দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ক্রিকেট, সংস্কৃতি আর ঈদ পুনর্মিলনীতে মুখর মণিরামপুর

ক্রিকেট, সংস্কৃতি আর ঈদ পুনর্মিলনীতে মুখর মণিরামপুর

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে কেন তারকা পেসারদের ছাড়াই আসছে? কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের ব্যাখ্যা

বিসিবি নির্বাচন ২০২৬: বিএনপি নেতা-স্বজন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বিরাট কোহলি-ট্রাভিস হেড দ্বন্দ্বে উত্তাল আইপিএল, ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকও করলেন না কোহলি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা | ICC Women’s T20 World Cup 2026

সিলেট টেস্টে শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের দ্বারপ্রান্তে, পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান

চার বিশ্বকাপের বিরল কীর্তিতে নেইমার, পেলে-রোনালদোদের অভিজাত তালিকায় নতুন নাম

দিল্লির আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আফগান পেসার শাপুর জাদরান

দিল্লির আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আফগান পেসার শাপুর জাদরান
-ছবি: সংগৃহীত

Shapoor Zadran—আফগানিস্তানের সাবেক বাঁহাতি পেসার—বর্তমানে ভারতের রাজধানী New Delhi-এর একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন। বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ Hemophagocytic Lymphohistiocytosis (এইচএলএইচ)-এ আক্রান্ত হয়ে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য খবরটি গভীর উদ্বেগের।

আগামী জুলাইয়ে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই সাবেক পেসার বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগটি তার শরীরে চতুর্থ স্তরে পৌঁছেছে। ফলে তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে এবং শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ সময় তিনি ঘুমিয়ে থাকছেন এবং খুব কম কথা বলতে পারছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার শাপুর একসময় তার লম্বা চুল, শক্তিশালী শরীর আর আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য মাঠে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুর সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার ছিলেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনি আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন—যার মধ্যে ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে।

শাপুরের ছোট ভাই গামাই জাদরান জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর থেকেই তিনি অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেন Rashid Khan এবং Mirwais Ashraf। তারা ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা Jay Shah-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর ফলে দ্রুত ভিসা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি তিনি ভারতে পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সাবেক সতীর্থ Asghar Afghan। পরে কানাডা থেকে তার ভাই গামাই এসে যোগ দেন।

প্রথমদিকে তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। এমনকি যক্ষ্মা ধরা পড়ে, যা মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে হাসপাতাল থেকে কাছের একটি হোটেলে রাখা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এর মধ্যেই আবার ডেঙ্গু ধরা পড়ে, যা তার দুর্বল শরীরকে আরও বিপদে ফেলে।

রমজানের শেষ দিকে অস্থিমজ্জা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, তিনি এইচএলএইচ রোগের চতুর্থ স্তরে পৌঁছে গেছেন। এই রোগ সাধারণত খুব বিরল এবং দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন। চিকিৎসকরা জানান, এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে নিজ শরীরের অঙ্গগুলোতেই ক্ষতি করতে শুরু করে—যেমন অস্থিমজ্জা, যকৃত, প্লীহা ও লসিকাগ্রন্থি।

এই কঠিন সময়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট পরিবার তার পাশে দাঁড়িয়েছে। Hasmatullah Shahidi-সহ দলের অনেক ক্রিকেটার তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। পাকিস্তানের সাবেক তারকা Shahid Afridi-ও যোগাযোগ করেছেন। এমনকি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট Hamid Karzai-ও তার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, Afghanistan Cricket Board গত এক দশকে দেশটির ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থানে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই পথচলার শুরুতে যারা মাঠে লড়েছেন, শাপুর তাদের অন্যতম। তার বোলিং পারফরম্যান্স বহু ম্যাচে দলকে এগিয়ে দিয়েছে এবং তরুণ পেসারদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বর্তমানে অসুস্থতার কারণে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে। চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে বড় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের দায়িত্বও তিনি বহন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসায় দেওয়া কিছু ওষুধে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই, যা পরিবারকে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্বের প্রার্থনা এখন একটাই—শাপুর যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তার সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছে অসংখ্য ভক্ত ও সতীর্থ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


দিল্লির আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আফগান পেসার শাপুর জাদরান

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

Shapoor Zadran—আফগানিস্তানের সাবেক বাঁহাতি পেসার—বর্তমানে ভারতের রাজধানী New Delhi-এর একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন। বিরল ও প্রাণঘাতী রোগ Hemophagocytic Lymphohistiocytosis (এইচএলএইচ)-এ আক্রান্ত হয়ে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য খবরটি গভীর উদ্বেগের।

আগামী জুলাইয়ে ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই সাবেক পেসার বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগটি তার শরীরে চতুর্থ স্তরে পৌঁছেছে। ফলে তার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে এবং শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ সময় তিনি ঘুমিয়ে থাকছেন এবং খুব কম কথা বলতে পারছেন।

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার শাপুর একসময় তার লম্বা চুল, শক্তিশালী শরীর আর আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের জন্য মাঠে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শুরুর সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার ছিলেন তিনি। ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনি আফগানিস্তানের হয়ে ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন—যার মধ্যে ৪৪টি ওয়ানডে ও ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে।

শাপুরের ছোট ভাই গামাই জাদরান জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর থেকেই তিনি অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করেন। পরে আফগানিস্তানের চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেন Rashid Khan এবং Mirwais Ashraf। তারা ভারতের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা Jay Shah-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর ফলে দ্রুত ভিসা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

গত ১৮ জানুয়ারি তিনি ভারতে পৌঁছে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সাবেক সতীর্থ Asghar Afghan। পরে কানাডা থেকে তার ভাই গামাই এসে যোগ দেন।

প্রথমদিকে তার শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। এমনকি যক্ষ্মা ধরা পড়ে, যা মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে হাসপাতাল থেকে কাছের একটি হোটেলে রাখা হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এর মধ্যেই আবার ডেঙ্গু ধরা পড়ে, যা তার দুর্বল শরীরকে আরও বিপদে ফেলে।

রমজানের শেষ দিকে অস্থিমজ্জা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, তিনি এইচএলএইচ রোগের চতুর্থ স্তরে পৌঁছে গেছেন। এই রোগ সাধারণত খুব বিরল এবং দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন। চিকিৎসকরা জানান, এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে নিজ শরীরের অঙ্গগুলোতেই ক্ষতি করতে শুরু করে—যেমন অস্থিমজ্জা, যকৃত, প্লীহা ও লসিকাগ্রন্থি।

এই কঠিন সময়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট পরিবার তার পাশে দাঁড়িয়েছে। Hasmatullah Shahidi-সহ দলের অনেক ক্রিকেটার তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। পাকিস্তানের সাবেক তারকা Shahid Afridi-ও যোগাযোগ করেছেন। এমনকি আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট Hamid Karzai-ও তার সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, Afghanistan Cricket Board গত এক দশকে দেশটির ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থানে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই পথচলার শুরুতে যারা মাঠে লড়েছেন, শাপুর তাদের অন্যতম। তার বোলিং পারফরম্যান্স বহু ম্যাচে দলকে এগিয়ে দিয়েছে এবং তরুণ পেসারদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

বর্তমানে অসুস্থতার কারণে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে। চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে বড় হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের দায়িত্বও তিনি বহন করে আসছিলেন। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসায় দেওয়া কিছু ওষুধে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন তার ভাই, যা পরিবারকে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্বের প্রার্থনা এখন একটাই—শাপুর যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। তার সুস্থতার অপেক্ষায় রয়েছে অসংখ্য ভক্ত ও সতীর্থ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর