বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাতে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে আনন্দে ভাসছেন সুনামগঞ্জ শহরতলির হাছন বাহারের ঝুমা আক্তার। আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি একটি সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতক ও মা—দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।
নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে পরিবারের সবাই আনন্দিত। বিশেষ করে মা ঝুমা আক্তার তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতোমধ্যেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন,
“আমি আমার মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে একজন শিক্ষিকা বানাতে চাই।”
শিশুটির বাবা মোমিন মিয়া, যিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি, তিনিও স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন,
“বাচ্চার মায়ের ইচ্ছা ওকে মাস্টার বানাবে। আমিও চেষ্টা করবো সেই স্বপ্ন পূরণ করতে।”
চার বছর আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শাখাইতি এলাকার হাবিবুর রহমান ও ঝর্ণা বেগমের মেয়ে ঝুমা আক্তারের সঙ্গে মোমিন মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের একটি চার বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম নুশাইবা আক্তার। দ্বিতীয় সন্তানটি বাংলা নববর্ষের দিনে জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আনন্দ যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে।
নবজাতকের ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজি। জন্মের পর থেকেই শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং মায়ের দুধ ঠিকমতো পাচ্ছে। ঝুমা জানান, গর্ভাবস্থায় তার স্বামী ও শাশুড়ি তার বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। নিয়মিত দুধ, ডিম ও ফলমূল খাওয়ানো হয়েছে, এমনকি নিজেরা কম খেয়ে তাকে বেশি খেতে দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিশ্চিত করেছেন—ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে আলট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত সবকিছুই করা হয়েছে।
প্রসবের আগের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ঝুমা বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। প্রথমে সহ্য করার চেষ্টা করলেও গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে গেলে ভোরে অটোরিকশায় করে প্রায় ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে কর্তব্যরত নার্সদের সহায়তায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব সম্পন্ন হয়।
নবজাতকের নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিশুটির দাদী শাহেদা বেগম নাম রাখবেন। তিনি বলেন,
“এখন ফসল কাটার সময়, বাড়ির উঠোনে ধানের স্তূপ। এমন সময়ে নাতনি এসেছে—ভেবে-চিন্তে সুন্দর একটা নাম রাখবো।”
ঝুমার বাবা হাবিবুর রহমানও নাতনির জন্মে ভীষণ খুশি। তিনি বলেন,
“আমার ধানও ভালো হয়েছে, আর নাতনিও এসেছে—আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।”
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগম জানান,
“রোগী ভোরে প্রসব বেদনা নিয়ে আসেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে। শিশুর ওজন ও কান্না—সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, শিশুকে অন্তত ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি মাকে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং দুধ খাওয়ানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। এছাড়া দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের মানসিক অবস্থা ভালো রাখা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে নতুন জীবনের আগমন—এ যেন শুধু একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং নতুন আশার প্রতীক। আর সেই আশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক মায়ের স্বপ্ন—তার মেয়েকে একজন শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়।

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রভাতে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে আনন্দে ভাসছেন সুনামগঞ্জ শহরতলির হাছন বাহারের ঝুমা আক্তার। আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪১ মিনিটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি একটি সুস্থ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতক ও মা—দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।
নবজাতকের জন্ম উপলক্ষে পরিবারের সবাই আনন্দিত। বিশেষ করে মা ঝুমা আক্তার তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতোমধ্যেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন,
“আমি আমার মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে একজন শিক্ষিকা বানাতে চাই।”
শিশুটির বাবা মোমিন মিয়া, যিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি, তিনিও স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন,
“বাচ্চার মায়ের ইচ্ছা ওকে মাস্টার বানাবে। আমিও চেষ্টা করবো সেই স্বপ্ন পূরণ করতে।”
চার বছর আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার শাখাইতি এলাকার হাবিবুর রহমান ও ঝর্ণা বেগমের মেয়ে ঝুমা আক্তারের সঙ্গে মোমিন মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের একটি চার বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে, যার নাম নুশাইবা আক্তার। দ্বিতীয় সন্তানটি বাংলা নববর্ষের দিনে জন্ম নেওয়ায় পরিবারে আনন্দ যেন আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে।
নবজাতকের ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজি। জন্মের পর থেকেই শিশুটি সুস্থ রয়েছে এবং মায়ের দুধ ঠিকমতো পাচ্ছে। ঝুমা জানান, গর্ভাবস্থায় তার স্বামী ও শাশুড়ি তার বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। নিয়মিত দুধ, ডিম ও ফলমূল খাওয়ানো হয়েছে, এমনকি নিজেরা কম খেয়ে তাকে বেশি খেতে দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিশ্চিত করেছেন—ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে আলট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত সবকিছুই করা হয়েছে।
প্রসবের আগের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ঝুমা বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় তার প্রসব বেদনা শুরু হয়। প্রথমে সহ্য করার চেষ্টা করলেও গভীর রাতে ব্যথা বেড়ে গেলে ভোরে অটোরিকশায় করে প্রায় ৪০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে কর্তব্যরত নার্সদের সহায়তায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব সম্পন্ন হয়।
নবজাতকের নাম এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিশুটির দাদী শাহেদা বেগম নাম রাখবেন। তিনি বলেন,
“এখন ফসল কাটার সময়, বাড়ির উঠোনে ধানের স্তূপ। এমন সময়ে নাতনি এসেছে—ভেবে-চিন্তে সুন্দর একটা নাম রাখবো।”
ঝুমার বাবা হাবিবুর রহমানও নাতনির জন্মে ভীষণ খুশি। তিনি বলেন,
“আমার ধানও ভালো হয়েছে, আর নাতনিও এসেছে—আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।”
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আমেনা বেগম জানান,
“রোগী ভোরে প্রসব বেদনা নিয়ে আসেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে। শিশুর ওজন ও কান্না—সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, শিশুকে অন্তত ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি মাকে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং দুধ খাওয়ানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেন। এছাড়া দুধ খাওয়ানোর সময় মায়ের মানসিক অবস্থা ভালো রাখা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে নতুন জীবনের আগমন—এ যেন শুধু একটি পরিবারের আনন্দ নয়, বরং নতুন আশার প্রতীক। আর সেই আশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক মায়ের স্বপ্ন—তার মেয়েকে একজন শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়।

আপনার মতামত লিখুন