শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ “হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬” বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুর পৌরসভার একটি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম।
বৃহস্পতিবার শেরপুর পৌরসভার পশ্চিম গৌরীপুর (ওয়ার্ড নং-০৭) এলাকায় অবস্থিত একটি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং টিকাদান কার্যক্রম কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
জানা গেছে, চলমান এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি মনিটরিং জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরিদর্শনের সময় যুগ্মসচিব টিকাদান কার্যক্রমের গতি, স্বাস্থ্যসেবার মান এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ সময় তিনি বলেন, শিশুদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে যেন কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, জেলা সিভিল সার্জন এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তারা সম্মিলিতভাবে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে নির্ধারিত সময়েই কেন্দ্রে আসছেন। তবে কিছু এলাকায় এখনো সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজন অভিভাবক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “টিকা দিতে এসে কোনো সমস্যা হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মীরা সহযোগিতা করছেন। তবে সবাইকে আরও আগে থেকেই জানানো হলে ভালো হতো।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অনেকেই এখনো টিকার বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন না। প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম ও রুবেলা দুটি সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সময়মতো টিকা না দিলে এসব রোগ থেকে জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে “হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন” দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে টিকা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছি। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।”
তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমের তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ক্যাম্পেইন শেষে সার্বিক মূল্যায়ন করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। মাঠপর্যায়ে সরাসরি পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সরকার। তবে এর সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে জনসচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ “হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬” বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়িয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুর পৌরসভার একটি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম।
বৃহস্পতিবার শেরপুর পৌরসভার পশ্চিম গৌরীপুর (ওয়ার্ড নং-০৭) এলাকায় অবস্থিত একটি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সফিউল আলম। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রটির সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং টিকাদান কার্যক্রম কতটা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
জানা গেছে, চলমান এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সসীমার শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সরাসরি মনিটরিং জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
পরিদর্শনের সময় যুগ্মসচিব টিকাদান কার্যক্রমের গতি, স্বাস্থ্যসেবার মান এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ সময় তিনি বলেন, শিশুদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে যেন কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, জেলা সিভিল সার্জন এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তারা সম্মিলিতভাবে টিকাদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে নির্ধারিত সময়েই কেন্দ্রে আসছেন। তবে কিছু এলাকায় এখনো সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজন অভিভাবক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “টিকা দিতে এসে কোনো সমস্যা হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মীরা সহযোগিতা করছেন। তবে সবাইকে আরও আগে থেকেই জানানো হলে ভালো হতো।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অনেকেই এখনো টিকার বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন না। প্রচারণা আরও বাড়ানো দরকার।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম ও রুবেলা দুটি সংক্রামক রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সময়মতো টিকা না দিলে এসব রোগ থেকে জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে “হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন” দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে টিকা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছি। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে।”
তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় টিকাদান কার্যক্রমের তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি। অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ক্যাম্পেইন শেষে সার্বিক মূল্যায়ন করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। মাঠপর্যায়ে সরাসরি পরিদর্শন ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সরকার। তবে এর সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে জনসচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন