ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদলের দুই কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া–নবীনগর সড়কের নারুই এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি (৩২) এবং শ্রীরামপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মাহিম খন্দকার (২৬)। তারা দুজনই স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদল নেতা ইয়াছিন আরাফাত রিমনসহ আরও দুইজন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে নারুই ব্রিজের সামনে দুটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে আসার সময় হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে দুই মোটরসাইকেলে থাকা পাঁচজনই রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. সিফাত জানান, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় যাদের আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদলের নেতারা। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত দুজনই সংগঠনের নিবেদিত কর্মী ছিলেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। তাদের মৃত্যুতে সংগঠনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–নবীনগর সড়কের নারুই ব্রিজ এলাকা আগে থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এই সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যান চলাচল দেখা যায়, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা—এই তিনটি কারণই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তাই সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল দেশের একটি বড় রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংগঠনের সক্রিয় দুই কর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিষয় : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুখোমুখি ছাত্রদলকর্মী আহত ৩

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদলের দুই কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া–নবীনগর সড়কের নারুই এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. রাব্বি (৩২) এবং শ্রীরামপুর এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে মাহিম খন্দকার (২৬)। তারা দুজনই স্থানীয়ভাবে সক্রিয় ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদল নেতা ইয়াছিন আরাফাত রিমনসহ আরও দুইজন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে নারুই ব্রিজের সামনে দুটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে আসার সময় হঠাৎ মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই তীব্র ছিল যে দুই মোটরসাইকেলে থাকা পাঁচজনই রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. সিফাত জানান, দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় যাদের আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে দুইজনকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদলের নেতারা। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত দুজনই সংগঠনের নিবেদিত কর্মী ছিলেন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। তাদের মৃত্যুতে সংগঠনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–নবীনগর সড়কের নারুই ব্রিজ এলাকা আগে থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এই সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যান চলাচল দেখা যায়, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন সড়ক নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা—এই তিনটি কারণই বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তাই সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে ছাত্রদল দেশের একটি বড় রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সংগঠনের সক্রিয় দুই কর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন