দেশের সাংবাদিকতা পেশায় আবারও উঠে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতা। পেশাগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আর্থিক সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতির অভিযোগ তুলে এবার সামনে এসেছে ‘নাই’-এর দীর্ঘ তালিকা। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ঘিরে এই পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ১৪ দফা কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠন Bangladesh Mofussil Journalists Forum-এর পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর দেশের সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থাকে “সংকটপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন এবং একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সাংবাদিকদের জন্য এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইস বা তালিকা গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি রয়েছে—
এছাড়া সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সহায়তার ঘাটতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে পেশাগত নিরাপত্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে অনেক সাংবাদিক হুমকি, মামলা বা হামলার শিকার হন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিক বলেন, “সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করলে শুধু নিজের নয়, পরিবারের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে যায়।”
এছাড়া সাংবাদিকরা নিজে বাদী হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগও রয়েছে।
শুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক বিষয়েও অনেককে সংগ্রাম করতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
বিবৃতিতে যেসব ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সাংবাদিকতা পেশার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা এসব সমস্যায় বেশি ভোগেন বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে আয়োজকরা বলেন, “এটি কোনো অভিযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বাস্তব চিত্র।”
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ১৪ দফা দাবিতে আগামী ৭ মে ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু দাবি জানানোর প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি সমন্বিত আন্দোলনের সূচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি অনিরাপদ হয়, তাহলে তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতাও সীমিত হয়ে যায়।”
তারা মনে করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো মনে করছে, একটি সুসংহত নীতিমালা প্রণয়ন এবং সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।
এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহে প্রকাশিত সাংবাদিকদের ‘নাই’-এর তালিকা শুধু অভিযোগ নয়, বরং দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র। পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন—সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই সংকটের সমাধান দিতে।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
দেশের সাংবাদিকতা পেশায় আবারও উঠে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতা। পেশাগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আর্থিক সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতির অভিযোগ তুলে এবার সামনে এসেছে ‘নাই’-এর দীর্ঘ তালিকা। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ঘিরে এই পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ১৪ দফা কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠন Bangladesh Mofussil Journalists Forum-এর পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর দেশের সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থাকে “সংকটপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন এবং একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সাংবাদিকদের জন্য এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইস বা তালিকা গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি রয়েছে—
এছাড়া সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সহায়তার ঘাটতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে পেশাগত নিরাপত্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে অনেক সাংবাদিক হুমকি, মামলা বা হামলার শিকার হন।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিক বলেন, “সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করলে শুধু নিজের নয়, পরিবারের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে যায়।”
এছাড়া সাংবাদিকরা নিজে বাদী হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগও রয়েছে।
শুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক বিষয়েও অনেককে সংগ্রাম করতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।
বিবৃতিতে যেসব ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সাংবাদিকতা পেশার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা এসব সমস্যায় বেশি ভোগেন বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে আয়োজকরা বলেন, “এটি কোনো অভিযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বাস্তব চিত্র।”
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ১৪ দফা দাবিতে আগামী ৭ মে ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু দাবি জানানোর প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি সমন্বিত আন্দোলনের সূচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি অনিরাপদ হয়, তাহলে তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতাও সীমিত হয়ে যায়।”
তারা মনে করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলো মনে করছে, একটি সুসংহত নীতিমালা প্রণয়ন এবং সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।
এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহে প্রকাশিত সাংবাদিকদের ‘নাই’-এর তালিকা শুধু অভিযোগ নয়, বরং দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র। পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন—সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই সংকটের সমাধান দিতে।

আপনার মতামত লিখুন