দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জম্মু-কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৬, গুরুতর আহত বহু

জম্মু-কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৬, গুরুতর আহত বহু

ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার দাবি

আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ কাঁপাল তামিলনাড়ু, তদন্তে নেমেছে চার বিশেষ দল

আইএমএফের শর্তে চাপ, ঝুলে যেতে পারে ঋণের পরবর্তী কিস্তি

পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধি দল, নতুন আশা দেখছে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার সম্ভাবনা, ব্যর্থ হলে হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের

চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম, টঙ্গীতে মানববন্ধনে উত্তাল গণমাধ্যমকর্মীরা

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের প্রভাব ছিল—দাবি কমলা হ্যারিসের

জম্মু-কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৬, গুরুতর আহত বহু

জম্মু-কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৬, গুরুতর আহত বহু
-ছবি: সংগৃহীত

ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১০টার দিকে রামনগর এলাকার কাগোর্ট গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি যাত্রীবাহী বাস প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উধমপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে পাহাড়ি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানো সহজ না হলেও তারা ঝুঁকি নিয়েই আহতদের উদ্ধার করতে থাকেন। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

কর্মকর্তারা জানান, বাসটির ধ্বংসাবশেষ থেকে মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্তত ২০ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মিরের পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সরু ও বাঁকানো সড়ক, গভীর খাদ এবং অনেক জায়গায় দুর্বল সড়ক অবকাঠামো—এসব কারণে যান চলাচল সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এর আগেও উধমপুর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় একাধিক বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই দুর্ঘটনা আবারও পাহাড়ি সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের শোক ও আহতদের সুস্থতা ঘিরে উদ্বেগ এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


জম্মু-কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ১৬, গুরুতর আহত বহু

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ভারতের জম্মু ও কাশ্মিরে পাহাড়ি সড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল প্রায় ১০টার দিকে রামনগর এলাকার কাগোর্ট গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি যাত্রীবাহী বাস প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উধমপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে পাহাড়ি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানো সহজ না হলেও তারা ঝুঁকি নিয়েই আহতদের উদ্ধার করতে থাকেন। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

কর্মকর্তারা জানান, বাসটির ধ্বংসাবশেষ থেকে মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্তত ২০ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মিরের পাহাড়ি এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সরু ও বাঁকানো সড়ক, গভীর খাদ এবং অনেক জায়গায় দুর্বল সড়ক অবকাঠামো—এসব কারণে যান চলাচল সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম বা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এর আগেও উধমপুর ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় একাধিক বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের সড়ক নিরাপত্তা উন্নত করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এই দুর্ঘটনা আবারও পাহাড়ি সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের শোক ও আহতদের সুস্থতা ঘিরে উদ্বেগ এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর