দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ক্রিকেট, সংস্কৃতি আর ঈদ পুনর্মিলনীতে মুখর মণিরামপুর

ক্রিকেট, সংস্কৃতি আর ঈদ পুনর্মিলনীতে মুখর মণিরামপুর

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে কেন তারকা পেসারদের ছাড়াই আসছে? কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের ব্যাখ্যা

বিসিবি নির্বাচন ২০২৬: বিএনপি নেতা-স্বজন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বিরাট কোহলি-ট্রাভিস হেড দ্বন্দ্বে উত্তাল আইপিএল, ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকও করলেন না কোহলি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা | ICC Women’s T20 World Cup 2026

সিলেট টেস্টে শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের দ্বারপ্রান্তে, পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান

চার বিশ্বকাপের বিরল কীর্তিতে নেইমার, পেলে-রোনালদোদের অভিজাত তালিকায় নতুন নাম

ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় সুখবর: ভাতা কর্মসূচিতে আরও ১৭১ জন, মোট সুবিধাভোগী ৩০০

ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় সুখবর: ভাতা কর্মসূচিতে আরও ১৭১ জন, মোট সুবিধাভোগী ৩০০
-ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার আলো জ্বলছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার বাস্তবতা কাটিয়ে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া সরকারি ভাতা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও ১৭১ জন খেলোয়াড়। ফলে এই সুবিধার আওতায় মোট ক্রীড়াবিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে, যা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভাতা ও কার্ড বিতরণ

রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের হাতে এক লাখ টাকা করে ভাতা এবং বিশেষ ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকার চায় দেশের তরুণরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে উৎসাহ পায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হোক—এমন লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ফুটবল খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ

দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরুষ ও নারী জাতীয় ফুটবল দলের মোট ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই দাবির একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে করে খেলোয়াড়দের পেশাগত স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে খেলার দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন।

একজন ক্রীড়া সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফুটবলসহ অন্যান্য খেলায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আর্থিক সমস্যার কারণে পিছিয়ে পড়তেন। এই উদ্যোগ তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”

প্রথমবারের মতো নারী হকি দলের অন্তর্ভুক্তি

এই কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো—প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দলকে এর আওতায় আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় এই সহায়তা তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

জানা গেছে, এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে অংশ নিতে দলটি ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। এমন সময় এই ভাতা তাদের মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন প্রেরণা

শুধু জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাই নন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া তরুণ ক্রীড়াবিদদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বালক দ্বৈত বিভাগে স্বর্ণপদক জয় করা সিফাত উল্লাহ এবং নাজমুল ইসলাম-কে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এমন স্বীকৃতি তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল আনতে অনুপ্রাণিত করবে।

মাসিক ভাতা ও বিশেষ সুবিধা

সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি খেলোয়াড় মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে একটি বিশেষ ক্রীড়া কার্ড, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা সহজ হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে বিভিন্ন খেলায় মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। ফলে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।

পূর্ববর্তী ধাপ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া

এর আগে গত ৩০ মার্চ এই ভাতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ধাপে তখন ১২৯ জন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি চার মাস পরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। এতে করে সক্রিয় ও যোগ্য খেলোয়াড়রাই এই সুবিধা পেতে থাকবেন।

ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তবতা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় মাঝপথে খেলাধুলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিয়মিত ভাতা নিশ্চিত হলে খেলোয়াড়রা ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারবেন।

একজন সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় বলেন, “যদি আমাদের সময় এমন সহায়তা থাকত, তাহলে হয়তো আরও অনেকেই খেলাধুলায় টিকে থাকতে পারত। এখনকার প্রজন্মের জন্য এটি বড় সুযোগ।”

প্রশাসনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে প্রতিভা খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা—সব ক্ষেত্রেই সংস্থাটি কাজ করছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভাতা দিলেই হবে না—এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তারা জানিয়েছেন, ক্রীড়া উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।


ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ভাতা কর্মসূচি চালু থাকলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নতুন প্রতিভা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

একই সঙ্গে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

উপসংহার

সবমিলিয়ে, ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারি ভাতা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ দেশের ক্রীড়া খাতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি আরও খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা যায়, তাহলে এটি কেবল ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া ব্যবস্থাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

বিষয় : খেলোয়াড় ক্রীড়া ভাতা বাংলাদেশ ক্রীড়াবিদ সরকারি সহায়তা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় সুখবর: ভাতা কর্মসূচিতে আরও ১৭১ জন, মোট সুবিধাভোগী ৩০০

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার আলো জ্বলছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার বাস্তবতা কাটিয়ে ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া সরকারি ভাতা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও ১৭১ জন খেলোয়াড়। ফলে এই সুবিধার আওতায় মোট ক্রীড়াবিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে, যা দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভাতা ও কার্ড বিতরণ

রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক নতুন অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের হাতে এক লাখ টাকা করে ভাতা এবং বিশেষ ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকার চায় দেশের তরুণরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে উৎসাহ পায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হোক—এমন লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ফুটবল খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ

দ্বিতীয় ধাপে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরুষ ও নারী জাতীয় ফুটবল দলের মোট ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই দাবির একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এতে করে খেলোয়াড়দের পেশাগত স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে খেলার দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন।

একজন ক্রীড়া সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফুটবলসহ অন্যান্য খেলায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আর্থিক সমস্যার কারণে পিছিয়ে পড়তেন। এই উদ্যোগ তাদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।”

প্রথমবারের মতো নারী হকি দলের অন্তর্ভুক্তি

এই কর্মসূচির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো—প্রথমবারের মতো জাতীয় নারী হকি দলকে এর আওতায় আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় এই সহায়তা তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

জানা গেছে, এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে অংশ নিতে দলটি ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। এমন সময় এই ভাতা তাদের মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন প্রেরণা

শুধু জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাই নন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া তরুণ ক্রীড়াবিদদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে বালক দ্বৈত বিভাগে স্বর্ণপদক জয় করা সিফাত উল্লাহ এবং নাজমুল ইসলাম-কে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এমন স্বীকৃতি তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল আনতে অনুপ্রাণিত করবে।

মাসিক ভাতা ও বিশেষ সুবিধা

সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি খেলোয়াড় মাসিক এক লাখ টাকা ভাতা পাচ্ছেন। পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে একটি বিশেষ ক্রীড়া কার্ড, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা সহজ হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে বিভিন্ন খেলায় মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। ফলে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।

পূর্ববর্তী ধাপ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া

এর আগে গত ৩০ মার্চ এই ভাতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ধাপে তখন ১২৯ জন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি চার মাস পরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। এতে করে সক্রিয় ও যোগ্য খেলোয়াড়রাই এই সুবিধা পেতে থাকবেন।

ক্রীড়াঙ্গনের বাস্তবতা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আর্থিক অনিশ্চয়তা। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় মাঝপথে খেলাধুলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন শুধুমাত্র আর্থিক সংকটের কারণে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নিয়মিত ভাতা নিশ্চিত হলে খেলোয়াড়রা ক্যারিয়ার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারবেন।

একজন সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় বলেন, “যদি আমাদের সময় এমন সহায়তা থাকত, তাহলে হয়তো আরও অনেকেই খেলাধুলায় টিকে থাকতে পারত। এখনকার প্রজন্মের জন্য এটি বড় সুযোগ।”

প্রশাসনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে প্রতিভা খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা—সব ক্ষেত্রেই সংস্থাটি কাজ করছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ভাতা দিলেই হবে না—এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তারা জানিয়েছেন, ক্রীড়া উন্নয়নে ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।


ইতিবাচক প্রভাবের প্রত্যাশা

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ভাতা কর্মসূচি চালু থাকলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নতুন প্রতিভা তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

একই সঙ্গে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

উপসংহার

সবমিলিয়ে, ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারি ভাতা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ দেশের ক্রীড়া খাতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি আরও খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা যায়, তাহলে এটি কেবল ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া ব্যবস্থাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর