দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে উত্তাপ: প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান, গঠিত সমন্বয় কমিটি

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে উত্তাপ: প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান, গঠিত সমন্বয় কমিটি

রাজধানীর উচ্ছেদ হকারদের জন্য স্থায়ী সমাধান চান প্রধানমন্ত্রী

ক্ষতি হলেও ১% টার্নওভার কর: ছোট উদ্যোক্তারা চাপে, অর্ডার হারানোর শঙ্কা বাড়ছে

বোরো মৌসুমে ১৮.৫ লাখ টন ধান-চাল-গম সংগ্রহ করবে সরকার, ৩ মে থেকে শুরু

নরসিংদীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের প্রথম মতবিনিময়, সমস্যা সমাধানে আশ্বাস

জ্বালানি সংকট কাটাতে বড় উদ্যোগ, সৌদি থেকে আসছে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

ত্রয়োদশ সংসদের নারী আসন নির্বাচন: আজ থেকে যাচাই-বাছাইয়ে বসছে নির্বাচন কমিশন

বেসরকারি ডিপোর সারচার্জ বাড়ল ৮.৫%, বাড়তি খরচে চাপেC রপ্তানিকারকরাকারকরা

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে উত্তাপ: প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান, গঠিত সমন্বয় কমিটি

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে উত্তাপ: প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান, গঠিত সমন্বয় কমিটি
-ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য। খাল-নালা পরিদর্শন শেষে এক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তার কড়া বক্তব্য নগরজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছে এক নজরে

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটি ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়রকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে।


এর আগে দিনভর নগরীর বিভিন্ন খাল-নালা ও স্লুইস গেট পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিকেলে চসিকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমকে উদ্দেশ্য করে তার কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।


গঠিত কমিটির কাঠামো ও দায়িত্ব

নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে সমাধানের লক্ষ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বয়ের অভাব দূর করা যায়।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম বন্দর, গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে নগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য কাজ করবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।


প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন: ‘অতিরঞ্জিত প্রচার হয়েছে’

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

তার দাবি, পুরোনো ছবি ব্যবহার করে নগরীর বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে চট্টগ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি, বরং ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক জলজট তৈরি হয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, “৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে পানি নামতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। সেটিকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা বলা যায় না।”

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত জলাবদ্ধতা তখনই বলা উচিত যখন কয়েক দিন ধরে পানি স্থির থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, নগরীর কিছু খালে চলমান উন্নয়ন কাজ এবং অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছিল।


সমন্বয় সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

বিকেলে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রতিমন্ত্রী সিডিএ চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে কড়া সমালোচনা করেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, নগরীর খাল সংস্কার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সিডিএর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এ বিষয়ে জনসাধারণের কাছে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সভায় একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



মেয়রের প্রতিক্রিয়া: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেন, সাম্প্রতিক জলজটে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে চসিক কাজ করবে।

তিনি জানান, যেসব এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পানি জমেছে, সেসব এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এলাকাবাসীর অভিজ্ঞতা: ‘জলজট হলেও ভোগান্তি কম নয়’

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন বলছেন, পানি দীর্ঘ সময় না থাকলেও অল্প সময়ের জলজটই তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একজন বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি উঠে যায়। হয়তো কয়েক ঘণ্টা থাকে, কিন্তু সেই সময়টা খুব কষ্টে যেতে হয়—যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

আরেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, “পানি দ্রুত নেমে গেলেও আমাদের ক্ষতি হয়ে যায়। বিশেষ করে হঠাৎ বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে পড়লে পণ্য নষ্ট হয়।”


সমস্যার মূল কোথায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি।

একাধিক প্রকল্প একসঙ্গে চলার কারণে অনেক সময় খাল বা নালার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেও পানি জমে যায়।


প্রশাসনের করণীয় কী?

নতুন গঠিত কমিটি যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তবে সমন্বয়ের ঘাটতি অনেকটাই দূর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মিত খাল পরিষ্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সূচি সমন্বয় এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের মত।


সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা

সমন্বয় সভায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


প্রভাব ও বিশ্লেষণ

জলাবদ্ধতা ইস্যু চট্টগ্রামের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই এটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি মন্তব্য প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এতে একদিকে যেমন দায়বদ্ধতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার চাপ তৈরি হবে।


উপসংহার

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বহু উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। নতুন কমিটি গঠন এবং উচ্চপর্যায়ের নজরদারি যদি বাস্তবায়নে প্রতিফলিত হয়, তবে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

তবে এর জন্য প্রয়োজন সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—নয়তো সাময়িক জলজটই বারবার বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে নগরবাসীর জন্য।

বিষয় : চট্টগ্রামে প্রতিমন্ত্রীর চেয়ারম্যান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ইস্যুতে উত্তাপ: প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে সিডিএ চেয়ারম্যান, গঠিত সমন্বয় কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য। খাল-নালা পরিদর্শন শেষে এক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তার কড়া বক্তব্য নগরজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছে এক নজরে

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম মহানগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটি ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়রকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে।


এর আগে দিনভর নগরীর বিভিন্ন খাল-নালা ও স্লুইস গেট পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিকেলে চসিকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমকে উদ্দেশ্য করে তার কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।


গঠিত কমিটির কাঠামো ও দায়িত্ব

নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে সমাধানের লক্ষ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বয়ের অভাব দূর করা যায়।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন), জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম বন্দর, গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে নগরীর খাল ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য কাজ করবে। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।


প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন: ‘অতিরঞ্জিত প্রচার হয়েছে’

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

তার দাবি, পুরোনো ছবি ব্যবহার করে নগরীর বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে চট্টগ্রাম পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি, বরং ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক জলজট তৈরি হয়েছিল।


তিনি আরও বলেন, “৮০ থেকে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে পানি নামতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। সেটিকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা বলা যায় না।”

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত জলাবদ্ধতা তখনই বলা উচিত যখন কয়েক দিন ধরে পানি স্থির থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, নগরীর কিছু খালে চলমান উন্নয়ন কাজ এবং অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণে পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়েছিল।


সমন্বয় সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

বিকেলে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় প্রতিমন্ত্রী সিডিএ চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে কড়া সমালোচনা করেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, নগরীর খাল সংস্কার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সিডিএর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এ বিষয়ে জনসাধারণের কাছে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সভায় একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের সরাসরি প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



মেয়রের প্রতিক্রিয়া: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেন, সাম্প্রতিক জলজটে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে চসিক কাজ করবে।

তিনি জানান, যেসব এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে পানি জমেছে, সেসব এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এলাকাবাসীর অভিজ্ঞতা: ‘জলজট হলেও ভোগান্তি কম নয়’

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন বলছেন, পানি দীর্ঘ সময় না থাকলেও অল্প সময়ের জলজটই তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একজন বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি উঠে যায়। হয়তো কয়েক ঘণ্টা থাকে, কিন্তু সেই সময়টা খুব কষ্টে যেতে হয়—যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

আরেকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, “পানি দ্রুত নেমে গেলেও আমাদের ক্ষতি হয়ে যায়। বিশেষ করে হঠাৎ বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে পড়লে পণ্য নষ্ট হয়।”


সমস্যার মূল কোথায়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল দখল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি।

একাধিক প্রকল্প একসঙ্গে চলার কারণে অনেক সময় খাল বা নালার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেও পানি জমে যায়।


প্রশাসনের করণীয় কী?

নতুন গঠিত কমিটি যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তবে সমন্বয়ের ঘাটতি অনেকটাই দূর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মিত খাল পরিষ্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, উন্নয়ন প্রকল্পের সময়সূচি সমন্বয় এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের মত।


সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা

সমন্বয় সভায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


প্রভাব ও বিশ্লেষণ

জলাবদ্ধতা ইস্যু চট্টগ্রামের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিবার বর্ষা মৌসুম এলেই এটি নতুন করে আলোচনায় আসে।

প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি মন্তব্য প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতিকে সামনে নিয়ে এসেছে। এতে একদিকে যেমন দায়বদ্ধতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার চাপ তৈরি হবে।


উপসংহার

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে বহু উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা। নতুন কমিটি গঠন এবং উচ্চপর্যায়ের নজরদারি যদি বাস্তবায়নে প্রতিফলিত হয়, তবে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

তবে এর জন্য প্রয়োজন সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—নয়তো সাময়িক জলজটই বারবার বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে নগরবাসীর জন্য।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর