দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি, বাড়ছে বার্ষিক ঋণ সহায়তা

বাংলাদেশকে আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি, বাড়ছে বার্ষিক ঋণ সহায়তা

এনআরবিসি ব্যাংকের এমটিওদের ৩ সপ্তাহের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষ, সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

দেশের অদেখা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা ও চিত্র প্রদর্শনী

পিআরআই সতর্কতা: প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয় বাড়ালে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে

বাংলাদেশের চা শিল্পে সংকট ও সম্ভাবনা: সমন্বিত উদ্যোগে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ টন রক সল্ট আটকে দেওয়া হলো

ইউরোপের বাজারে আবারও সাতক্ষীরার হিমসাগর আম, চাষি-রপ্তানিকারকদের চোখে নতুন সম্ভাবনা

তিন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহে এগোচ্ছে মহেশখালীর এসপিএম প্রকল্প, চালু হতে পারে বছরের শেষে

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বাড়ল, স্বস্তির ইঙ্গিত অর্থনীতিতে

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বাড়ল, স্বস্তির ইঙ্গিত অর্থনীতিতে
-ফাইল ফটো

 বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

Bangladesh Bank জানিয়েছে, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ তথ্য বুধবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র Arif Hossain Khan

অন্যদিকে, International Monetary Fund–এর নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে দেশের নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিকভাবে এই পদ্ধতিটিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা হয়, কারণ এতে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে মাত্র দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই রিজার্ভে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক একটি প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ বাড়ার পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ কাজ করে। যেমন—রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া, এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ে কিছুটা উন্নতি এবং আমদানি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ থাকায় রিজার্ভে এই বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার চাপের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়, যেমন—আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং রেমিট্যান্স উৎসাহিত করা।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত গ্রস রিজার্ভ এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতির রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কারণ গ্রস রিজার্ভে সব ধরনের বৈদেশিক সম্পদ ধরা হয়, কিন্তু বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য অংশটুকু হিসাব করা হয়। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এই হিসাবটিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিজার্ভের এই ধীরে ধীরে বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে, তা ধরে রাখা গেলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ৩১ মে ২০২৬


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বাড়ল, স্বস্তির ইঙ্গিত অর্থনীতিতে

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

 বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলারে। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

Bangladesh Bank জানিয়েছে, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস বা মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ তথ্য বুধবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র Arif Hossain Khan

অন্যদিকে, International Monetary Fund–এর নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করলে দেশের নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিকভাবে এই পদ্ধতিটিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা হয়, কারণ এতে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে মাত্র দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৬৬০ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই রিজার্ভে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক একটি প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ বাড়ার পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ কাজ করে। যেমন—রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া, এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ে কিছুটা উন্নতি এবং আমদানি ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ থাকায় রিজার্ভে এই বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার চাপের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়, যেমন—আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা এবং রেমিট্যান্স উৎসাহিত করা।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত গ্রস রিজার্ভ এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতির রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কারণ গ্রস রিজার্ভে সব ধরনের বৈদেশিক সম্পদ ধরা হয়, কিন্তু বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য অংশটুকু হিসাব করা হয়। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা ও বিনিয়োগকারীরা সাধারণত এই হিসাবটিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিজার্ভের এই ধীরে ধীরে বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। এতে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে, তা ধরে রাখা গেলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর