বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হচ্ছে। দেশটির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। নতুন এই কোটা ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। বুধবার সৌদি দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগে যেসব শিক্ষার্থী সীমিত আসনের কারণে সুযোগ পেতেন না, এবার তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে কোটা সীমিত থাকার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী আবেদন করেও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। নতুন করে কোটা বাড়ানোর ফলে এখন আরও বেশি শিক্ষার্থী স্কলারশিপের আওতায় আসতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৃত্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সৌদি সরকারের অফিসিয়াল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “Study in Saudi”-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সেখানে প্রবেশ করে ভাষা নির্বাচন করার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোড করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত আবেদনকারীর একাডেমিক সনদ, পাসপোর্ট, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। সৌদি দূতাবাস এ সংক্রান্ত সব তথ্য দ্রুত শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা সহজেই এই সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং আবেদন করতে পারবেন। প্রতি বছর সৌদি সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বৃত্তি দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির আওতায় সাধারণত টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, আবাসন সুবিধা এবং কখনো কখনো চিকিৎসা সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়। পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় সম্পর্ক বহুদিনের। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষা, আরবি ভাষা এবং গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়েও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন কোটা বৃদ্ধি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়নেই সহায়তা করবে না, বরং ভবিষ্যতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে আসা শিক্ষার্থীরা দেশে গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। সব মিলিয়ে, সৌদি আরবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির কোটা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষার নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সময়মতো আবেদন করলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের একটি বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হচ্ছে। দেশটির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। নতুন এই কোটা ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। বুধবার সৌদি দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগে যেসব শিক্ষার্থী সীমিত আসনের কারণে সুযোগ পেতেন না, এবার তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে কোটা সীমিত থাকার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষার্থী আবেদন করেও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। নতুন করে কোটা বাড়ানোর ফলে এখন আরও বেশি শিক্ষার্থী স্কলারশিপের আওতায় আসতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৃত্তির জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সৌদি সরকারের অফিসিয়াল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “Study in Saudi”-এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সেখানে প্রবেশ করে ভাষা নির্বাচন করার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোড করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত আবেদনকারীর একাডেমিক সনদ, পাসপোর্ট, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। সৌদি দূতাবাস এ সংক্রান্ত সব তথ্য দ্রুত শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা সহজেই এই সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং আবেদন করতে পারবেন। প্রতি বছর সৌদি সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বৃত্তি দিয়ে থাকে। এসব বৃত্তির আওতায় সাধারণত টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, আবাসন সুবিধা এবং কখনো কখনো চিকিৎসা সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা থাকে, তা অনেকটাই কমে যায়। পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ধর্মীয় সম্পর্ক বহুদিনের। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষা, আরবি ভাষা এবং গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়েও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন কোটা বৃদ্ধি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়নেই সহায়তা করবে না, বরং ভবিষ্যতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে আসা শিক্ষার্থীরা দেশে গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। সব মিলিয়ে, সৌদি আরবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির কোটা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত উচ্চশিক্ষার নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সময়মতো আবেদন করলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের একটি বড় সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন