ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় খ্রিস্টান পরিবারগুলোর ওপর হামলা, হুমকি এবং জোরপূর্বক ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। পাঁশকুড়ার একটি পরিবারের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে ঢুকে মারধর করেন এবং খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেন। অন্যদিকে, চন্দ্রকোনায় এক নারীকে যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ঘটনাগুলো নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্ত সংগঠনের এক নেতা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রকোনার ঘটনার তদন্ত চলছে।
পার্বতীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন, তাঁর স্বামীকে গালাগাল করেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পার্বতীর আরও দাবি, এর আগেও একই ব্যক্তিরা তাঁদের খ্রিস্টধর্ম পালন নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এবার তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বাড়ির উঠানে তুলসিমঞ্চ ও মনসা মন্দির তৈরির কথা বলা হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, তাঁদের কাজ না দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রভাবিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
পার্বতীর দাবি, হামলার সময় তাঁদের প্রার্থনার স্থান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। ভবিষ্যতে আরও লোকজন নিয়ে ফিরে আসার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিরাপত্তার আশঙ্কায় পার্বতী ও তাঁর পরিবার বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে এক নারী দাবি করেছেন, ১৮ অক্টোবর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের খ্রিস্টধর্মের প্রতি বিশ্বাস ত্যাগ করতে চাপ দেন। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওই নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আহত হয়ে জ্ঞান হারানোর পর তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর সম্মতি ছাড়া তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তাঁকে স্নান করানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে যৌন হয়রানি ও মর্যাদাহানির অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ওই নারী, তাঁর স্বামীসহ মোট চারজনকে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি পূজামণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগকারী নারী জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কারণে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে, চন্দ্রকোনার ঘটনায় ২০ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যার চেষ্টা, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, আঘাত করা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং নারীর শ্লীলতাহানিসহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব। এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
তবে তিনি জানিয়েছেন, সংগঠনটি গ্রামাঞ্চলে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচি চালায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনটির লক্ষ্য হলো অন্য ধর্মে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনা।
বজরং দল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একটি যুব সংগঠন। চন্দ্রকোনার ঘটনায় বজরং দলের সদস্য বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, নতুন সরকার অন্যায় ও অত্যাচারের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি অভিযোগকারীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের শাস্তির দাবিতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট করা এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় খ্রিস্টান পরিবারগুলোর ওপর হামলা, হুমকি এবং জোরপূর্বক ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। পাঁশকুড়ার একটি পরিবারের অভিযোগ, একদল ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে ঢুকে মারধর করেন এবং খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেন। অন্যদিকে, চন্দ্রকোনায় এক নারীকে যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ঘটনাগুলো নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে অভিযুক্ত সংগঠনের এক নেতা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রকোনার ঘটনার তদন্ত চলছে।
পার্বতীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন, তাঁর স্বামীকে গালাগাল করেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পার্বতীর আরও দাবি, এর আগেও একই ব্যক্তিরা তাঁদের খ্রিস্টধর্ম পালন নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, এবার তাঁদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বাড়ির উঠানে তুলসিমঞ্চ ও মনসা মন্দির তৈরির কথা বলা হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, তাঁদের কাজ না দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রভাবিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানির সংযোগ এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
পার্বতীর দাবি, হামলার সময় তাঁদের প্রার্থনার স্থান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। ভবিষ্যতে আরও লোকজন নিয়ে ফিরে আসার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিরাপত্তার আশঙ্কায় পার্বতী ও তাঁর পরিবার বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে এক নারী দাবি করেছেন, ১৮ অক্টোবর কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের খ্রিস্টধর্মের প্রতি বিশ্বাস ত্যাগ করতে চাপ দেন। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওই নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আহত হয়ে জ্ঞান হারানোর পর তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর সম্মতি ছাড়া তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তাঁকে স্নান করানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে যৌন হয়রানি ও মর্যাদাহানির অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০ অক্টোবর ওই নারী, তাঁর স্বামীসহ মোট চারজনকে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি পূজামণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ধর্মীয় আচার পালনে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগকারী নারী জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর কারণে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
অন্যদিকে, চন্দ্রকোনার ঘটনায় ২০ অক্টোবর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যার চেষ্টা, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, আঘাত করা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং নারীর শ্লীলতাহানিসহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তে যুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব। এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের অবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
তবে তিনি জানিয়েছেন, সংগঠনটি গ্রামাঞ্চলে ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচি চালায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনটির লক্ষ্য হলো অন্য ধর্মে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনা।
বজরং দল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত একটি যুব সংগঠন। চন্দ্রকোনার ঘটনায় বজরং দলের সদস্য বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, নতুন সরকার অন্যায় ও অত্যাচারের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি অভিযোগকারীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপালও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের শাস্তির দাবিতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তদন্তের অগ্রগতি স্পষ্ট করা এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন