নিজস্ব প্রতিবেদক, সখীপুর: টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে আটকের পর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরলেও মাদকের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শীলা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে তুফান মিয়া নামক এক যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সখীপুর থানা পুলিশের এসআই মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য এই বিশেষ অভিযানে সহযোগিতা করেন। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অভিযুক্ত যুবক মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে সাজাপ্রাপ্ত তুফান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ছোটখাটো এবং তাৎক্ষণিক প্রমাণযোগ্য অপরাধ দমনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই কার্যকর ভূমিকা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানিং মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তুফান মিয়ার সাজার মধ্য দিয়ে এলাকার অন্য মাদকসেবীদের কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
১ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অপরিচিত কিছু মানুষের আনাগোনা বেড়েছিল। মাদক সেবন ও বিক্রির স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত এমন অভিযান চালানো হলে এলাকা কলঙ্কমুক্ত হবে। আমরা প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মাদক সেবন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে কেবল কারাদণ্ড বা জেল-জরিমানাই এই সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়। তরুণদের এই মরণনেশা থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক সচেতনতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি যারা ইতিমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য সঠিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য।
সখীপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। উপজেলার কোনো এলাকাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা গড়তে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ডও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
তুফান মিয়ার কারাদণ্ডের মধ্য দিয়ে সখীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি পর্যায় দৃশ্যমান হলো। এলাকার নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয় : টাঙ্গাইলের সেবনের কারাগারে

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, সখীপুর: টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে আটকের পর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরলেও মাদকের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সখীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার শীলা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে তুফান মিয়া নামক এক যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সখীপুর থানা পুলিশের এসআই মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য এই বিশেষ অভিযানে সহযোগিতা করেন। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অভিযুক্ত যুবক মাদক সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে সাজাপ্রাপ্ত তুফান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ছোটখাটো এবং তাৎক্ষণিক প্রমাণযোগ্য অপরাধ দমনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই কার্যকর ভূমিকা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইদানিং মাদক সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তুফান মিয়ার সাজার মধ্য দিয়ে এলাকার অন্য মাদকসেবীদের কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
১ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে অপরিচিত কিছু মানুষের আনাগোনা বেড়েছিল। মাদক সেবন ও বিক্রির স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত এমন অভিযান চালানো হলে এলাকা কলঙ্কমুক্ত হবে। আমরা প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মাদক সেবন একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে কেবল কারাদণ্ড বা জেল-জরিমানাই এই সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়। তরুণদের এই মরণনেশা থেকে দূরে রাখতে পারিবারিক সচেতনতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি যারা ইতিমধ্যে আসক্ত হয়ে পড়েছেন, তাদের জন্য সঠিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য।
সখীপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। উপজেলার কোনো এলাকাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা গড়তে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ডও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
তুফান মিয়ার কারাদণ্ডের মধ্য দিয়ে সখীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি পর্যায় দৃশ্যমান হলো। এলাকার নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন