নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী–এর বিরুদ্ধে থাকা আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলাতেই জামিন কার্যকর থাকায় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনে ‘নো অর্ডার’ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল। আদালতের এই আদেশের পর আইভীর পক্ষে থাকা আইনজীবীরা বলছেন, তাঁর মুক্তির পথ এখন কার্যত পরিষ্কার।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি হত্যা মামলায় আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আইভী। পরে সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই আবেদনে কোনো আদেশ না দেওয়ায় হাইকোর্টের জামিন আদেশই বহাল থাকছে।
আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, এর আগে আরও ১০টি মামলায় আপিল বিভাগ জামিন বহাল রেখেছিলেন। সর্বশেষ দুটি মামলাতেও একই অবস্থা থাকায় এখন আর কোনো মামলায় জামিন বাকি নেই।
তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আইভীর মুক্তিতে বর্তমানে আইনি বাধা নেই। কারাগার কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে দ্রুতই তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা আইভী নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। টানা কয়েক দফা মেয়রের দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রীকে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পর্যায়ক্রমে ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগও রয়েছে। তবে আইভীপক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়নি।
সর্বশেষ যে দুটি হত্যা মামলায় জামিন বহাল হয়েছে, তার একটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন। মামলাগুলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে এক মামলায় গত ২ মার্চ এবং অন্য মামলায় ১২ এপ্রিল আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানা গেছে।
রোববারের শুনানিকে ঘিরে আইনজীবী মহল ও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কারণ, এই দুই মামলার জামিন স্থগিত হলে আইভীর কারামুক্তি আরও দীর্ঘ হতে পারত।
তবে আদালতের আদেশের পর তাঁর সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। আদালত চত্বরে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর এই দুটি মামলা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই মুক্তির বিষয়টি এগোবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
আইভীর জামিন বহাল থাকার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেত্রী কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর সমর্থক ও বিরোধী—দুই পক্ষই সক্রিয় ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ঘটনা দেশে নতুন নয়। তবে আদালতের মাধ্যমে জামিন ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকায় রাজনৈতিক পরিবেশও অনেক সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সমর্থক-সমালোচকদের মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক।
তারা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যায় না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মামলাগুলো নিয়ে জনমনে বাড়তি আগ্রহও তৈরি হয়।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইভীর বিরুদ্ধে বর্তমানে যেসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, সেগুলোর সবকটিতেই জামিন কার্যকর রয়েছে। এখন আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছানো ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আলাদাভাবে চলবে। তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি।
এদিকে আইভীর মুক্তিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী–এর বিরুদ্ধে থাকা আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সব মামলাতেই জামিন কার্যকর থাকায় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি জটিলতা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রোববার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনে ‘নো অর্ডার’ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিল। আদালতের এই আদেশের পর আইভীর পক্ষে থাকা আইনজীবীরা বলছেন, তাঁর মুক্তির পথ এখন কার্যত পরিষ্কার।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি হত্যা মামলায় আগে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আইভী। পরে সেই জামিন স্থগিতের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ওই আবেদনে কোনো আদেশ না দেওয়ায় হাইকোর্টের জামিন আদেশই বহাল থাকছে।
আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, এর আগে আরও ১০টি মামলায় আপিল বিভাগ জামিন বহাল রেখেছিলেন। সর্বশেষ দুটি মামলাতেও একই অবস্থা থাকায় এখন আর কোনো মামলায় জামিন বাকি নেই।
তিনি আরও বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আইভীর মুক্তিতে বর্তমানে আইনি বাধা নেই। কারাগার কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে দ্রুতই তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা আইভী নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। টানা কয়েক দফা মেয়রের দায়িত্ব পালন করা এই নেত্রীকে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পর্যায়ক্রমে ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগও রয়েছে। তবে আইভীপক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়নি।
সর্বশেষ যে দুটি হত্যা মামলায় জামিন বহাল হয়েছে, তার একটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন। মামলাগুলো সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে এক মামলায় গত ২ মার্চ এবং অন্য মামলায় ১২ এপ্রিল আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানা গেছে।
রোববারের শুনানিকে ঘিরে আইনজীবী মহল ও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কারণ, এই দুই মামলার জামিন স্থগিত হলে আইভীর কারামুক্তি আরও দীর্ঘ হতে পারত।
তবে আদালতের আদেশের পর তাঁর সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। আদালত চত্বরে উপস্থিত কয়েকজন আইনজীবী বলেন, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর এই দুটি মামলা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই মুক্তির বিষয়টি এগোবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
আইভীর জামিন বহাল থাকার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেত্রী কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর সমর্থক ও বিরোধী—দুই পক্ষই সক্রিয় ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ঘটনা দেশে নতুন নয়। তবে আদালতের মাধ্যমে জামিন ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকায় রাজনৈতিক পরিবেশও অনেক সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সমর্থক-সমালোচকদের মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হওয়াও স্বাভাবিক।
তারা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যায় না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মামলাগুলো নিয়ে জনমনে বাড়তি আগ্রহও তৈরি হয়।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইভীর বিরুদ্ধে বর্তমানে যেসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, সেগুলোর সবকটিতেই জামিন কার্যকর রয়েছে। এখন আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছানো ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম আলাদাভাবে চলবে। তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি।
এদিকে আইভীর মুক্তিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন