দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ইস্যুতে আরব লীগের জরুরি বৈঠক, উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইরান ইস্যুতে আরব লীগের জরুরি বৈঠক, উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

আলোচনার মাঝেও কঠোর বার্তা তেহরানের: ‘হাত ট্রিগারেই’, সর্বোচ্চ প্রস্তুত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

ট্রাম্পের একক যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটে আবার ভোট চান ডেমোক্রেটরা

জম্মু-কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৬, গুরুতর আহত বহু

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ কাঁপাল তামিলনাড়ু, তদন্তে নেমেছে চার বিশেষ দল

আইএমএফের শর্তে চাপ, ঝুলে যেতে পারে ঋণের পরবর্তী কিস্তি

পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, নতুন আশা দেখছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

আলোচনার মাঝেও কঠোর বার্তা তেহরানের: ‘হাত ট্রিগারেই’, সর্বোচ্চ প্রস্তুত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

আলোচনার মাঝেও কঠোর বার্তা তেহরানের: ‘হাত ট্রিগারেই’, সর্বোচ্চ প্রস্তুত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী
-ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কূটনীতি চললেও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না। দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেছেন, ইরানের “হাত এখনো ট্রিগারেই রয়েছে” এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় আছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, ইরান একই সঙ্গে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে।

মোহাজেরানি বলেন, বর্তমানে ইরানের সামনে দুটি পথ রয়েছে—একটি যুদ্ধের, অন্যটি কূটনীতির। তবে আলোচনা চললেও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এক মুহূর্তের জন্যও শিথিল করা হয়নি। তার মতে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য দেশের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার হতে চায় না। কিন্তু যদি দেশটির ওপর নতুন করে আক্রমণ চালানো হয়, তাহলে তার জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, আলোচনায় অংশ নেওয়া মানেই দুর্বল অবস্থান নয়।

ইরানের এই অবস্থানের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে মতবিরোধ চলছে। ২০১৫ সালে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার ঘটনাও ইরানকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করেছে। ইরান প্রায়ই অভিযোগ করে আসছে, তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। এসব কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মোহাজেরানি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, আলোচক দল জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না। দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতিও তুলে ধরেছে। এটি মূলত একটি কৌশলগত বার্তা, যাতে আন্তর্জাতিক মহল বুঝতে পারে—ইরান আলোচনা চায়, কিন্তু চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একই সঙ্গে সতর্ক ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা এগোবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার রেখে তেহরান যে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে—তা তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


আলোচনার মাঝেও কঠোর বার্তা তেহরানের: ‘হাত ট্রিগারেই’, সর্বোচ্চ প্রস্তুত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কূটনীতি চললেও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না। দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেছেন, ইরানের “হাত এখনো ট্রিগারেই রয়েছে” এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় আছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, আলোচনার পথ খোলা থাকলেও দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হবে না। তার ভাষায়, ইরান একই সঙ্গে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা—দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে।

মোহাজেরানি বলেন, বর্তমানে ইরানের সামনে দুটি পথ রয়েছে—একটি যুদ্ধের, অন্যটি কূটনীতির। তবে আলোচনা চললেও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এক মুহূর্তের জন্যও শিথিল করা হয়নি। তার মতে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য দেশের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার হতে চায় না। কিন্তু যদি দেশটির ওপর নতুন করে আক্রমণ চালানো হয়, তাহলে তার জবাব আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন যে, আলোচনায় অংশ নেওয়া মানেই দুর্বল অবস্থান নয়।

ইরানের এই অবস্থানের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক। বিশেষ করে পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে মতবিরোধ চলছে। ২০১৫ সালে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার ঘটনাও ইরানকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করেছে। ইরান প্রায়ই অভিযোগ করে আসছে, তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। এসব কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মোহাজেরানি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, আলোচক দল জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না। দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান একদিকে যেমন আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতিও তুলে ধরেছে। এটি মূলত একটি কৌশলগত বার্তা, যাতে আন্তর্জাতিক মহল বুঝতে পারে—ইরান আলোচনা চায়, কিন্তু চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একই সঙ্গে সতর্ক ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা এগোবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার রেখে তেহরান যে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে—তা তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই পরিষ্কার।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর