দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক

কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে হাজারো যাত্রী

সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানীতে কড়াকড়ি, অস্ত্র বহন ও সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ

শাহজালাল বিমানবন্দরের কুরিয়ার শেডে আগুন, কনটেইনারের ভেতর থেকেও আগুনের সূত্রপাত দেখেছে কর্তৃপক্ষ

আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার

বাঞ্ছারামপুরে অটোচালক হত্যা: দুই সপ্তাহ পেরোলেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মিরপুরে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নারীর মরদেহ উদ্ধার, কয়েকদিন পর জানাজানি

কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক

কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক
রংপুর যাওয়ার পথে কুড়িগ্রামে পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান বাবা সিদ্দিক শেখ ও ছেলে দুলু মিয়া। -ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের, পলাতক চালককে খুঁজছে পুলিশ

সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন জরুরি কাজে। মোটরসাইকেলে চড়ে রংপুরের পথে ছিলেন বাবা ও ছেলে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো তো দূরের কথা, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে দুজনের জীবনই থেমে গেল সড়কে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মাছবাহী একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা-ছেলে। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত পিকআপটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের কসাইটারী শিমলারতল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতি এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক শেখ এবং তাঁর ছেলে দুলু মিয়া (২৮)।

কয়েক সেকেন্ডেই বদলে গেল সব

পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকালে মোটরসাইকেলে করে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন বাবা ও ছেলে। যাত্রাপথে রাজারহাটের শিমলারতল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন দুজনই। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু

নিহত সিদ্দিক শেখের ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর দুলু মিয়াকে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


অন্যদিকে গুরুতর আহত সিদ্দিক শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না।

দুর্ঘটনার পর উধাও পিকআপ

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর মাছবাহী পিকআপটি থামেনি। বরং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ফলে চালক বা গাড়িটির বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, সড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে প্রায়ই প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

তবে পিকআপ চালকের দায় বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের বক্তব্য

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার শিকার বাবা ও ছেলে পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহন শনাক্তের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কেন থামছে না সড়কে প্রাণহানি?

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক বড় সামাজিক উদ্বেগের নাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা, মহাসড়কে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে অনেক চালকের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, যা কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর মানসিক চাপও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।


সিদ্দিক শেখ ও তাঁর ছেলে দুলুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে এলেও, এমন মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়—সেই প্রত্যাশাই এখন সবার।

বিষয় : বাংলাদেশ সড়ক দুর্ঘটনা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, কুড়িগ্রাম দুর্ঘটনা, বাবা ছেলে নিহত, রাজারহাট সড়ক দুর্ঘটনা,

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


কুড়িগ্রামে পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মৃত্যু, চালক পলাতক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামে পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের, পলাতক চালককে খুঁজছে পুলিশ

সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন জরুরি কাজে। মোটরসাইকেলে চড়ে রংপুরের পথে ছিলেন বাবা ও ছেলে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো তো দূরের কথা, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে দুজনের জীবনই থেমে গেল সড়কে। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মাছবাহী একটি পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা-ছেলে। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত পিকআপটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের কসাইটারী শিমলারতল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সিন্দুরমতি এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক শেখ এবং তাঁর ছেলে দুলু মিয়া (২৮)।

কয়েক সেকেন্ডেই বদলে গেল সব

পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার সকালে মোটরসাইকেলে করে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন বাবা ও ছেলে। যাত্রাপথে রাজারহাটের শিমলারতল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন দুজনই। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তবে শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু

নিহত সিদ্দিক শেখের ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর দুলু মিয়াকে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


অন্যদিকে গুরুতর আহত সিদ্দিক শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না।

দুর্ঘটনার পর উধাও পিকআপ

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর মাছবাহী পিকআপটি থামেনি। বরং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ফলে চালক বা গাড়িটির বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, সড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে প্রায়ই প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

তবে পিকআপ চালকের দায় বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের বক্তব্য

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার শিকার বাবা ও ছেলে পৃথক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত যানবাহন শনাক্তের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

কেন থামছে না সড়কে প্রাণহানি?

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক বড় সামাজিক উদ্বেগের নাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের অসতর্কতা, মহাসড়কে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা এমন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর ফলে অনেক চালকের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, যা কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর মানসিক চাপও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।


সিদ্দিক শেখ ও তাঁর ছেলে দুলুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিই নয়, বরং দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে এলেও, এমন মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারকে দেখতে না হয়—সেই প্রত্যাশাই এখন সবার।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর