দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৫১৬

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১ হাজার ৫১৬

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,০২৬ জন

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২০

হামের চিকিৎসার পর ডেঙ্গু শনাক্ত, রাজশাহীতে দেড় বছরের শিশু তাইবার মৃত্যু

হামে ৬০০ শিশুর মৃত্যু: খালি হচ্ছে মায়ের কোল, থামছে না সংক্রমণ

দেশে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে হাম, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ মৃত্যু; আক্রান্ত প্রায় ৬৮ হাজার

হাম প্রতিরোধে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা, অর্জনের হার ১২২ শতাংশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢামেক শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট চরমে, এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে পাঁচ শিশু

শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: রাণীনগরে ভেজাল জুস কারখানা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: রাণীনগরে ভেজাল জুস কারখানা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত
-ফাইল ফটো

ওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় একটি নকল জুস তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে উপজেলার হরিশপুর এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৮ বস্তা ভেজাল জুস উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ভেজাল জুস তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। রাণীনগরের এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাবিলা ইয়াসমিন নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন।


অভিযানের সময় কারখানায় ঢুকে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে জুস তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রায় ৭ বস্তা প্রস্তুত জুস এবং আরও ১ বস্তা ছড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ বস্তা ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়। পরে জনসম্মুখে এসব জুস ধ্বংস করা হয়, যাতে এগুলো আর বাজারে ফিরে যেতে না পারে।

এ সময় কারখানার মালিক মঈনু আলী উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী লাইলী খাতুনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কারখানাটি বহু বছর ধরে এলাকায় নকল জুস উৎপাদন করে আসছিল। আগেও একাধিকবার জরিমানা করা হলেও কোনোভাবে প্রভাব খাটিয়ে তারা আবার ব্যবসা শুরু করতেন। এতে করে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছিল।

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, এসব জুস খাওয়ার পর শিশুদের পেটের সমস্যা, জ্বর বা অন্যান্য অসুস্থতার ঘটনা ঘটত। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে কারখানার লোকজন উল্টো ভয়ভীতি দেখাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসিল্যান্ড নাবিলা ইয়াসমিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।


তিনি অভিভাবকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাইরে থেকে কেনা রঙিন বা আকর্ষণীয় প্যাকেটজাত জুসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলেন। কারণ, অনেক সময় এসব পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল জুস তৈরিতে অনেক সময় কাপড়ের রং, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাণীনগরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে আগে থেকেও ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি থাকলেও কিছু অসাধু চক্র সুযোগ পেলেই আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তাই সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে, স্থানীয়রা প্রশাসনের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে ভেজাল পণ্যের পরিমাণ কমে আসবে এবং মানুষ নিরাপদ খাদ্য পাবে।

রাণীনগরের এই অভিযান শুধু একটি কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়—এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এমন অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।

বিষয় : শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কারখানা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি: রাণীনগরে ভেজাল জুস কারখানা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় একটি নকল জুস তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার দুপুরে উপজেলার হরিশপুর এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৮ বস্তা ভেজাল জুস উদ্ধার করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ভেজাল জুস তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল এমন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। রাণীনগরের এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাবিলা ইয়াসমিন নিজে উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন।


অভিযানের সময় কারখানায় ঢুকে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে জুস তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রায় ৭ বস্তা প্রস্তুত জুস এবং আরও ১ বস্তা ছড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ বস্তা ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়। পরে জনসম্মুখে এসব জুস ধ্বংস করা হয়, যাতে এগুলো আর বাজারে ফিরে যেতে না পারে।

এ সময় কারখানার মালিক মঈনু আলী উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী লাইলী খাতুনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কারখানাটি বহু বছর ধরে এলাকায় নকল জুস উৎপাদন করে আসছিল। আগেও একাধিকবার জরিমানা করা হলেও কোনোভাবে প্রভাব খাটিয়ে তারা আবার ব্যবসা শুরু করতেন। এতে করে এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছিল।

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, এসব জুস খাওয়ার পর শিশুদের পেটের সমস্যা, জ্বর বা অন্যান্য অসুস্থতার ঘটনা ঘটত। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে কারখানার লোকজন উল্টো ভয়ভীতি দেখাত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসিল্যান্ড নাবিলা ইয়াসমিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।


তিনি অভিভাবকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাইরে থেকে কেনা রঙিন বা আকর্ষণীয় প্যাকেটজাত জুসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলেন। কারণ, অনেক সময় এসব পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে নকল খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বারবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল জুস তৈরিতে অনেক সময় কাপড়ের রং, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন অঙ্গের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাণীনগরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে আগে থেকেও ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি থাকলেও কিছু অসাধু চক্র সুযোগ পেলেই আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তাই সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


এদিকে, স্থানীয়রা প্রশাসনের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বাজারে ভেজাল পণ্যের পরিমাণ কমে আসবে এবং মানুষ নিরাপদ খাদ্য পাবে।

রাণীনগরের এই অভিযান শুধু একটি কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়—এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এমন অবৈধ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর