কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিমেন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট, তিনটি মাছ ধরার নৌকা এবং ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দিনভর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সিমেন্টগুলো মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে, কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী, স্টেশন সেন্টমার্টিন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন। আগে থেকেই খবর ছিল, কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে।
এর পর সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমের সমুদ্র এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা গেলে তিনটি ফিশিং বোট থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে একের পর এক সিমেন্টের বস্তা উদ্ধার হয়। পরে গুনে দেখা যায়, মোট ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট রয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব সিমেন্ট দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা—বিশেষ করে হাতিয়া ও সন্দ্বীপ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সিমেন্টগুলো সমুদ্রপথে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব নির্মাণসামগ্রী নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের আগে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অভিযানে তিনটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌকাগুলোতে থাকা ৩৩ জনকে আটক করা হয়।
তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। কারা সরাসরি পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং কারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। মাদক, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী—বিভিন্ন পণ্য সমুদ্রপথে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপথে চোরাচালান শুধু রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিই করে না, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, উপকূলীয় চোরাচালান চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নিয়মিত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে যারা ধরা পড়েছেন, তাদের বাইরে আরও বড় একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এ ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং সমন্বয়কারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত অভিযানও জোরদার করা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গভীর রাতে অনেক সময় অপরিচিত নৌযান চলাচল করতে দেখা যায়। তবে সেগুলোতে কী বহন করা হয়, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না।
তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হলে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে।
চোরাচালানকে অনেকে শুধু আইনভঙ্গ হিসেবে দেখলেও এর প্রভাব অনেক বিস্তৃত। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার হলে সরকার রাজস্ব হারায়, বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন এবং সীমান্ত এলাকায় অপরাধচক্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রীর মতো পণ্য যদি অবৈধভাবে বিদেশে চলে যায়, তবে স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পায়।
জব্দ করা সিমেন্ট, ব্যবহৃত তিনটি নৌকা এবং আটক ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক আইনে মামলা দায়ের করা হতে পারে। পাশাপাশি এই চালানের পেছনে আর কারা জড়িত ছিলেন, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে।
সেন্টমার্টিন উপকূলে এই অভিযান আবারও দেখিয়ে দিল, সমুদ্রপথে অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ এবং ৩৩ জন আটকের ঘটনায় চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত মিলেছে।
এখন নজর থাকবে তদন্তে—শুধু বাহক নয়, এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যের মূলহোতাদেরও আইনের আওতায় আনা যায় কি না। সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই ফল পেতে হলে সমন্বিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিমেন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী। অভিযানে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট, তিনটি মাছ ধরার নৌকা এবং ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দিনভর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সিমেন্টগুলো মিয়ানমারে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে, কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী, স্টেশন সেন্টমার্টিন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অভিযানটি পরিচালনা করেন। আগে থেকেই খবর ছিল, কয়েকটি মাছ ধরার নৌকায় বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে।
এর পর সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিমের সমুদ্র এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা গেলে তিনটি ফিশিং বোট থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে একের পর এক সিমেন্টের বস্তা উদ্ধার হয়। পরে গুনে দেখা যায়, মোট ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট রয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব সিমেন্ট দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা—বিশেষ করে হাতিয়া ও সন্দ্বীপ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সিমেন্টগুলো সমুদ্রপথে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব নির্মাণসামগ্রী নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের আগে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অভিযানে তিনটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌকাগুলোতে থাকা ৩৩ জনকে আটক করা হয়।
তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। কারা সরাসরি পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং কারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। মাদক, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রী—বিভিন্ন পণ্য সমুদ্রপথে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপথে চোরাচালান শুধু রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিই করে না, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, উপকূলীয় চোরাচালান চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা নিয়মিত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে যারা ধরা পড়েছেন, তাদের বাইরে আরও বড় একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, এ ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং সমন্বয়কারীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত অভিযানও জোরদার করা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিনের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গভীর রাতে অনেক সময় অপরিচিত নৌযান চলাচল করতে দেখা যায়। তবে সেগুলোতে কী বহন করা হয়, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয় না।
তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ করা হলে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে।
চোরাচালানকে অনেকে শুধু আইনভঙ্গ হিসেবে দেখলেও এর প্রভাব অনেক বিস্তৃত। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য পাচার হলে সরকার রাজস্ব হারায়, বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন এবং সীমান্ত এলাকায় অপরাধচক্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রীর মতো পণ্য যদি অবৈধভাবে বিদেশে চলে যায়, তবে স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পায়।
জব্দ করা সিমেন্ট, ব্যবহৃত তিনটি নৌকা এবং আটক ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক আইনে মামলা দায়ের করা হতে পারে। পাশাপাশি এই চালানের পেছনে আর কারা জড়িত ছিলেন, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে।
সেন্টমার্টিন উপকূলে এই অভিযান আবারও দেখিয়ে দিল, সমুদ্রপথে অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট জব্দ এবং ৩৩ জন আটকের ঘটনায় চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত মিলেছে।
এখন নজর থাকবে তদন্তে—শুধু বাহক নয়, এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যের মূলহোতাদেরও আইনের আওতায় আনা যায় কি না। সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই ফল পেতে হলে সমন্বিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন