যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার পরিচালিত একাধিক অভিযানে বিদেশি মদ, ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং মূল্যবান লাল চন্দন কাঠসহ নানা পণ্য উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে দেশে পণ্য প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট তৎপরতা জোরদার করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিনভর বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে সন্দেহজনক চলাচল নজরদারিতে রাখা হয়।
অভিযান চলাকালে ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩১টি ভারতীয় শাড়ি, ১৭টি থ্রি-পিস, ৪টি ঘড়ি, ২ দশমিক ৫ কেজি জিরা, ২ কেজি কিসমিস, ২৯৪টি সার্জিক্যাল আইটেম, ১০২টি চকলেট এবং ২৭৫টি কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লাল চন্দন কাঠ উদ্ধারের ঘটনা। বিজিবি জানিয়েছে, ৮টি টুকরায় মোট ২৫ দশমিক ৫ কেজি লাল চন্দন কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবে পরিচিত।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা সব পণ্যের মোট মূল্য ২৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারত থেকে পোশাক, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ সামগ্রী অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই ঘটে থাকে।
সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় সীমান্তের কিছু অংশে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে আগের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া লাল চন্দন কাঠ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল চন্দন কাঠ আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত দামি এবং এটি সাধারণত অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা করা হয়।
এই কাঠ প্রসাধনী, আসবাবপত্র ও কিছু বিশেষ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। ফলে আন্তর্জাতিক পাচারচক্র প্রায়ই সীমান্ত ব্যবহার করে এসব পণ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় কিছু চক্র বিভিন্ন বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করে থাকে। যদিও এ ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো চক্রের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানী মালামাল পাচারে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”
তার দাবি, চলমান অভিযানের কারণে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি স্থানীয় সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলো অনেক সময় তরুণদের সহজ আয়ের প্রলোভনে জড়িয়ে ফেলে, যা ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে বিদেশি মদ ও মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবেশ সমাজে নানা ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যুবসমাজ এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, সীমান্ত এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমেও চোরাচালান কমানো সম্ভব।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের উৎস এবং সম্ভাব্য পাচারচক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার পরিচালিত একাধিক অভিযানে বিদেশি মদ, ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, সার্জিক্যাল সামগ্রী এবং মূল্যবান লাল চন্দন কাঠসহ নানা পণ্য উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে দেশে পণ্য প্রবেশের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট তৎপরতা জোরদার করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিনভর বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে সন্দেহজনক চলাচল নজরদারিতে রাখা হয়।
অভিযান চলাকালে ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩১টি ভারতীয় শাড়ি, ১৭টি থ্রি-পিস, ৪টি ঘড়ি, ২ দশমিক ৫ কেজি জিরা, ২ কেজি কিসমিস, ২৯৪টি সার্জিক্যাল আইটেম, ১০২টি চকলেট এবং ২৭৫টি কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লাল চন্দন কাঠ উদ্ধারের ঘটনা। বিজিবি জানিয়েছে, ৮টি টুকরায় মোট ২৫ দশমিক ৫ কেজি লাল চন্দন কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবে পরিচিত।
বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা সব পণ্যের মোট মূল্য ২৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারত থেকে পোশাক, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ সামগ্রী অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই ঘটে থাকে।
সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় সীমান্তের কিছু অংশে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে আগের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে তারা মনে করছেন।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া লাল চন্দন কাঠ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল চন্দন কাঠ আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত দামি এবং এটি সাধারণত অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা করা হয়।
এই কাঠ প্রসাধনী, আসবাবপত্র ও কিছু বিশেষ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। ফলে আন্তর্জাতিক পাচারচক্র প্রায়ই সীমান্ত ব্যবহার করে এসব পণ্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় কিছু চক্র বিভিন্ন বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করে থাকে। যদিও এ ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনো চক্রের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানী মালামাল পাচারে জড়িত চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”
তার দাবি, চলমান অভিযানের কারণে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন অনেকাংশে কমে এসেছে। তবে পাচারকারীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি স্থানীয় সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলো অনেক সময় তরুণদের সহজ আয়ের প্রলোভনে জড়িয়ে ফেলে, যা ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে বিদেশি মদ ও মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবেশ সমাজে নানা ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যুবসমাজ এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, সীমান্ত এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমেও চোরাচালান কমানো সম্ভব।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের উৎস এবং সম্ভাব্য পাচারচক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন