দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ক্রিকেট, সংস্কৃতি আর ঈদ পুনর্মিলনীতে মুখর মণিরামপুর

ক্রিকেট, সংস্কৃতি আর ঈদ পুনর্মিলনীতে মুখর মণিরামপুর

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে কেন তারকা পেসারদের ছাড়াই আসছে? কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের ব্যাখ্যা

বিসিবি নির্বাচন ২০২৬: বিএনপি নেতা-স্বজন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিতর্ক

বাংলাদেশকে নিয়ে নারী ইমার্জিং নেশনস ট্রফির পরিকল্পনা আইসিসির, বাড়ছে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

বিরাট কোহলি-ট্রাভিস হেড দ্বন্দ্বে উত্তাল আইপিএল, ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকও করলেন না কোহলি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সংবর্ধনা | ICC Women’s T20 World Cup 2026

সিলেট টেস্টে শেষ দিনে বাংলাদেশের জয়ের দ্বারপ্রান্তে, পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান

চার বিশ্বকাপের বিরল কীর্তিতে নেইমার, পেলে-রোনালদোদের অভিজাত তালিকায় নতুন নাম

জবিতে ছাত্রদলের বর্ষবরণ: হাড়িভাঙা খেলায় জমে উঠল বৈশাখী উৎসব

জবিতে ছাত্রদলের বর্ষবরণ: হাড়িভাঙা খেলায় জমে উঠল বৈশাখী উৎসব
-ফাইল ফটো

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের রঙিন আবহ। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করেছে শাখা ছাত্রদল, আর সেই আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হয়ে ওঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘হাড়িভাঙা’ খেলা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ যেন বদলে যায় উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে। এরপর আনন্দ শোভাযাত্রা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সংগীতানুষ্ঠান—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে একেবারে বৈশাখী আমেজে ভরা।

তবে এসব আয়োজনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে হাড়িভাঙা প্রতিযোগিতা। চোখে কাপড় বেঁধে লাঠি হাতে লক্ষ্যভেদ করতে নামেন শিক্ষার্থীরা। কেউ সফল হন, কেউ ব্যর্থ—কিন্তু প্রতিটি চেষ্টাই দর্শকদের মাঝে তৈরি করে উত্তেজনা আর আনন্দ। হাড়ি ভাঙার মুহূর্তে চারপাশে তালি আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি ছিল নতুন অভিজ্ঞতা, আবার কেউ কেউ ছোটবেলার স্মৃতি খুঁজে পান এই খেলায়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই ধরনের লোকজ খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা চাই তরুণরা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুক এবং তা উপভোগ করুক।”

তিনি আরও জানান, রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার এবং শাহরিয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব, যা ১৫৫৬ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলা সনের প্রচলনের মাধ্যমে শুরু হয়। কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য এই সন চালু হলেও সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। গ্রামবাংলায় হাড়িভাঙা, বালিশ খেলা, লাঠিখেলা—এসব ছিল একসময় বৈশাখী উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে নানা আয়োজন করে থাকে, যা ক্যাম্পাসের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করে।

হাড়িভাঙা খেলার পাশাপাশি আয়োজনে আরও ছিল বালিশ খেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতা। জানানো হয়েছে, এসব প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে পরদিন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এ বছরের বৈশাখ উদযাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল আনন্দ, ঐতিহ্য আর অংশগ্রহণের এক সুন্দর মিশেল। লোকজ সংস্কৃতিকে সামনে এনে নতুন প্রজন্মকে এর সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এমন আয়োজন শুধু উৎসবকে প্রাণবন্ত করে না, বরং আমাদের শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


জবিতে ছাত্রদলের বর্ষবরণ: হাড়িভাঙা খেলায় জমে উঠল বৈশাখী উৎসব

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের রঙিন আবহ। বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করেছে শাখা ছাত্রদল, আর সেই আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হয়ে ওঠে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘হাড়িভাঙা’ খেলা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ যেন বদলে যায় উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। দিনব্যাপী কর্মসূচির শুরু হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে। এরপর আনন্দ শোভাযাত্রা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সংগীতানুষ্ঠান—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে একেবারে বৈশাখী আমেজে ভরা।

তবে এসব আয়োজনের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে হাড়িভাঙা প্রতিযোগিতা। চোখে কাপড় বেঁধে লাঠি হাতে লক্ষ্যভেদ করতে নামেন শিক্ষার্থীরা। কেউ সফল হন, কেউ ব্যর্থ—কিন্তু প্রতিটি চেষ্টাই দর্শকদের মাঝে তৈরি করে উত্তেজনা আর আনন্দ। হাড়ি ভাঙার মুহূর্তে চারপাশে তালি আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি ছিল নতুন অভিজ্ঞতা, আবার কেউ কেউ ছোটবেলার স্মৃতি খুঁজে পান এই খেলায়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই ধরনের লোকজ খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা চাই তরুণরা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুক এবং তা উপভোগ করুক।”

তিনি আরও জানান, রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার এবং শাহরিয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব, যা ১৫৫৬ সালে মুঘল সম্রাট আকবরের সময় থেকে বাংলা সনের প্রচলনের মাধ্যমে শুরু হয়। কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য এই সন চালু হলেও সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। গ্রামবাংলায় হাড়িভাঙা, বালিশ খেলা, লাঠিখেলা—এসব ছিল একসময় বৈশাখী উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে নানা আয়োজন করে থাকে, যা ক্যাম্পাসের প্রাণচাঞ্চল্য বাড়িয়ে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি করে।

হাড়িভাঙা খেলার পাশাপাশি আয়োজনে আরও ছিল বালিশ খেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতা। জানানো হয়েছে, এসব প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে পরদিন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, এ বছরের বৈশাখ উদযাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল আনন্দ, ঐতিহ্য আর অংশগ্রহণের এক সুন্দর মিশেল। লোকজ সংস্কৃতিকে সামনে এনে নতুন প্রজন্মকে এর সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এমন আয়োজন শুধু উৎসবকে প্রাণবন্ত করে না, বরং আমাদের শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর