দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে চিরচেনা দ্বৈরথ আবারও দেখা গেল। অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের কাছে ৩–০ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দল। শুধু হারই নয়, ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় প্যারাগুয়েতে চলমান টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে।
খেলার শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নামে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। আর্জেন্টিনা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়।
প্রথমার্ধেই ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করেন রিকেলমে। তার এই দুই গোল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেয়। বিরতির আগে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২–০, যা ম্যাচের মোড় অনেকটাই ব্রাজিলের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
বিরতির পর আর্জেন্টিনা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বল দখল ও আক্রমণ বাড়ালেও ব্রাজিলের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে এদুয়ার্দোর আরেকটি গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩–০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
এই জয়ের ফলে ব্রাজিল আগামী নভেম্বরের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল হিসেবে তারা আবারও নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করল।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জন্য এই হার বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চার ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট, তারা এখন গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে তাদের সামনে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। ফলে শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয় না পেলে আর্জেন্টিনার ফাইনাল রাউন্ডে ওঠা এবং বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া ঝুঁকির মুখে পড়বে।
শেষ বাঁশি বাজার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় টোবিয়াস গইতিয়া লাল কার্ড দেখেন। ফলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না, যা দলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল ও ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল–এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়। বয়সভিত্তিক পর্যায়েও এই দ্বৈরথ সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ থাকে।
U-17 পর্যায়েও দুই দলের ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ, আবেগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাটি দক্ষিণ আমেরিকার বয়সভিত্তিক ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসরগুলোর একটি। এখান থেকে শীর্ষ সাতটি দল সরাসরি ২০২৬ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে জায়গা পাবে।
এ কারণে প্রতিটি ম্যাচই দলগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল এই ম্যাচে যেমন নিজেদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, তেমনি আর্জেন্টিনার সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো সহজ পথ নেই।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচ শুধু একটি হার নয়, বরং আর্জেন্টিনা U-17 দলের জন্য বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের নতুন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে চিরচেনা দ্বৈরথ আবারও দেখা গেল। অনূর্ধ্ব-১৭ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের কাছে ৩–০ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দল। শুধু হারই নয়, ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় প্যারাগুয়েতে চলমান টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে।
খেলার শুরু থেকেই ব্রাজিল আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাঠে নামে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্রুত আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। আর্জেন্টিনা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়।
প্রথমার্ধেই ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করেন রিকেলমে। তার এই দুই গোল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেয়। বিরতির আগে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২–০, যা ম্যাচের মোড় অনেকটাই ব্রাজিলের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
বিরতির পর আর্জেন্টিনা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বল দখল ও আক্রমণ বাড়ালেও ব্রাজিলের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে এদুয়ার্দোর আরেকটি গোল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩–০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
এই জয়ের ফলে ব্রাজিল আগামী নভেম্বরের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল হিসেবে তারা আবারও নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করল।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জন্য এই হার বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চার ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট, তারা এখন গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে তাদের সামনে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। ফলে শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয় না পেলে আর্জেন্টিনার ফাইনাল রাউন্ডে ওঠা এবং বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া ঝুঁকির মুখে পড়বে।
শেষ বাঁশি বাজার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় টোবিয়াস গইতিয়া লাল কার্ড দেখেন। ফলে তিনি পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না, যা দলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল ও ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল–এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়। বয়সভিত্তিক পর্যায়েও এই দ্বৈরথ সবসময়ই উত্তেজনাপূর্ণ থাকে।
U-17 পর্যায়েও দুই দলের ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ, আবেগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাটি দক্ষিণ আমেরিকার বয়সভিত্তিক ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসরগুলোর একটি। এখান থেকে শীর্ষ সাতটি দল সরাসরি ২০২৬ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে জায়গা পাবে।
এ কারণে প্রতিটি ম্যাচই দলগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিল এই ম্যাচে যেমন নিজেদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, তেমনি আর্জেন্টিনার সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো সহজ পথ নেই।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচ শুধু একটি হার নয়, বরং আর্জেন্টিনা U-17 দলের জন্য বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ের নতুন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন