দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানকে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানকে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা; ভিডিও ধারণেরও অভিযোগ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের নেপথ্যে কী? পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন, দলীয় দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ

মান্দার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আটক দুই; প্রকৃত জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত; গ্রেপ্তার ৫

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

কটিয়াদীতে বাবার মৃত্যুতে ঢোল-বাঁশি বাজানোর কাণ্ড: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়, ক্ষমা চাইলেন সন্তান

ঢামেক মর্গে এক সপ্তাহ ধরে বিকল ফ্রিজার, মেঝেতে রাখা মরদেহে আলামত নষ্ট হওয়ার শঙ্কা

সংবিধির অপেক্ষায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া, ববিতে শিক্ষকদের অসন্তোষ প্রকাশ

সংবিধির অপেক্ষায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া, ববিতে শিক্ষকদের অসন্তোষ প্রকাশ
-ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রায় ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির আশা আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইনের সংবিধি বা স্ট্যাটিউট প্রণয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হবে না। এই সিদ্ধান্তে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কিছু সদস্য সরাসরি এবং বাকিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সভাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাজেন্ডাবিহীন হলেও মূল আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতির জটিলতা এবং সংবিধি প্রণয়নের বিষয়টি।


পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা

ববি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কর্মবিরতি, মানববন্ধন থেকে শুরু করে অসহযোগ কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি ঝুলে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালার আলোকে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই নীতিমালা কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংবিধি বা স্ট্যাটিউট সংশোধন ও প্রণয়ন জরুরি বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়।

শনিবারের সিন্ডিকেট সভায়ও সেই বিষয়টিই প্রাধান্য পায়।

সভায় বিভক্ত মতামত

সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ ছিল। এক পক্ষ দ্রুত পদোন্নতির পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্য পক্ষ বলেছে, সংবিধি ছাড়া পদোন্নতি দিলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সভায় উপাচার্য ড. তৌফিক আলম জানান, ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নে সংবিধি প্রণয়ন প্রয়োজন। তার দাবি, সংবিধি তৈরি হলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউজিসির আপত্তি থাকবে না।

কিছু সদস্য এ সময় আলাদা একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে উপাচার্য বলেন, আগে একটি কমিটি থাকলেও সেটি কার্যকর হয়নি। তিনি নিজেই সংবিধির খসড়া তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন বলেও সভায় উল্লেখ করেন।

‘আরও সময়ক্ষেপণ হবে’—শিক্ষকদের শঙ্কা

পদোন্নতিপ্রত্যাশী কয়েকজন শিক্ষক সভায় সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, সংবিধি প্রণয়ন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এতে আরও কয়েক মাস, এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। ফলে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।


একজন শিক্ষক সভায় মত দেন, ইউজিসির চিঠি আসার আগেই অনেক শিক্ষকের পদোন্নতির সময় পেরিয়ে গেছে। তাই সংবিধি প্রণয়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পদোন্নতি দেওয়ার পথ খোঁজা উচিত।

অন্যদিকে, কয়েকজন শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালার কিছু ধারা ভবিষ্যতে শিক্ষকদের একটি অংশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জবাবে উপাচার্য বলেন, অভিন্ন নীতিমালার ৯ নম্বর ধারা সংবিধিতে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

বিভাগীয় কমিশনারের তাগিদ

সিন্ডিকেট সদস্য এবং বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ সভায় বলেন, যেহেতু আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই সংবিধি প্রণয়ন করতেই হবে। তবে তিনি বিলম্ব না করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তার ভাষায়, “সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সংবিধি প্রণয়ন করা উচিত। দুই মাস সময় লাগলেও যেন অযথা দীর্ঘসূত্রতা না হয়।”

শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধি প্রণয়নের সিদ্ধান্তে একমত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

‘এই সিন্ডিকেটে আশাবাদী নই’

সিন্ডিকেট সভা শেষে কয়েকজন শিক্ষক প্রকাশ্যে হতাশা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, সভা থেকে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

তার কথায়, “শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে সুরাহা হয়নি। এই সিন্ডিকেট নিয়ে আমি আশাবাদী নই।”

অন্যদিকে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সিন্ডিকেটের গাইডলাইন অনুসরণ করেই পদোন্নতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, সংবিধি প্রণয়ন শেষ হলেই আর কোনো বাধা থাকবে না।

আন্দোলনে ফেরার ইঙ্গিত

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান বলেন, সংবিধির অজুহাতে আবারও সময়ক্ষেপণের আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, পদোন্নতির বিষয়টি সভায় কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।


তিনি আরও বলেন, “আমরা আন্দোলন শিথিল করেছিলাম আশ্বাসের ভিত্তিতে। এখন শিক্ষকরা আবার বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজের একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে ক্যাম্পাসে আবারও আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশাসনিক জটিলতা নাকি আস্থার সংকট?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা নতুন নয়। তবে ববির ঘটনাটি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব এবং আস্থার সংকটকেও সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে প্রশাসন আইনি কাঠামোর কথা বলছে, অন্যদিকে শিক্ষকরা এটিকে বিলম্বের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ ও সময়সীমাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষক অসন্তোষ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশেও প্রভাব ফেলে।

এখন কী হবে?

সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে সংবিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। তবে বাস্তবে সেই সময়সীমা মানা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা নতুন কর্মসূচি দেবেন কি না, সেটিও এখন আলোচনায়। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের পরবর্তী আলোচনার ওপর পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করবে।

বিষয় : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন ববি শিক্ষক পদোন্নতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


সংবিধির অপেক্ষায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া, ববিতে শিক্ষকদের অসন্তোষ প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) প্রায় ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির আশা আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইনের সংবিধি বা স্ট্যাটিউট প্রণয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হবে না। এই সিদ্ধান্তে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কিছু সদস্য সরাসরি এবং বাকিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সভাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাজেন্ডাবিহীন হলেও মূল আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতির জটিলতা এবং সংবিধি প্রণয়নের বিষয়টি।


পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা

ববি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কর্মবিরতি, মানববন্ধন থেকে শুরু করে অসহযোগ কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা। শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর পদোন্নতি ঝুলে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন নীতিমালার আলোকে পদোন্নতির প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই নীতিমালা কার্যকর করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংবিধি বা স্ট্যাটিউট সংশোধন ও প্রণয়ন জরুরি বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়।

শনিবারের সিন্ডিকেট সভায়ও সেই বিষয়টিই প্রাধান্য পায়।

সভায় বিভক্ত মতামত

সিন্ডিকেট সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যেও এ নিয়ে মতভেদ ছিল। এক পক্ষ দ্রুত পদোন্নতির পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্য পক্ষ বলেছে, সংবিধি ছাড়া পদোন্নতি দিলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সভায় উপাচার্য ড. তৌফিক আলম জানান, ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী অভিন্ন নীতিমালা বাস্তবায়নে সংবিধি প্রণয়ন প্রয়োজন। তার দাবি, সংবিধি তৈরি হলে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ইউজিসির আপত্তি থাকবে না।

কিছু সদস্য এ সময় আলাদা একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে উপাচার্য বলেন, আগে একটি কমিটি থাকলেও সেটি কার্যকর হয়নি। তিনি নিজেই সংবিধির খসড়া তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছেন বলেও সভায় উল্লেখ করেন।

‘আরও সময়ক্ষেপণ হবে’—শিক্ষকদের শঙ্কা

পদোন্নতিপ্রত্যাশী কয়েকজন শিক্ষক সভায় সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের বক্তব্য, সংবিধি প্রণয়ন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এতে আরও কয়েক মাস, এমনকি বছরও লেগে যেতে পারে। ফলে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।


একজন শিক্ষক সভায় মত দেন, ইউজিসির চিঠি আসার আগেই অনেক শিক্ষকের পদোন্নতির সময় পেরিয়ে গেছে। তাই সংবিধি প্রণয়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পদোন্নতি দেওয়ার পথ খোঁজা উচিত।

অন্যদিকে, কয়েকজন শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালার কিছু ধারা ভবিষ্যতে শিক্ষকদের একটি অংশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জবাবে উপাচার্য বলেন, অভিন্ন নীতিমালার ৯ নম্বর ধারা সংবিধিতে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

বিভাগীয় কমিশনারের তাগিদ

সিন্ডিকেট সদস্য এবং বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ সভায় বলেন, যেহেতু আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই সংবিধি প্রণয়ন করতেই হবে। তবে তিনি বিলম্ব না করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তার ভাষায়, “সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সংবিধি প্রণয়ন করা উচিত। দুই মাস সময় লাগলেও যেন অযথা দীর্ঘসূত্রতা না হয়।”

শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধি প্রণয়নের সিদ্ধান্তে একমত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

‘এই সিন্ডিকেটে আশাবাদী নই’

সিন্ডিকেট সভা শেষে কয়েকজন শিক্ষক প্রকাশ্যে হতাশা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, সভা থেকে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

তার কথায়, “শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়ে সুরাহা হয়নি। এই সিন্ডিকেট নিয়ে আমি আশাবাদী নই।”

অন্যদিকে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, সিন্ডিকেটের গাইডলাইন অনুসরণ করেই পদোন্নতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার দাবি, সংবিধি প্রণয়ন শেষ হলেই আর কোনো বাধা থাকবে না।

আন্দোলনে ফেরার ইঙ্গিত

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাদেকুর রহমান বলেন, সংবিধির অজুহাতে আবারও সময়ক্ষেপণের আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, পদোন্নতির বিষয়টি সভায় কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।


তিনি আরও বলেন, “আমরা আন্দোলন শিথিল করেছিলাম আশ্বাসের ভিত্তিতে। এখন শিক্ষকরা আবার বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসমাজের একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘসূত্রতা চলতে থাকলে ক্যাম্পাসে আবারও আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশাসনিক জটিলতা নাকি আস্থার সংকট?

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা নতুন নয়। তবে ববির ঘটনাটি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব এবং আস্থার সংকটকেও সামনে এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে প্রশাসন আইনি কাঠামোর কথা বলছে, অন্যদিকে শিক্ষকরা এটিকে বিলম্বের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ ও সময়সীমাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থা না থাকলে শিক্ষক অসন্তোষ বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশেও প্রভাব ফেলে।

এখন কী হবে?

সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই মাসের মধ্যে সংবিধি প্রণয়নের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। তবে বাস্তবে সেই সময়সীমা মানা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকরা নতুন কর্মসূচি দেবেন কি না, সেটিও এখন আলোচনায়। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের পরবর্তী আলোচনার ওপর পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর