ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ আতঙ্ক—রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ঢুকে পড়ার চেষ্টা দুষ্কৃতকারীদের। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সুন্দরবন-এ এমন ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে। খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী খাল এলাকায় একটি ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে খুলনার দাকোপ থানার ঢাংমারী খাল সংলগ্ন একটি রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের লক্ষ্য করে একটি দল হামলার চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড মোংলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই দিন বিকালে ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—রাজন সরদার (২৫) ও রতন সরদার (১৪)। তারা খুলনার দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
পরবর্তীতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিসোর্টের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা সবসময় পর্যটকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান,
“এলাকাটি সাধারণত শান্ত। কিন্তু মাঝে মাঝে নদীপথে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। নিরাপত্তা টহল বাড়ানো দরকার।”
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে পর্যটকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক এই ঘটনার দ্রুত সমাধান হলেও এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ আতঙ্ক—রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ঢুকে পড়ার চেষ্টা দুষ্কৃতকারীদের। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সুন্দরবন-এ এমন ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে। খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী খাল এলাকায় একটি ইকো রিসোর্টে পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা ও লুটপাটের চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৪ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে খুলনার দাকোপ থানার ঢাংমারী খাল সংলগ্ন একটি রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের লক্ষ্য করে একটি দল হামলার চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা রিসোর্টের জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই প্রাপ্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড মোংলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই দিন বিকালে ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—রাজন সরদার (২৫) ও রতন সরদার (১৪)। তারা খুলনার দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
পরবর্তীতে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিসোর্টের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা সবসময় পর্যটকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান,
“এলাকাটি সাধারণত শান্ত। কিন্তু মাঝে মাঝে নদীপথে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। নিরাপত্তা টহল বাড়ানো দরকার।”বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে পর্যটকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনের মতো দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক এই ঘটনার দ্রুত সমাধান হলেও এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন