দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ইমির জামিন দিল হাইকোর্ট

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ইমির জামিন দিল হাইকোর্ট

ঢাকা বার নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের ভোটে বাড়তি উদ্দীপনা, দীর্ঘ লাইনে ভোটারদের ভিড়

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৯ জন নির্বাচিত, আজ গেজেট প্রকাশ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ জব্দ: ৬ ক্রু মুক্তি, বাকিদের নিয়ে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে

সংসদে নুরুল হক নুর: ছাত্র আন্দোলনে ‘বহিরাগত প্রভাব নেই’, তারেক রহমানের প্রশংসা

পারস্য উপসাগরে মার্কিন মেরিনদের তথ্য ফাঁসের দাবি: ‘হানদালা’

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়? প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন চাপ: লিটারে ৪ টাকা বেড়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকা

ঢাকা বার নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের ভোটে বাড়তি উদ্দীপনা, দীর্ঘ লাইনে ভোটারদের ভিড়

ঢাকা বার নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের ভোটে বাড়তি উদ্দীপনা, দীর্ঘ লাইনে ভোটারদের ভিড়
-ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনে ভোটকেন্দ্রে ভিড় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রথম দিনের তুলনায় আজ ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতির পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দিনের শেষে ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭৮৫। প্রথম দিন বুধবার ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭৫৯ জন আইনজীবী, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। ফলে এখনো প্রায় ৮৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট বাকি রয়েছে—যা দ্বিতীয় দিনের ওপর বাড়তি গুরুত্ব তৈরি করেছে।


সকালে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অনেক আইনজীবী সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, প্রথম দিন ব্যস্ততার কারণে ভোট দিতে পারেননি, তাই আজ এসেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, “অনেক দিন পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে। তাই আগ্রহটা একটু বেশি। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে ভোট হোক।”


ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রার্থীদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা ব্যালট নম্বর দেখিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, আবার কেউ লিফলেট বিতরণ করছেন।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দাবি, কেন্দ্রের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই এবং পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন।

একজন তরুণ আইনজীবী বলেন, “বাইরে প্রচারণা থাকলেও ভেতরে পরিবেশ ভালো। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারছি।”


নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও একই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করছেন তারা।

তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে। আইনজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।”

ভোট দিতে আসা আইনজীবীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ স্পষ্ট। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন তাদের পেশাগত ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, “সমিতির নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা আমাদের কাজের পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তাই এই ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

আরেকজন বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছতা বজায় থাকুক এবং যোগ্য নেতৃত্ব আসুক।”



ঢাকা বার নির্বাচন আইনজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এখানকার নেতৃত্ব আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পেশাগত বিষয়ে ভূমিকা রাখে। ফলে এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতে আইনজীবীদের দৈনন্দিন কাজ, সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক দিক, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে। তবে ভোটের হার যদি কম থাকে, তাহলে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।


নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের আশপাশে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে কিছু ভোটার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত প্রচারণা কখনো কখনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোটগ্রহণের পাশাপাশি গণনা প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। এতে করে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।

একজন পর্যবেক্ষক বলেন, “শুধু ভোটগ্রহণ নয়, পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছ হতে হবে। তাহলেই এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে।”


ঢাকা বার নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ ঘিরে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা আইনজীবীদের অংশগ্রহণমূলক মনোভাবেরই প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, দিনের শেষে ভোটের হার কতটা বাড়ে এবং নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

আইনজীবীরা আশা করছেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। আর সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব—এই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।

বিষয় : দ্বিতীয় ভোটারদের নির্বাচনে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


ঢাকা বার নির্বাচনে দ্বিতীয় দিনের ভোটে বাড়তি উদ্দীপনা, দীর্ঘ লাইনে ভোটারদের ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনে ভোটকেন্দ্রে ভিড় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রথম দিনের তুলনায় আজ ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার বিরতির পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট চলবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দিনের শেষে ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৭৮৫। প্রথম দিন বুধবার ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭৫৯ জন আইনজীবী, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। ফলে এখনো প্রায় ৮৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট বাকি রয়েছে—যা দ্বিতীয় দিনের ওপর বাড়তি গুরুত্ব তৈরি করেছে।


সকালে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অনেক আইনজীবী সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। কেউ কেউ বলছেন, প্রথম দিন ব্যস্ততার কারণে ভোট দিতে পারেননি, তাই আজ এসেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, “অনেক দিন পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে। তাই আগ্রহটা একটু বেশি। আমরা চাই সুষ্ঠুভাবে ভোট হোক।”


ভোটকেন্দ্রের আশপাশে প্রার্থীদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা ব্যালট নম্বর দেখিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, আবার কেউ লিফলেট বিতরণ করছেন।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দাবি, কেন্দ্রের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই এবং পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন।

একজন তরুণ আইনজীবী বলেন, “বাইরে প্রচারণা থাকলেও ভেতরে পরিবেশ ভালো। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারছি।”


নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় দিনেও একই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করছেন তারা।

তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে। আইনজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।”

ভোট দিতে আসা আইনজীবীদের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ স্পষ্ট। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন তাদের পেশাগত ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, “সমিতির নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা আমাদের কাজের পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তাই এই ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

আরেকজন বলেন, “আমরা চাই স্বচ্ছতা বজায় থাকুক এবং যোগ্য নেতৃত্ব আসুক।”



ঢাকা বার নির্বাচন আইনজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এখানকার নেতৃত্ব আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পেশাগত বিষয়ে ভূমিকা রাখে। ফলে এই নির্বাচনের ফলাফল ভবিষ্যতে আইনজীবীদের দৈনন্দিন কাজ, সুযোগ-সুবিধা এবং পেশাগত পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক দিক, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করে। তবে ভোটের হার যদি কম থাকে, তাহলে প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।


নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের আশপাশে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে কিছু ভোটার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের বাইরে অতিরিক্ত প্রচারণা কখনো কখনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোটগ্রহণের পাশাপাশি গণনা প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। এতে করে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হবে।

একজন পর্যবেক্ষক বলেন, “শুধু ভোটগ্রহণ নয়, পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছ হতে হবে। তাহলেই এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে।”


ঢাকা বার নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ ঘিরে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তা আইনজীবীদের অংশগ্রহণমূলক মনোভাবেরই প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, দিনের শেষে ভোটের হার কতটা বাড়ে এবং নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

আইনজীবীরা আশা করছেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। আর সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব—এই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর