মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল ম্যাচের পুরো গল্প। প্রথমে পিছিয়ে পড়া, পরে সমতায় ফেরা, আর শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল—ডেনিস উন্দাভের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি।
শনিবার টরন্টো স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফ্রিকার প্রতিনিধি আইভরি কোস্ট শুরু থেকেই জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসিয়ের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ডেনিস উন্দাভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৬৮তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন তিনি।
এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
খেলা শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই কাই হাভার্টজ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় জার্মানি। জসুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও ফেলিক্স মেচার গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও সাফল্য আসেনি।
বরং ম্যাচের ৩০তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। ইয়ান ডিওমান্ডের পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বলে জালে বল পাঠান ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার ১৬তম গোল এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। ৬০তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় ডেনিস উন্দাভকে। মাত্র আট মিনিট পর নাদিম আমিরির ক্রস থেকে ভলি শটে সমতা ফেরান তিনি।
এরপর ম্যাচ গড়ায় শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আইভরি কোস্ট জয়ের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মূল্য দিতে হয় তাদের।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফেলিক্স মেচারের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জয়ের গোল করেন উন্দাভ। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন জার্মান সমর্থকদের উল্লাস।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতল জার্মানি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর এবারই প্রথম তারা নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল।
গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটির জন্য এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নাগেলসমানের দল এখন শুধু নকআউটে ওঠার নয়, শিরোপার দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।
স্কোরলাইন জার্মানির পক্ষে হলেও ম্যাচের বড় আলোচনার বিষয় আইভরি কোস্টের লড়াই। শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকা দলটি পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে এবং একপর্যায়ে জয়ের খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল।
বিশেষ করে রক্ষণ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার কৌশল এবং মাঝমাঠের লড়াইয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস নজর কেড়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, শেষ মুহূর্তে সুযোগ নষ্ট না হলে ফল ভিন্নও হতে পারত।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, মানসিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দলটি চাপে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে ফেরা দলটির মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, জার্মানির বেঞ্চ শক্তি এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর দেখা যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচেও অবদান রাখা উন্দাভ দ্বিতীয় ম্যাচে নায়ক হয়ে প্রমাণ করলেন যে মূল একাদশের বাইরে থেকেও ম্যাচ বদলে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় তাদের রয়েছে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে যা বড় সুবিধা হতে পারে।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানির এই জয় আবারও সেটাই মনে করিয়ে দিল। যারা খেলা দেখেছেন, তাদের অনেকের কাছেই এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ধৈর্য, কৌশল ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক বাস্তব উদাহরণ। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, নকআউট পর্বে এমন প্রত্যাবর্তন জার্মানিকে আরও ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করতে পারে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় একুয়েডরের মুখোমুখি হবে জার্মানি। একই সময়ে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে আইভরি কোস্ট।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বদলে গেল ম্যাচের পুরো গল্প। প্রথমে পিছিয়ে পড়া, পরে সমতায় ফেরা, আর শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল—ডেনিস উন্দাভের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি।
শনিবার টরন্টো স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফ্রিকার প্রতিনিধি আইভরি কোস্ট শুরু থেকেই জার্মানিকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ফ্রাঙ্ক কেসিয়ের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামা ডেনিস উন্দাভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ৬৮তম মিনিটে সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেন তিনি।
এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
খেলা শুরুর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই কাই হাভার্টজ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় জার্মানি। জসুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও ফেলিক্স মেচার গোলের কাছাকাছি পৌঁছালেও সাফল্য আসেনি।
বরং ম্যাচের ৩০তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। ইয়ান ডিওমান্ডের পাস থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বলে জালে বল পাঠান ফ্রাঙ্ক কেসিয়ে। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তার ১৬তম গোল এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। ৬০তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় ডেনিস উন্দাভকে। মাত্র আট মিনিট পর নাদিম আমিরির ক্রস থেকে ভলি শটে সমতা ফেরান তিনি।
এরপর ম্যাচ গড়ায় শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আইভরি কোস্ট জয়ের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মূল্য দিতে হয় তাদের।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফেলিক্স মেচারের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জয়ের গোল করেন উন্দাভ। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন জার্মান সমর্থকদের উল্লাস।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতল জার্মানি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর এবারই প্রথম তারা নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল।
গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলটির জন্য এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নাগেলসমানের দল এখন শুধু নকআউটে ওঠার নয়, শিরোপার দাবিদার হিসেবেও নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।
স্কোরলাইন জার্মানির পক্ষে হলেও ম্যাচের বড় আলোচনার বিষয় আইভরি কোস্টের লড়াই। শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকা দলটি পুরো ম্যাচজুড়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে এবং একপর্যায়ে জয়ের খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল।
বিশেষ করে রক্ষণ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার কৌশল এবং মাঝমাঠের লড়াইয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস নজর কেড়েছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, শেষ মুহূর্তে সুযোগ নষ্ট না হলে ফল ভিন্নও হতে পারত।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই জয় শুধু তিন পয়েন্টের নয়, মানসিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দলটি চাপে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ জিতে ফেরা দলটির মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, জার্মানির বেঞ্চ শক্তি এবার আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর দেখা যাচ্ছে। প্রথম ম্যাচেও অবদান রাখা উন্দাভ দ্বিতীয় ম্যাচে নায়ক হয়ে প্রমাণ করলেন যে মূল একাদশের বাইরে থেকেও ম্যাচ বদলে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় তাদের রয়েছে। দীর্ঘ টুর্নামেন্টে যা বড় সুবিধা হতে পারে।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে জার্মানির এই জয় আবারও সেটাই মনে করিয়ে দিল। যারা খেলা দেখেছেন, তাদের অনেকের কাছেই এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ধৈর্য, কৌশল ও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক বাস্তব উদাহরণ। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, নকআউট পর্বে এমন প্রত্যাবর্তন জার্মানিকে আরও ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করতে পারে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় একুয়েডরের মুখোমুখি হবে জার্মানি। একই সময়ে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে আইভরি কোস্ট।

আপনার মতামত লিখুন