দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, ৯ লাখ টাকায় পরিবারের সঙ্গে আপস

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, ৯ লাখ টাকায় পরিবারের সঙ্গে আপস

গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ডিবিতে, জিজ্ঞাসাবাদ করবে এমপি ও প্রথম স্ত্রীকে

দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রী সুপর্ণার ২ বছরের কারাদণ্ড

কাদের-নাছিম-আরাফাতসহ ৭ জনের রায় আজ

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রুমিন ফারহানার চিঠি

খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ঝুঁকি দেখছে টিআইবি

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ

২৫ ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ, মামলা না করায় ওসিকে অযোগ্য বলল আদালত

কক্সবাজারে বিজিবির জোড়া অভিযান: ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, তিন নারীসহ আটক ৪

কক্সবাজারে বিজিবির জোড়া অভিযান: ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, তিন নারীসহ আটক ৪
কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক অভিযানে উদ্ধার হওয়া ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও আটক চার ব্যক্তি।

কক্সবাজারে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একদিনেই ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুই অভিযানে তিন নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

রোববার (৭ জুন) সকালে কক্সবাজারের রামু ও রেজুখাল এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক পাচারের নতুন কৌশলেরও সন্ধান পেয়েছে বিজিবি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

অসুস্থতার দাবি, তল্লাশিতে মিলল ইয়াবা

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধীন মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে একটি সন্দেহজনক সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়।


প্রাথমিকভাবে গাড়িতে থাকা তিন নারী নিজেদের অসুস্থ বলে দাবি করেন। তবে আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে নারী সদস্যদের মাধ্যমে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক নারীরা হলেন— জোবায়দা (৪০), তইয়েবা (৪০) ও রাজিমা (৫০)। তারা উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মাদক পরিবহনে নারী ব্যবহার এবং শরীরে লুকিয়ে বহনের কৌশল নতুন নয়, তবে সম্প্রতি এ ধরনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেজুখাল চেকপোস্টে আরও ১০ হাজার ইয়াবা

একই দিনে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর রেজুখাল চেকপোস্টেও পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে সৈয়দ হোসেন (৩৩) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা।

বিজিবি জানিয়েছে, ইয়াবাগুলো অভিনব কৌশলে লুকিয়ে বহন করা হচ্ছিল। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং একটি বাটনফোনও জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্তজুড়ে মাদক পাচারের পুরোনো চ্যালেঞ্জ

কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও বিভিন্ন চক্র নতুন নতুন কৌশলে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাহক গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসার পেছনের মূল নেটওয়ার্ক, অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এ ধরনের অপরাধে অনেক সময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী বলছে বিজিবি?

রামু ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুস সাকীব খান এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পৃথকভাবে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিষয় : বিজিবি অভিযান রোহিঙ্গা ক্যাম্প কক্সবাজার ইয়াবা উদ্ধার মাদক পাচার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


কক্সবাজারে বিজিবির জোড়া অভিযান: ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, তিন নারীসহ আটক ৪

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একদিনেই ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুই অভিযানে তিন নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

রোববার (৭ জুন) সকালে কক্সবাজারের রামু ও রেজুখাল এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক পাচারের নতুন কৌশলেরও সন্ধান পেয়েছে বিজিবি। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

অসুস্থতার দাবি, তল্লাশিতে মিলল ইয়াবা

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধীন মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে একটি সন্দেহজনক সিএনজি অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়।


প্রাথমিকভাবে গাড়িতে থাকা তিন নারী নিজেদের অসুস্থ বলে দাবি করেন। তবে আচরণে সন্দেহ দেখা দিলে নারী সদস্যদের মাধ্যমে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক নারীরা হলেন— জোবায়দা (৪০), তইয়েবা (৪০) ও রাজিমা (৫০)। তারা উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মাদক পরিবহনে নারী ব্যবহার এবং শরীরে লুকিয়ে বহনের কৌশল নতুন নয়, তবে সম্প্রতি এ ধরনের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেজুখাল চেকপোস্টে আরও ১০ হাজার ইয়াবা

একই দিনে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর রেজুখাল চেকপোস্টেও পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করে সৈয়দ হোসেন (৩৩) নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা।

বিজিবি জানিয়েছে, ইয়াবাগুলো অভিনব কৌশলে লুকিয়ে বহন করা হচ্ছিল। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং একটি বাটনফোনও জব্দ করা হয়েছে।

সীমান্তজুড়ে মাদক পাচারের পুরোনো চ্যালেঞ্জ

কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও বিভিন্ন চক্র নতুন নতুন কৌশলে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাহক গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসার পেছনের মূল নেটওয়ার্ক, অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

এ ধরনের অপরাধে অনেক সময় দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কী বলছে বিজিবি?

রামু ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুস সাকীব খান এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম পৃথকভাবে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর