যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (পিএইচডি শিক্ষার্থী) খুন হওয়ার ঘটনায় তার নিজ গ্রাম মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর এখন শোকে ভারী। শনিবার (৯ মে) দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সকাল থেকেই বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকা পর্যন্ত ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। সবাই এক নজর দেখতে চান প্রিয় সন্তানকে, যে আর জীবিতভাবে ফিরে আসেনি।
বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর তা সড়কপথে গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। শনিবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
এরপর প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের কাছে প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার মুহূর্তকে ঘিরে পুরো গ্রামে এক ধরনের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, এমনভাবে প্রবাসে পড়তে গিয়ে একটি তরুণীর নিথর দেহে দেশে ফেরা—এটা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।
নিহত বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তার মা আলভী বেগম।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল—গবেষণা, শিক্ষকতা এবং দেশের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা।
তার বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রকৌশলী। বাবা জহির উদ্দিন আকন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন, তবে গ্রামের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই ছিল নিবিড়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয় ১৬ এপ্রিল। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে পরিবার জানতে পারে, তিনি নিখোঁজ। এরপর এক পর্যায়ে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যা পুরো পরিবারকে ভেঙে দেয়।
নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন,
“২০২৫ সালের ১২ আগস্ট সে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। শেষবার কথা হয় ১৬ এপ্রিল। এরপর আর কোনো খবর পাইনি। পরে জানতে পারি সে আর বেঁচে নেই। এখন শুধু অপেক্ষা, মরদেহটা একবার নিজের হাতে দাফন করতে পারব।”
চর গোবিন্দপুর গ্রামে এখন এক অদ্ভুত নীরবতা। সকাল থেকেই মানুষজন বৃষ্টির বাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকেই কথা বলছেন না, কেউ কেউ শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, বৃষ্টি ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং পড়ালেখায় খুবই মনোযোগী ছিলেন। গ্রামের অনেকেই তাকে “মেধাবী মেয়ে” হিসেবে স্মরণ করছেন।
একজন প্রতিবেশী বলেন, “এত দূরে গিয়ে এমন খবর আসবে—এটা কেউ ভাবিনি। সকালে থেকে শুধু মানুষ আসছে, সবাই কাঁদছে।”
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হলেও, পরিবার বলছে তারা সব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানার অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনা আবারও আলোচনায় এনেছে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ইস্যু। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে গবেষণা ও পড়াশোনার জন্য যাওয়া তরুণ-তরুণীদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, শুধু একাডেমিক সুযোগ নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সংকটকালীন দ্রুত সহায়তা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
গ্রাম পর্যায়ে এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেক অভিভাবক এখন বিদেশে সন্তান পাঠানো নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
গ্রামের বাড়িতে এখন শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বৃষ্টিকে দাফন করা হবে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এক শোকাহত পরিবেশে শেষ বিদায় দেওয়া হবে তাকে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের একটাই চাওয়া—বৃষ্টিকে যেন শেষবারের মতো শান্তভাবে বিদায় দিতে পারেন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং একটি পুরো এলাকার জন্য গভীর বেদনার ঘটনা হয়ে উঠেছে। প্রবাসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া একজন তরুণীর নিথর দেহ দেশে ফেরার এই দৃশ্য অনেক প্রশ্নও রেখে যাচ্ছে।
মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর অপেক্ষায় এখন পুরো চর গোবিন্দপুর স্তব্ধ। একদিকে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি, অন্যদিকে অপূর্ণ স্বপ্নের ভার—সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে এক গভীর শোকের আবহ।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (পিএইচডি শিক্ষার্থী) খুন হওয়ার ঘটনায় তার নিজ গ্রাম মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর এখন শোকে ভারী। শনিবার (৯ মে) দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সকাল থেকেই বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকা পর্যন্ত ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। সবাই এক নজর দেখতে চান প্রিয় সন্তানকে, যে আর জীবিতভাবে ফিরে আসেনি।
বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর তা সড়কপথে গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। শনিবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
এরপর প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়া শেষ করে পরিবারের কাছে প্রিয়জনকে ফিরিয়ে আনার মুহূর্তকে ঘিরে পুরো গ্রামে এক ধরনের নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, এমনভাবে প্রবাসে পড়তে গিয়ে একটি তরুণীর নিথর দেহে দেশে ফেরা—এটা তারা কল্পনাও করতে পারেননি।
নিহত বৃষ্টি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের জহির উদ্দিন আকনের মেয়ে। তার মা আলভী বেগম।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল—গবেষণা, শিক্ষকতা এবং দেশের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা।
তার বড় ভাই জাহিদ হাসান একজন প্রকৌশলী। বাবা জহির উদ্দিন আকন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন, তবে গ্রামের বাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই ছিল নিবিড়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয় ১৬ এপ্রিল। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া হলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে পরিবার জানতে পারে, তিনি নিখোঁজ। এরপর এক পর্যায়ে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যা পুরো পরিবারকে ভেঙে দেয়।
নিহতের বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন,
“২০২৫ সালের ১২ আগস্ট সে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। শেষবার কথা হয় ১৬ এপ্রিল। এরপর আর কোনো খবর পাইনি। পরে জানতে পারি সে আর বেঁচে নেই। এখন শুধু অপেক্ষা, মরদেহটা একবার নিজের হাতে দাফন করতে পারব।”
চর গোবিন্দপুর গ্রামে এখন এক অদ্ভুত নীরবতা। সকাল থেকেই মানুষজন বৃষ্টির বাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকেই কথা বলছেন না, কেউ কেউ শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, বৃষ্টি ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং পড়ালেখায় খুবই মনোযোগী ছিলেন। গ্রামের অনেকেই তাকে “মেধাবী মেয়ে” হিসেবে স্মরণ করছেন।
একজন প্রতিবেশী বলেন, “এত দূরে গিয়ে এমন খবর আসবে—এটা কেউ ভাবিনি। সকালে থেকে শুধু মানুষ আসছে, সবাই কাঁদছে।”
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর ও পরিবহনের ব্যবস্থা করে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হলেও, পরিবার বলছে তারা সব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানার অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনা আবারও আলোচনায় এনেছে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ইস্যু। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে গবেষণা ও পড়াশোনার জন্য যাওয়া তরুণ-তরুণীদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, শুধু একাডেমিক সুযোগ নয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সংকটকালীন দ্রুত সহায়তা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
গ্রাম পর্যায়ে এই ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলেছে। অনেক অভিভাবক এখন বিদেশে সন্তান পাঠানো নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
গ্রামের বাড়িতে এখন শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি চলছে। বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বৃষ্টিকে দাফন করা হবে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এক শোকাহত পরিবেশে শেষ বিদায় দেওয়া হবে তাকে।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের একটাই চাওয়া—বৃষ্টিকে যেন শেষবারের মতো শান্তভাবে বিদায় দিতে পারেন।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং একটি পুরো এলাকার জন্য গভীর বেদনার ঘটনা হয়ে উঠেছে। প্রবাসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া একজন তরুণীর নিথর দেহ দেশে ফেরার এই দৃশ্য অনেক প্রশ্নও রেখে যাচ্ছে।
মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর অপেক্ষায় এখন পুরো চর গোবিন্দপুর স্তব্ধ। একদিকে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি, অন্যদিকে অপূর্ণ স্বপ্নের ভার—সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে এক গভীর শোকের আবহ।

আপনার মতামত লিখুন