দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ কাঁপাল তামিলনাড়ু, তদন্তে নেমেছে চার বিশেষ দল

আইএমএফের শর্তে চাপ, ঝুলে যেতে পারে ঋণের পরবর্তী কিস্তি

পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, নতুন আশা দেখছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার সম্ভাবনা, ব্যর্থ হলে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম, টঙ্গীতে মানববন্ধনে উত্তাল গণমাধ্যমকর্মীরা

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের প্রভাব ছিল—দাবি কমলা হ্যারিসের

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি
-ছবি: সংগৃহীত

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তথ্য জানায়। তবে হামলায় জাহাজটির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান, মার্কিন নৌবাহিনী উপসাগর এলাকায় ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে। তার এই ঘোষণার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং তারা এই ঘটনার জবাব দেবে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর ওই পদক্ষেপ ছিল “সশস্ত্র জলদস্যুতা”র মতো। এর প্রতিক্রিয়ায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। প্রতিদিন বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। তাই এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। 

সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে যাচ্ছেন আলোচনার জন্য। এই আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ছাড়াও ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জারেদ কুশনার থাকবেন বলে জানা গেছে। তারা আগের আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার বিষয়ে যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বৈত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন সবাই নজর রাখছে—আলোচনার মাধ্যমে সংকট কমবে, নাকি নতুন করে সংঘাত আরও বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম সোমবার (২০ এপ্রিল) এ তথ্য জানায়। তবে হামলায় জাহাজটির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান, মার্কিন নৌবাহিনী উপসাগর এলাকায় ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক করেছে। তার এই ঘোষণার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং তারা এই ঘটনার জবাব দেবে।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর ওই পদক্ষেপ ছিল “সশস্ত্র জলদস্যুতা”র মতো। এর প্রতিক্রিয়ায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে তাসনিমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আবারও নতুন করে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণাও দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। প্রতিদিন বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। তাই এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। 

সংঘাত কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে যাচ্ছেন আলোচনার জন্য। এই আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ছাড়াও ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জারেদ কুশনার থাকবেন বলে জানা গেছে। তারা আগের আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা আলোচনার বিষয়ে যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সামরিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার এই দ্বৈত পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন সবাই নজর রাখছে—আলোচনার মাধ্যমে সংকট কমবে, নাকি নতুন করে সংঘাত আরও বাড়বে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর