শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পানি সরে যাওয়ার পর সেতুটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ঝুলন্ত সেতুতে চলাচলের জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো টিকিটের টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
আলোক বিকাশ চাকমা জানান, সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়ার পর পর্যটকদের কাছ থেকে আবার সেতুতে প্রবেশের টিকিটের টাকা নেওয়া হবে।
অর্থাৎ সেতুটি পানির ওপর থেকে দৃশ্যমান হলেও পর্যটকদের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনো কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বর্তমানে সেতুর সংস্কারকাজও চলছে।
এর আগে ২৯ আগস্ট কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। একই সময়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওইদিন দুপুর থেকেই ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
হ্রদের পানি কমাতে ২৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে কর্ণফুলী নদীতে পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছিল।
পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বাঁধের ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এরপর ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানি নিষ্কাশনের এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করে।
দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এই সেতু রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। জলপথ ও স্থলপথ—দুইভাবেই এখানে যাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত। তাই টানা ছয়দিন পানির নিচে থাকার পর সেতুটি আবার দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি জেলার পরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। অতিবৃষ্টিতে সেতুটি ডুবে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পানি সরে যাওয়ার খবর পর্যটনপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: সেতু ভেসে ওঠার পর পর্যটকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে পারে। তবে সংস্কারকাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরই পর্যটকদের সেখানে যাওয়াই নিরাপদ হবে।

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানান, পানি সরে যাওয়ার পর সেতুটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ঝুলন্ত সেতুতে চলাচলের জন্য পর্যটকদের কাছ থেকে কোনো টিকিটের টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
আলোক বিকাশ চাকমা জানান, সেতু থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাওয়ার পর পর্যটকদের কাছ থেকে আবার সেতুতে প্রবেশের টিকিটের টাকা নেওয়া হবে।
অর্থাৎ সেতুটি পানির ওপর থেকে দৃশ্যমান হলেও পর্যটকদের চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনো কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বর্তমানে সেতুর সংস্কারকাজও চলছে।
এর আগে ২৯ আগস্ট কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। একই সময়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকাও প্লাবিত হয়।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওইদিন দুপুর থেকেই ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
হ্রদের পানি কমাতে ২৯ আগস্ট রাত ৮টার দিকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে কর্ণফুলী নদীতে পানি ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছিল।
পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বাঁধের ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। এরপর ৩০ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পানি নিষ্কাশনের এ কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলার তবলছড়ি এলাকায় পর্যটন করপোরেশন ১৯৮৬ সালে ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণ করে।
দুই পাহাড়ের মাঝখানে দুটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন এই সেতু রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। জলপথ ও স্থলপথ—দুইভাবেই এখানে যাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সেতুটি ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত। তাই টানা ছয়দিন পানির নিচে থাকার পর সেতুটি আবার দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক:
রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি জেলার পরিচয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। অতিবৃষ্টিতে সেতুটি ডুবে যাওয়ায় পর্যটন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পানি সরে যাওয়ার খবর পর্যটনপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ: সেতু ভেসে ওঠার পর পর্যটকদের আগ্রহ দ্রুত বাড়তে পারে। তবে সংস্কারকাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরই পর্যটকদের সেখানে যাওয়াই নিরাপদ হবে।

আপনার মতামত লিখুন