নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ যথাযথভাবে উদ্বোধন ও উদযাপন করা হয়েছে। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের জন্য পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবার ও সমাজ পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সাপাহারের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনিরুজ্জামান টকি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওহেদুল্লাহ প্রামানিক। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন।
অন্যদিকে, একই উপলক্ষে নওগাঁর পোরশা উপজেলাতেও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে পুষ্টির গুরুত্ব, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পোরশার অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কারিতাসের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, অপুষ্টি একটি বড় সামাজিক সমস্যা, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রতিটি পরিবারকে সুষম খাদ্যের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস থেকে দূরে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বাল্যবিবাহ ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যাগুলোও পুষ্টির ওপর প্রভাব ফেলে। এসব থেকে দূরে থাকলে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালন করা হয় জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশে অপুষ্টির হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে এখনো গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্য বলতে শুধু ভাত বা প্রধান খাবার নয়, বরং শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, দুধসহ সব ধরনের পুষ্টিকর উপাদান থাকা প্রয়োজন। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক কারণে নয়, বরং অজ্ঞতার কারণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে না।
এছাড়া জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং গবেষণার মাধ্যমে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত হলে মানুষ আরও সচেতন হবে। বিশেষ করে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সাপাহার ও পোরশায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সবল এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : নওগাঁর পুষ্টি বৈষম্য

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ যথাযথভাবে উদ্বোধন ও উদযাপন করা হয়েছে। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের জন্য পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। তারা বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পরিবার ও সমাজ পর্যায়েও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
সাপাহারের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মুনিরুজ্জামান টকি, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওহেদুল্লাহ প্রামানিক। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন।
অন্যদিকে, একই উপলক্ষে নওগাঁর পোরশা উপজেলাতেও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে পুষ্টির গুরুত্ব, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পোরশার অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কারিতাসের জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, অপুষ্টি একটি বড় সামাজিক সমস্যা, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রতিটি পরিবারকে সুষম খাদ্যের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস থেকে দূরে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বাল্যবিবাহ ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যাগুলোও পুষ্টির ওপর প্রভাব ফেলে। এসব থেকে দূরে থাকলে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালন করা হয় জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে। সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশে অপুষ্টির হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে এখনো গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে, যা দূর করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্য বলতে শুধু ভাত বা প্রধান খাবার নয়, বরং শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, দুধসহ সব ধরনের পুষ্টিকর উপাদান থাকা প্রয়োজন। অনেক পরিবার অর্থনৈতিক কারণে নয়, বরং অজ্ঞতার কারণে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে না।
এছাড়া জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং গবেষণার মাধ্যমে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত হলে মানুষ আরও সচেতন হবে। বিশেষ করে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সাপাহার ও পোরশায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সবল এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন