গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার (ভোর সাড়ে ৫টার দিকে) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের এক পাশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে, এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি ঢাকার মুন্সীগঞ্জ থেকে সিমেন্ট বোঝাই করে টাঙ্গাইলের দিকে যাচ্ছিল। পথে কালিয়াকৈরের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির সামনের একটি চাকা হঠাৎ ব্লাস্ট হয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। ফলে মহাসড়কের চন্দ্রাগামী লেনে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর সকালজুড়ে মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, পরিবহন চালক এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার চেষ্টা করলেও পুরো এলাকায় ধীরগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে সকাল ১০টার দিকে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা মহাসড়কের সার্ভিস লাইন ব্যবহার করে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নিতে উদ্ধার কাজ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, মহাসড়ক থেকে উল্টে থাকা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে, কারণ ট্রাকটিতে প্রচুর পরিমাণে সিমেন্ট বোঝাই ছিল। তাই নিরাপদভাবে ট্রাক ও মালামাল সরাতে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে।
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত একটি সড়ক। প্রতিদিন এই পথে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই মহাসড়কের যেকোনো দুর্ঘটনা দ্রুতই বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি করে। এর আগে বিভিন্ন সময় একই এলাকায় ভারী যানবাহনের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপথে চলাচলকারী ভারী ট্রাকগুলোর নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা না করা হলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে চাকা ব্লাস্টের মতো ঘটনা প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মহাসড়কে ওঠার আগে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ট্রাকটি দ্রুত সরিয়ে পুরো মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে চালকদের আরও সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—ব্যস্ত মহাসড়কে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সতর্ক চালনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য এসব বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বুধবার (ভোর সাড়ে ৫টার দিকে) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ট্রাকের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়কের এক পাশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে, এতে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ বাড়ে।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি ঢাকার মুন্সীগঞ্জ থেকে সিমেন্ট বোঝাই করে টাঙ্গাইলের দিকে যাচ্ছিল। পথে কালিয়াকৈরের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির সামনের একটি চাকা হঠাৎ ব্লাস্ট হয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়। ফলে মহাসড়কের চন্দ্রাগামী লেনে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর সকালজুড়ে মহাসড়কের ওই অংশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, পরিবহন চালক এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার চেষ্টা করলেও পুরো এলাকায় ধীরগতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরে সকাল ১০টার দিকে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা মহাসড়কের সার্ভিস লাইন ব্যবহার করে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নিতে উদ্ধার কাজ শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, মহাসড়ক থেকে উল্টে থাকা ট্রাকটি সরিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগছে, কারণ ট্রাকটিতে প্রচুর পরিমাণে সিমেন্ট বোঝাই ছিল। তাই নিরাপদভাবে ট্রাক ও মালামাল সরাতে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে।
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত একটি সড়ক। প্রতিদিন এই পথে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে এই মহাসড়কের যেকোনো দুর্ঘটনা দ্রুতই বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি করে। এর আগে বিভিন্ন সময় একই এলাকায় ভারী যানবাহনের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘপথে চলাচলকারী ভারী ট্রাকগুলোর নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা না করা হলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে চাকা ব্লাস্টের মতো ঘটনা প্রায়ই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মহাসড়কে ওঠার আগে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ট্রাকটি দ্রুত সরিয়ে পুরো মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। একই সঙ্গে চালকদের আরও সতর্ক হয়ে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—ব্যস্ত মহাসড়কে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সতর্ক চালনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য এসব বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন