায় তার ওপর।

নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু গ্যাসের পরিমাণ নয়; বরং যুদ্ধের সময় আবিষ্কৃত একটি বড় মজুত ভবিষ্যতে ইরানের জ্বালানি পরিকল্পনার নতুন ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু মাটির নিচের সম্পদকে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা—দুটিই দরকার।

নতুন গ্যাসের সন্ধানকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এখনই এর কারণে ইরানের জ্বালানি সংকট বা যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ কমে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। উৎপাদন শুরু হওয়ার সময়, অবকাঠামোর অবস্থা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি—সবকিছুই এর বাস্তব প্রভাব নির্ধারণ করবে।

বিষয় : ইরানের নতুন গ্যাসক্ষেত্র ইরান গ্যাসের মজুত ইরান যুদ্ধের খবর ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুদ্ধের কারণে যখন ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত, ঠিক তখনই মিলল বড় প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান। দেশটির দাবি, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসের মজুত ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি

ইরানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে এই নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে এই আবিষ্কার থেকে দ্রুত উৎপাদন শুরু করা যাবে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হতে সম্ভবত কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন গ্যাসের মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, এটি মিষ্টি প্রাকৃতিক গ্যাস। এতে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের পরিমাণ খুবই কম। ফলে অন্যান্য কিছু গ্যাসক্ষেত্রের তুলনায় এর পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয় কম হতে পারে।

ইরানের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্যাসের মান ভালো হওয়া এবং উত্তোলনযোগ্য মজুত বড় হওয়া ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইরানের জ্বালানি খাত সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে। দেশটির গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা, তেল ডিপোসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহনপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে নতুন বড় গ্যাস মজুতের সন্ধান ইরানের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে। তবে আবিষ্কার হওয়া আর বাজারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। নতুন ক্ষেত্রের উন্নয়ন, অবকাঠামো তৈরি এবং উৎপাদন শুরু করতে সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কারের পরপরই ইরানের গ্যাস সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসবে—এমনটা মনে করার সুযোগ নেই।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষেত্র থেকে উৎপাদন শুরু হতে সম্ভবত কয়েক বছর সময় লাগবে। অর্থাৎ বর্তমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এই আবিষ্কারকে দেখা ঠিক হবে না।

তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইরানের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • নতুন গ্যাসের মজুত ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি বলে জানিয়েছে ইরান।
  • এর মধ্যে ১৬০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি গ্যাস উত্তোলনযোগ্য
  • গ্যাসক্ষেত্রটি ফার্স প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
  • মন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি কম হাইড্রোজেন সালফাইডযুক্ত মিষ্টি প্রাকৃতিক গ্যাস
  • উৎপাদন শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে

ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদধারী দেশ। নতুন এই মজুত ভবিষ্যতে দেশটির অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে।

তবে যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু গ্যাসের মজুত থাকলেই হবে না। গ্যাস উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো দরকার। তাই নতুন আবিষ্কারের অর্থনৈতিক মূল্য অনেকটাই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্থিতিশীল হয় এবং ক্ষেত্রটির উন্নয়নে কতটা বিনিয়োগ করা যায় তার ওপর।

নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু গ্যাসের পরিমাণ নয়; বরং যুদ্ধের সময় আবিষ্কৃত একটি বড় মজুত ভবিষ্যতে ইরানের জ্বালানি পরিকল্পনার নতুন ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু মাটির নিচের সম্পদকে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা—দুটিই দরকার।

নতুন গ্যাসের সন্ধানকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এখনই এর কারণে ইরানের জ্বালানি সংকট বা যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ কমে যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না। উৎপাদন শুরু হওয়ার সময়, অবকাঠামোর অবস্থা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি—সবকিছুই এর বাস্তব প্রভাব নির্ধারণ করবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর