ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থীদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে বৈধতা নিশ্চিত করবে Bangladesh Election Commission (ইসি)।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার দুপুর ২টা থেকে এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ধারাবাহিকভাবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এই কার্যক্রম রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত Election Commission Secretariat Bangladesh ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের উপস্থিতিতে কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন-২০২৬-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের জমা দেওয়া তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দলীয় মনোনয়নসহ সব বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হবে। কোনো প্রার্থীর কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে—এমনটিও জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরির আগে একটি নির্ভুল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ইসি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অনুপাত অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। পরে দলগুলো নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ????????
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। অতীতে এই সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে, যাতে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে অনেক নতুন নারী নেত্রী জাতীয় পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পান এবং পরবর্তীতে সাধারণ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। সব ধাপ শেষ হলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের সহযোগিতা থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমকে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আরেকটি ধাপ এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থীদের কাগজপত্র পরীক্ষা করে বৈধতা নিশ্চিত করবে Bangladesh Election Commission (ইসি)।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার দুপুর ২টা থেকে এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ধারাবাহিকভাবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এই কার্যক্রম রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত Election Commission Secretariat Bangladesh ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের উপস্থিতিতে কাগজপত্র মিলিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন-২০২৬-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হবে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের জমা দেওয়া তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দলীয় মনোনয়নসহ সব বিষয় খুঁটিয়ে দেখা হবে। কোনো প্রার্থীর কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে—এমনটিও জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরির আগে একটি নির্ভুল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ইসি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অনুপাত অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। পরে দলগুলো নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ????????
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। অতীতে এই সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে, যাতে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে অনেক নতুন নারী নেত্রী জাতীয় পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পান এবং পরবর্তীতে সাধারণ আসন থেকেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল বা প্রয়োজনীয় অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। সব ধাপ শেষ হলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের সহযোগিতা থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে শেষ করা সম্ভব হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমকে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আরেকটি ধাপ এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

আপনার মতামত লিখুন