সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায় জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। টানা কয়েকদিনের উত্তেজনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলও। সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করতে পরে শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, জাউয়াবাজার সংলগ্ন খিদ্রাখাপন গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফরোজ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে কিছু জমি কেনেন কোনাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। অভিযোগ রয়েছে, জমি কেনাবেচার চুক্তি হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধীরে ধীরে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও বিরোধ মেটেনি বলে দাবি করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজার এলাকায়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়।
একাধিক দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “প্রথমে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। পরে হঠাৎ করেই চারদিক থেকে ইট ছোড়া শুরু হয়। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি করেছে।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত কেউ সামনে যাওয়ার সাহস পাননি।
এ ঘটনার সময় সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে ফিরছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। পথে সংঘর্ষের কারণে তার গাড়িবহর আটকা পড়ে।
পরে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলের সামনে এগিয়ে যান এবং দুই পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এসময় ছোড়া ইট বা ঢিলের আঘাতে তিনি আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে সংঘর্ষ দেখতে পাই। পরিস্থিতি থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে হাতে ও পায়ে আঘাত পেয়েছি।”
তবে তার আঘাত গুরুতর নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উভয়পক্ষের সমর্থক ছাড়াও কয়েকজন সাধারণ পথচারী রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আহতদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যদিও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয়দের দাবি আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে।
কিছু আহত ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি প্রশাসন।
সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রথমে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ছাতক থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যোগ দেন। যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে সংঘর্ষ না ছড়ায়, সেজন্য অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সালিশ বা আইনি প্রক্রিয়ার বদলে পক্ষগুলো শক্তি প্রদর্শনের পথে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি রেজিস্ট্রি, মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের সংঘর্ষ বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত জাউয়াবাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদিকে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায় জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। টানা কয়েকদিনের উত্তেজনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলও। সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের জাউয়াবাজার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করতে পরে শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, জাউয়াবাজার সংলগ্ন খিদ্রাখাপন গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফরোজ মিয়ার কাছ থেকে প্রায় এক বছর আগে কিছু জমি কেনেন কোনাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। অভিযোগ রয়েছে, জমি কেনাবেচার চুক্তি হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধীরে ধীরে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও বিরোধ মেটেনি বলে দাবি করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজার এলাকায়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়।
একাধিক দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “প্রথমে কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। পরে হঠাৎ করেই চারদিক থেকে ইট ছোড়া শুরু হয়। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াদৌড়ি করেছে।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত কেউ সামনে যাওয়ার সাহস পাননি।
এ ঘটনার সময় সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে ফিরছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। পথে সংঘর্ষের কারণে তার গাড়িবহর আটকা পড়ে।
পরে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলের সামনে এগিয়ে যান এবং দুই পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এসময় ছোড়া ইট বা ঢিলের আঘাতে তিনি আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে আসার পথে সংঘর্ষ দেখতে পাই। পরিস্থিতি থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে হাতে ও পায়ে আঘাত পেয়েছি।”
তবে তার আঘাত গুরুতর নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উভয়পক্ষের সমর্থক ছাড়াও কয়েকজন সাধারণ পথচারী রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আহতদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
যদিও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয়দের দাবি আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে।
কিছু আহত ব্যক্তির শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি প্রশাসন।
সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অনেক যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রথমে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ছাতক থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় শান্তিগঞ্জ সেনাক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যোগ দেন। যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে সংঘর্ষ না ছড়ায়, সেজন্য অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নতুন কিছু নয়। তবে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সালিশ বা আইনি প্রক্রিয়ার বদলে পক্ষগুলো শক্তি প্রদর্শনের পথে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি রেজিস্ট্রি, মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের সংঘর্ষ বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
শনিবার সকাল পর্যন্ত জাউয়াবাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না এলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এদিকে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

আপনার মতামত লিখুন